রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৩


**আমরা কি এতই স্বার্থপর !!!**


রাতের বেলায় সংগঠনের কয়েকজন ভাইকে নিয়ে এক জায়গায় দাওয়াত খেতে গেলাম । কথা হচ্ছিল দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি-ইসলামী আন্দোলনের অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে । চরম আড্ডা চলছিল ; আড্ডার এক পর্যায়ে খাবার এসে হাযির হল । চাইনিজ,ফ্রাই,কারি,সালাদ কি নেই আইটেমের তালিকায় । সবই আমার অনেক পছন্দের খাবার । জিভে লোল এসে গিয়েছিল , মুখে দিতে যাব – এমন সময়ে এমন একজনের কথা মনে হল যার চিন্তাটা মাথায় আসার সাথে সাথে সব কিছু যেন স্স্থবির হয়ে গেল । হাত দুটি একটুও নড়াতে পারছিলাম না । গলা প্রবলভাবে ধরে আসছিল। পর মুহূর্তে বুঝতে পারলাম , পেট থেকে কর্পূরের মতই খিদে নামক জিনিসটি উধাও হয়ে গেছে । শেষ পর্যন্ত আর খেতে পারি নি । নিজেকে ধিক্কার দিতে দিতে চলে এসেছিলাম সেখান থেকে ।

আমার তখন কার কথা মনে পড়েছিল জানেন ?? মাহমুদুর রহমান নামক একজন মুজাহিদের কথা , যাকে আমরা সবাই বাংলার আরেকজন বাঘ আখ্যা দিয়েছি । এই ঘটনার পর কেউ কেউ হয়তো আমাকে অতি আবেগি বলবেন । কিন্তু সত্যি কথা কি জানেন , এই দেশ থেকে যখন ইসলামকে সমূলে উতপাটনের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চলছিল , ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের যখন নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে মারা হচ্ছিল – আর আমরা যখন খাদের কিনার থেকে অসহায়ের মত চেয়ে চেয়ে আমাদের এই ধ্বংস দেখছিলাম , তখন নির্ভীক এই মুজাহিদই ভয়ংকর স্রোতের বিরুদ্ধে একলা দাড়িয়ে গিয়েছিলেন । কলমকে ড্রাম মেশিনগান বানিয়ে বুক সামনে পেতে দিয়ে একহাত দিয়ে শত্রুপক্ষের দিকে একের পর এক গুলির বন্যা ছুটিয়েছিলেন আর আরেক হাত দিয়ে খাদের কিনার থেকে তুলে এনেছিলেন আমাদের । কিন্তু তিনি নিজে হয়ে গেলেন অরক্ষিত । শত্রুপক্ষের এক ঝাঁক শকুন এসে ঘিরে ফেলল তাকে ।

কি অবস্থা এখন সেই মুজাহিদের ? তিনি এখন হাসপাতালের কামরায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন । কিছুই খাচ্ছেন না এখন । একটি মুহূর্ত পাড় করতেও সংগ্রাম করতে হচ্ছে তার ।

আর নিজের জীবন বিপন্ন করে যাদের বাচালেন তারা ? কই তাদের তো হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে হচ্ছে না ! তাদের তো সময়টা দিব্যি কেটে যাচ্ছে ! খাবারের কোন সমস্যা তো তাদের হচ্ছে না , আমার মত স্বার্থপররা তো এখনও চাইনিজ-ফ্রাই খেয়েই চলছেন আর নিজেদের ইসলামী আন্দলনের কর্মী দাবী করে আরামসে ঢেঁকুর তুলছেন ।

আল্লাহর কাছে শুধু দোয়া করি ইয়া আল্লাহ , বাংলার এই জমিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসী মানুষের বড় আকাল । তবুও যে কয়েকজন আছে তারা তোমার উপরে ভরসা করে নির্ভয়ে লড়ে যাচ্ছে । জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই যখন তুঙ্গে , তখন তোমার কাছে একটাই দাবী – তোমার এই সাহসী বান্দাগুলোকে এতো আগেই তুলে নিয়ে যেও না আল্লাহ । তাদেরকে আবার আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দাও ইয়া আল্লাহ । কথা দিচ্ছি তাদের পিছনে থেকে হলেও এই জমিনে ইসলামের পতাকা উড্ডয়নের জন্য আমৃত্যু লড়াই করে যাব , ইনশাআল্লাহ ।








মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৩

আল্লাহর সাহায্য তোমাদের জন্যই আসবে । তাই সবর এবং হেকমতের সাথে কাজ করো , ইনশাআল্লাহ বিজয় তোমাদের সুনিশ্চিত ।
হঠাৎ মোবাইলটা বেজে উঠলো ।
হাতে নিয়ে দেখি আমার অনেক পুরনো এক বন্ধুর ফোন ।
সালাম দিয়ে ভালোমন্দ জিজ্ঞাসা করতেই আমাকে উল্টো প্রশ্ন করলো , তোদের কি অবস্থা আগে সেটাই বল ?

আমি বললাম আলহামদুলিল্লাহ ভাল । দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নাস্তিকদের উৎপাত নিয়ে একটু চিন্তায় আছি । আমাদের অনেক ভাই শহীদ হয়েছেন , অনেকেই আহত হয়েছেন এবং আরও অনেকেই এখনো নিখোঁজ আছে তাই মনটা ভাল না ।

কিন্তু তাঁর পাল্টা উত্তর , আমি মনে করি ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে নাস্তিকদের  ইসলাম বিরোধিতা  এবং এতে সরকারের সমর্থনে ইসলামেরই বিশেষ করে ইসলামী দল গুলোরই বেশী লাভ হচ্ছে । আর শহীদদের কথা বলছো ? আল্লাহর রাসুলের রক্ত ঝরেছিল , সাহাবীরা শহীদ হয়েছেন । তোমরা কেন শহীদ হবে না ?তোমাদের রক্ত কেন ঝরবে না ?
 একটা কথা মনে রাখবা তোমাদের শহীদরাই তোমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ । মানে আরও অনেকে শহীদ হলেও আফসোসের কিছু নেই ।কারন এর প্রতিদান যে কত উঁচু তা হয়তো আমাদের সকলেরই ধারণার বাহিরে ।

আমি অবাক হয়ে শুনছিলাম ........................

সে আমাকে বলল , রাসুল (সা) যখন নবুয়ত পেলেন তখন তিনি কি সর্বপ্রথম দাওয়াত শুরু করেছিলেন নাকি প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছিলেন ?

নবুয়তের প্রাপ্তের পরে রাসুল(সা) ভাবছিলেন কি করে এই দাওয়াত মানুষের কাছে পৌছাবেন । কার কাছে , কিভাবে এই দাওয়াত দেবেন  ...

রাসুল(সা) ভাবলেন আর আল্লাহর সাহায্য এসে গেলো

 দেখুন , রাসুল(সা) মসজিদে নববীতে বসে যখন কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন তখন সেটা মুশরিক নেতা আবু জেহেল শুনতে পেলেন , এবং শুনার পর সে ভাবলো , এই কথা গুলো যদি মুহাম্মদ( সা) প্রচার করে তবে কেউ আমাদেরকে মানবে না এবং আমাদের বাপ-দাদাদের ধর্ম ত্যাগ করে মুহাম্মদের অনুসারী হয়ে যাবে । তাই ভাতিজা মুহাম্মদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে ।

আবু জেহেল তার অধীনস্ত সকল গোত্রের কাছে গিয়ে বলতে শুরু করলেন , আমার ভাতিজা মুহাম্মদ পাগল হয়ে গেছে (নাউযুবিল্লাহ) । তোমরা ওর কোন কথা বিশ্বাস করিও না । একে একে সকল কওমকে এই বার্তা শুনিয়ে দিলেন যাতে কেউ মুহাম্মদ(সা) কে বিশ্বাস না করে ।

সবার পছন্দের ব্যাক্তি আল আমিন খ্যাত মুহাম্মদ(সা) কে পাগল হতে শুনে সবাই তাকে দেখতে এবং তাঁর কথা শুনতে ছুটে গেলেন মুহাম্মদ(সা) এর কাছে । মুহাম্মদ (সা) তখনও কুরানের তেলাওয়াত করে যাচ্ছেন । সবাই তেলাওয়াত শুনে অবাক হয়ে বলতে লাগলেন এটা তো কোন মানুষের কথা হতে পারে না ।

তবে এই কথা গুলো কার ?

