আমাদের অনেকেই রাসূল(সা:) এর নাম উচ্চারনের সময় উনার উপর আল্লাহ্ র শান্তি বর্ষিত হোক এই দোয়াটিও বলার প্রয়োজন মনে করি না। অনেকের মাঝে এই ধারনাটি বেশ প্রবল যে আমাদের কুরআন মানলেই চলবে হাদীস অত গুরুত্বপূর্ন নয়। অনেকে আবার হাদিসের শুদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন করেন!!! আমি নিজেও বিভিন্ন সময় হাদীসের গুরুত্ব সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারি নাই। তাই আমার নিজের জন্য এবং যারা হাদিসের গুরুত্ব নিয়ে সন্দিহান তাদের সকলের জন্য কুরআনের সেই সকল আয়াতসমুহ তুলে ধরছি যা দ্বারা আর কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে স্বয়ং আল্লাহ্ তায়ালা নিজেই পবিত্র কুরআন এ নির্দেশ দিচ্ছেন যে কুরআন এবং হাদিস মেনে চলেই আমাদের জীবনকে পরিচালিত করতে হবে।
হাদীস অমান্য করলে যে পবিত্র কুরআনকেই অমান্য করা হয়।
রাসূল (সা:)কে ১) বিশ্বাস করা ২) সম্মান করা ৩) তাঁকে ভালবাসা ৪) শ্রদ্ধা করা ৫) তাঁকে মেনে চলা ইত্যাদি বিষয়ে পবিত্র কুরআনের আয়াত সমুহ নিম্নে উল্লেখিত হোল।
আল্লাহ্ তায়ালা এবং তাঁর প্রিয় রাসূলের আনুগত্যের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে যেভাবে বলা আছে...
৩ নং সূরা, সূরা আল ইমরান , আয়াত ৩১: আপনি বলে দিন: যদি আল্লাহ্ কে ভালবাস তবে আমার অনুসরন কর, তাহলে আল্লাহ্ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপ মাজর্না করে দেবেন। আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৩ নং সূরা, সূরা আল ইমরান , আয়াত ৩২: আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগত্য কর। যদি অবাধ্য হও তবে জেনে রেখ আল্লাহ্ কাফেরদের ভালবাসেন না।
৩ নং সূরা, সূরা আল ইমরান , আয়াত ১৩২: আনুগত্য কর আল্লাহ্ ও রাসূলের যেন অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা , আয়াত ১৩: এটা আল্লাহ্ র বিধান, আর যে আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার নিচ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। এটাই বড় সাফল্য!
৪ নং সূরা, সূরা নিসা , আয়াত ৫৯: হে মুমিনেরা তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল এবং তোমাদের মাঝে যে মীমাংসাকারী তার।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা , আয়াত ৬৯: আর যারা আনুগত্য করে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের তারা আল্লাহ্ র নিয়ামতপ্রাপ্ত হবে। যেমন- নবী, সত্যবাদী শহীদ ও নেককারদের সাথে অবস্থান করবে।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা , আয়াত ৮০: রাসূলের আনুগত্য করলে আল্লাহ্ র আনুগত্য হয়।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা, আয়াত ১৫০: নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্ ও রাসূলদেরকে অবিশ্বাস করে আর আল্লাহ্ ও রাসূলদের মধ্যে পাথর্ক্য করতে চায় এবং বলে কতককে বিশ্বাস করি আর কতককে করি অবিশ্বাস;আর তারা এর মাঝামাঝি এক পথ উদ্ভাবন করতে চায়।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা, আয়াত ১৫১: এরাই প্রকৃতপক্ষে কাফের। আর আমি কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা, আয়াত ১৫২: যারা ঈমান আনে আল্লাহ্ র প্রতি এবং তাঁর রাসূলদের প্রতি আর পাথর্ক্য করে না তাদের কারো মধ্যে, অচিরেই তিনি তাদের পুরুষ্কার দিবেন। আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৫ নং সূরা, সূরা মায়িদা, আয়াত ১৫: হে কিতাবের অনুসারীরা! তোমাদের কাছে আমার রাসূল এসেছেন, তিনি তোমাদের কাছে প্রকাশ করেন কিতাবের এমন অনেক কিছু যা তোমরা গোপন করতে এবং অনেক বিষয় উপেক্ষা করেন। তোমদের কাছে এসেছে আল্লাহ্ র তরফ থেকে এক জ্যোতি ও একটি সমুজ্জ্বল কিতাব।
৯ নং সূরা, সূরা তওবাহ্ , আয়াত ৭১: মুমিন নর নারী ১) একে অপরের বন্ধু। ২) তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় ৩) অসৎ কাজে নিষেধ করে ৪) আর নামায প্রতিষ্ঠা করে। ৪) যাকাত প্রদান করে ৫) আল্লাহ্ আর রাসূলের আনুগত্য করে । এদের প্রতিই আল্লাহ্ র রহমত অবশ্যই বষির্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ প্রতাপশালী।
যে কোন কিছু থেকে অনেক বেশী আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসার কথা পবিত্র কুরআনের
৯ নং সূরা, সূরা তওবাহ্, আয়াত ২৪ এ যেভাবে বলা আছে...
আয়াত ২৪: আপনি বলুন তোমাদের নিকট যদি ১) তোমাদের পিতা,২) তোমাদের সন্তান ৩) তোমাদের ভ্রাতা ৪) তোমাদের স্বগোষ্ঠী ৫) তোমাদের অজির্ত সম্পদ ৬) তোমাদের ব্যবসা যার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা কর ৭) তোমাদের প্রিয় বাসস্থান যদি আল্লাহ্, রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে বেশী প্রিয় হয় তবে আল্লাহ্ র বিধান আসা পযর্ন্ত অপেক্ষা কর।
২১ নং সূরা, সূরা আম্বিয়া , আয়াত ১০৭: আমিতো আপনাকে ঈমানদারদের জন্য রহমতস্বরুপ প্রেরন করেছি।
২৪ নং সূরা, সূরা নূর , আয়াত ৫২: আর যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে আল্লাহ্ কে ভয় করে এবং তাঁর বিরোধিতা হতে বিরত থাকে তারাই সফল।
২৪ নং সূরা, সূরা নূর , আয়াত ৫৪: আপনি বলুন, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের। মূখ ফিরালে তার ওপর তার দায়িত্ব, তোমাদের উপর তোমাদের দায়িত্ব। আনুগত্য করলে সুপথ পাবে। রাসূলের কাজ সুস্পস্ট বাণী পৌছানো।
২৪ নং সূরা, সূরা নূর , আয়াত ৫৬:আর তেআমরা নামাজ কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।
৩৩ নং সূরা, সূরা আহযাব , আয়াত ২১:তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও শেষ বিচারের দিনকে ভয় করে এবং যারা আল্লাহ্ কে অধিক পরিমানে স্মরন করে তাদের জন্য অবশ্যই উত্তম আদর্শ রয়েছে রাসূলুল্লাহ্ র মধ্যে।
৩৩ নং সূরা, সূরা আহযাব , আয়াত ৫৭: যারা আল্লাহ্ কে ও তাঁর রাসূলকে কস্ট দেয়, আল্লাহ্ অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়া আর আখিরাতে লা’নত করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।
৩৩ নং সূরা, সূরা আহযাব , আয়াত ৭১: তবে আল্লাহ্ তোমাদের কর্মসমুহকে সংশোধন করবেন, তোমাদের পাপ মোচন করবেন,যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে বড় সফলকাম।
৩৩ নং সূরা, সূরা আহযাব, আয়াত ৩৬: কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর এ অধিকার থাকে না যে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল কোন সিদ্ধান্ত প্রদান করলে সে প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করে। কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করলে সে তো প্রকাশ্য পথভ্রস্টতায় পতিত হয়।
৪৭ নং সূরা, সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ২: আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে এবং মুহাম্মদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তাতেও ঈমান এনেছে, আর তা-ই তাদের রবের তরফ থেকে প্রেরিত সত্য, আল্লাহ্ তাদের গুনাহ্ মাজর্না করবেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করবেন।
৪৮ নং সূরা, সূরা ফাতহ্, আয়াত ৮-১০ এ রাসূল (সা:) সম্বন্ধে যা বলা হয়েছে।
আয়াত ৮: আপনাকে (রাসূলকে) ১) সাক্ষী ২) সুসংবাদদাতা ৩) সতকর্কারীরুপে পাঠালাম।
আয়াত ৯: যেন আল্লাহ্ ও রাসূলে ঈমান আন, তাঁকে সাহায্য ও সম্মান কর। সকাল সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ পাঠ করো।
আয়াত ১০: নিশ্চয়ই যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহ্ র কাছেই আনুগত্যের শপথ গ্রহন করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর। যদি ভঙ্গ করে পরিনাম তাদেরই। যে আল্লাহ্ র সাথে প্রতিশ্রুত পূর্ন করে, তিনি তাকে পুরষ্কার দেন।
আল্লাহ্ র রাসূলকে সম্মান প্রদশর্ন করার ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের
৪৯ নং সূরা, সূরা হুজুরাত, আয়াত ১-৩ এ যেভাবে বলা আছে...