তখন মুহাম্মদ(সা) তাদের কে দাওয়াত দিতে শুরু করেন এবং সকলে ইসলামের ছায়াতলে ধীরে ধীরে অংশ গ্রহন করতে লাগলো । 


দেখেন আজকের প্রেক্ষাপটে শাহবাগের নাস্তিকরা তোমাদের বিরুদ্ধে এবং ইসলাম ও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা , বেহায়াপনা -উলঙ্গপনা করে , মিথ্যাচার চালিয়ে মূলত দেশের ১৬ কোটি মানুষের দৃষ্টি আপনাদের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন ।
যেটা আবু জেহেলের মিথ্যা প্রোপাগান্ডার মতোই উল্টো কাজ করছে । হেফাজতে ইসলাম আজ বাংলাদেশের মুসলমানদের নিয়ে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে । সাধারন মুসলিমরাও তোমাদের জানতে চাইছে ।

আল্লাহর সাহায্য তোমাদের জন্যই আসবে । তাই সবর এবং হেকমতের সাথে কাজ করো , ইনশাআল্লাহ বিজয় তোমাদের সুনিশ্চিত । 

 

সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৩

দেখুন  দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম একজন বীরাঙ্গনার কথা !


মেয়েটি অনেকক্ষণ ধরে তার পেছনে পেছনে ঘুরছে, সেই অনুষ্ঠান শেষে হলঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকে যখন তার চারদিকে ভক্ত ও তদবিরবাজদের ভিড়। এত ছেলেমেয়ের মাঝখানে সাদামাটা প্রায় ময়লা কাপড়ে উসর-ধূসর চুল মাথায় বিদ্ঘুটে রঙের সালোয়ার-কামিজ পরা মেয়েটির প্রতি তার চোখ পড়ার কথা না, তবু পড়ল। এতে তিনি বিস্মিত হলেন এবং কিছুটা বিরক্তও। অনেকেই তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে। কেননা, তিনি শুধু একজন সেলিব্রিটি নন, ইংরেজিতে যাকে বলে ফেভার। তা অন্যের প্রতি দেখানোর মতো তার যথেষ্ট ক্ষমতাও আছে। সেলিব্রিটির পেছনে, ছেলেমেয়েরা ঘোরে মুগ্ধতার জন্য অথবা কিছু পাওয়ার আশায়। সংসারে সবারই কিছু না কিছু চাওয়ার আছে। জীবন যতই জটিল হচ্ছে, চাওয়ার তালিকা বেড়েই যাচ্ছে। চারদিকে প্রতিযোগিতার দৌড় জীবনকে আরও জটিল করে তুলছে।




মেয়েটি নাছোড়বান্দা, তিনি যতই তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, সে ঘুরে এসে দাঁড়ায় সামনে, প্রথম সারিতে না হলেও দ্বিতীয় কি তৃতীয় সারিতে। দেখতে সে সুশ্রী নয়, তবে তার চোখে-মুখে তীক্ষ একটা ভাব আছে, নতুন ছুরির মতো। তার চোখের নিচে ক্লান্তির কালো দাগ, মুখে একধরনের রুক্ষতা। আগে সেখানে যে কমনীয়তা ছিল তা মুছে ফেলেছে। ঠোঁট দুটি চকচক করছে, যেন গ্লিসারিন মাখানো। আসলে সে ঘন ঘন জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে নিচ্ছে। গলার নিচে কণ্ঠি বের হয়ে এসেছে, ওপরের দিকে গলার মধ্যে কয়েকটি ভাঁজ, সেখানে ঘামের পানি জমে আছে রুপার চিকন হারের মতো। শুকনো খড়ের মতো চুল উড়ছে বাতাসে। প্রায় ময়লা সবুজ ওড়না লাল কামিজে জড়ানো শরীরের ওপরে একটা স্তন ঢেকে রেখেছে, বুকের অন্য পাশে ওড়না কামিজের কাপড়ের ওপর ছড়িয়ে রাখা, প্রায় সমতল দুই দিকেই, হঠাৎ দেখে ছেলে কি মেয়ে বোঝা যায় না। মেয়েটি বাংলাদেশের পতাকার রং দিয়েই সালোয়ার-কামিজ বানিয়েছে অথবা সেই রকম তৈরি করা কাপড় কিনেছে। আজকাল অনেকেই এভাবে কাপড় পরে, কিছুটা দেশপ্রেম দেখাতে, কিছুটা ফ্যাশন স্টেটমেন্টের জন্য। মেয়েটা দেখতে সুশ্রী না হলেও বয়সের জন্য একধরনের আকর্ষণ আছে তার শরীরে। অগোছালো বেশবাস সেই আকর্ষণে একটা বন্যতার ভাব সৃষ্টি করেছে, যেন সে যেখানে খুশি লাফিয়ে পড়তে পারে। দেখেই মনে হয় খুবই বেপরোয়া আর অ্যাগ্রেসিভ।
বুঝলেন স্যার, ওরা আমার সঙ্গে পলিটিকস করছে। সামনের সারিতে থাকতে দিচ্ছে না। অথচ এই কদিন আমি সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে থেকে স্লোগান দিয়েছি। আমার গলার স্বর এত উঁচু যে মাইক্রোফোনের বলতে গেলে দরকার হয় না। এক মাইল দূর থেকেই শুনে বুঝতে পারবেন এটা আমার গলার স্বর। মিটিংয়ের জন্য স্লোগানের দরকার, স্লোগানই মিটিং জমিয়ে তোলে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন। অভিজ্ঞ লোক আপনি। আমি কয়েক দিন মিটিং জমিয়ে রেখেছি শুধু আমার গলার জোরে স্লোগান দিয়ে দিয়ে। কাগজে আমার নাম এসেছে। টেলিভিশনে আমাকে প্রায়ই দেখিয়েছে। পাবনা থেকে দেখে আমার ছোট বোন ফোনে বলেছে, আপু তোকে দেখা গিয়েছে। কয়েকবার। তুই খুব মাতিয়ে রেখেছিস। আমার মাও প্রশংসা করেছেন দেখে। কেন করবেন না? নিজের মেয়ের খ্যাতিতে কোন মা গর্ব অনুভব করে না? বাবা? না, তিনি কিছু বলেননি। বেতো রুগি, বিছানায় শুয়ে থাকেন সব সময়। শুনেছি, ছোট বোনকে বলেছেন, ও ঢাকা গেল পড়াশোনা করতে। এখন মিছিল-মিটিং আর মানববন্ধন করে সময় নষ্ট করছে। ওর পড়াশোনার কী হবে? জমির ভাই তো পড়ার কথা বলেই ওকে নিয়ে গেলেন ঢাকায়। এখন এসব কী হচ্ছে? ওর ভবিষ্যৎ আমার চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জমির ভাই, মানে আমার বাবার অনাত্মীয় জমির সাহেবকে জানেন স্যার? আমরা তাকে চাচা বলি। তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা, মফস্বল শহর পাবনা থেকে শুরু করেছিলেন রাজনীতি, আস্তে আস্তে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঢাকায় পৌঁছেছেন। বাবার সঙ্গে জানাশোনা অনেক দিন থেকে। আগে প্রায় প্রতিদিন আসতেন, ঢাকায় আসার পর যান মাঝেমধ্যে। একদিন আমাদের বাসায় এসে বললেন, তোমার বড় মেয়েটা বেশ চটপটে আছে। ওকে ঢাকায় পাঠাও। মফস্বলে থেকে কত দূর আর যেতে পারবে? এখানে কি-ই বা সুযোগ রয়েছে? এখন সবই তো ঢাকায়।
ঢাকায় গিয়ে কী করবে সীমা? ওর তো গ্র্যাজুয়েশনও হয়নি। বাবা বলেছিলেন।
শুনে জমির চাচা উত্তর দিয়েছিলেন, কেন? ঢাকাতেই গ্র্যাজুয়েশন করবে। সেই ব্যবস্থা করে দেব আমি। কলেজ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে জানাশোনা আছে। বললেই অ্যাডমিশন হয়ে যাবে। হোস্টেলেও জায়গা পেতে অসুবিধা হবে না। সবই তো রাজনৈতিক দলের কন্ট্রোলে, যখন যারা ক্ষমতায় থাকে, তাদের। এখন আমরা আছি, সব সিদ্ধান্ত আমরাই নিই। কে অ্যাডমিশন পাবে, কার জন্য সিট খালি করাতে হবে—এ সবই আমাদের আওতায়। বুঝলেন না, একটা সিস্টেম তৈরি হয়ে গিয়েছে। বেশ সুন্দর চলছে। কেউ বাদ সাধছে না, কোনো হট্টগোল নেই। সবাই পাবে এই সুযোগ, পালা করে। বেশ গণতান্ত্রিক এই ব্যবস্থা। তা ছাড়া দলের কেউ না হলেও এসব সুযোগ পাওয়া যায়। একটু খরচ করতে হয় আর কি। সে যাই হোক, আপনার মেয়েটার দায়িত্ব আমি নিলাম। ও ঢাকায় যাবে, কলেজে ভর্তি হবে, হোস্টেলে থাকবে। পড়াশোনা করবে। মাঝেমধ্যে আমাদের পার্টি অফিসে এসে এটা-ওটা নিয়ে কাজ করে সাহায্য করবে।
কী কাজ করবে? কী নিয়ে সাহায্য করতে হবে সীমাকে? বাবার স্বরে উদ্বেগ ও ব্যাকুলতা।
তেমন কিছু না। ধরেন নেতার জন্য বক্তৃতা লেখা, প্যামফ্লেট তৈরি, প্রচার পুস্তিকা লেখা, ব্যানারের স্লোগান—এই সব আরকি। বড় ধরনের কোনো কাজ না, জটিলও না। খুব বেশি সময় দিতে হবে না তাকে। পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হবে না।
বাবা শুনে আমার দিকে তাকিয়েছেন। মাথা নেড়ে বলেছেন, ও অমন কাজ আগে কখনো করেনি। পারবে না। তা ছাড়া ওই সব নিয়ে থাকলে পড়াশোনা লাটে উঠবে।
জমির চাচা আশ্বাস দিয়ে বললেন, কাজগুলো সব সোজা। লেখালেখি, তা-ও বাংলায়। ছোট ছোট আকারে। তাতে সময় বেশি লাগবে না। আর পড়াশোনার সময় তো সে এসব কাজ করবে না, অবসরে করবে। সন্ধ্যার পর। কখনো রাতে।
সন্ধ্যার পর, রাতে? বাবা খুব চিন্তিত হয়ে তাকিয়েছেন জমির চাচার দিকে। বলেছেন মাথা দুলিয়ে কাঁপা গলায়, শুনেছি, সন্ধ্যার পর ঢাকার রাস্তাঘাট নিরাপদ না। গুন্ডা-বদমাশ ঘুরে বেড়ায়। ইভটিজার পিছু নেয়।
আরে না। ওসব বাড়িয়ে বলে লোকে। ঢাকা রাজধানী, সেখানে আইনশৃঙ্খলা থাকবে না তো থাকবে কোথায়? অন্য সব মেয়ে থাকছে না ঢাকায়? কাজ করছে না, ঘোরাঘুরি করছে না? মজার ব্যাপার কি জানেন?
কী? বাবার চোখে একরাশ কৌতূহল এবং পুরোনো প্রশ্ন।
ঢাকায় মফস্বলের মেয়েরাই বেশি ফ্রি, বেশি দুরন্ত, বেশ সাহসী। ওরা কাউকে পরোয়া করে না। সব পার্টিতেই তারা আছে। টেলিভিশনে দেখেন না, মিছিলের সময় সামনে থেকে কেমন হাত তুলে জোরে জোরে স্লোগান দেয়। মফস্বলের মেয়েরাই ঢাকায় আন্দোলন জমিয়ে রাখে। বলতে গেলে ওরাই আসল কর্মী দল। ছেলেগুলো ফাঁকিবাজ। তারা মেয়েদের দিয়েই সব কাজ করিয়ে নিতে চায়। শুধু বাহবা আর টাকা নেওয়ার সময় সামনে থাকে। সব