৪৯ নং সূরা, সূরা হুজুরাত, আয়াত ১: হে লোকেরা তোমরা যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রনী হয়ো না। আল্লাহ্ কে ভয় করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সবকিছু শুনেন, সব বিষয়ে সম্যক অবগত।
৪৯ নং সূরা, সূরা হুজুরাত, আয়াত ২: হে ঈমানদারেরা! তোমরা তোমাদের কন্ঠস্বরকে নবীর কন্ঠস্বরের ওপর উচু করো না। তোমরা একে অপরের ন্যায় উচ্চস্বরে কথা বলো না, এতে তোমাদের কর্ম তোমাদের অজান্তেই নিস্ফল হয়ে যাবে।
৪৯ নং সূরা, সূরা হুজুরাত, আয়াত ৩:নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্ র রাসূলের সামনে নিজেদের কন্ঠস্বর নিচু করে, আল্লাহ্ তাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্য বিশুদ্ধ করে দিয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে বিরাট ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।
৪৯ নং সূরা, সূরা হুজুরাত , আয়াত ১৫: প্রকৃত মুমিন তো তারাই, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ্ আর তাঁর রাসূলের প্রতি, পরে কখনও সন্দেহ করেনি এবং আল্লাহ্ র পথে নিজেদের ধন সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করেছে; তারাই সত্যবাদী লোক।
৫৭নং সূরা, সূরা হাদীদ, আয়াত ২৮: হে ঈমানদারেরা! তোমরা আল্লাহ্ কে ভয় করো এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন, তিনি স্বীয় দয়ায় দ্বিগুন পুরুষ্কার প্রদান করবেন এবং তোমাদের দান করবেন এমন নূর যা নিয়ে তোমরা চলাফেরা করবে আর তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু।
৫৯ নং সূরা, সূরা হাশর, আয়াত ৭: জনপদবাসীদের কাছ থেকে আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে যা দিয়েছেন তা আল্লাহ্ র, তাঁর রাসূলের, রাসূলের নিকট-আত্মীয়দের, ইয়াতীমদের, মীসকিনদের এবং মুসাফিরদের, যাতে ধন সম্পদ তোমাদের মাঝে যারা বিত্তশালী কেবল তাদের মধ্যে পুঞ্জীভুত না হয়। আর রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহন কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক; আর ভয় কর আল্লাহ্ কে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ কঠোর শাস্তিদাতা।
৬১ নং সূরা, সূরা ছোয়াফ,
আয়াত ১১: তোমরা ঈমান আনবে আল্লাহ্ র উপর ও তাঁর রাসূলের উপর এবং আল্লাহ্ র পথে তোমাদের জান এবং তোমাদের মাল দিয়ে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ।
আয়াত ১২: তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন।
৬৪ নং সূরা, সূরা তাগাবুন, আয়াত ১২: আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা মূখ ফিরিয়ে নাও তবে রাসূলের দায়িত্বতো শুধু কেবল স্পস্টভাবে প্রচার করা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন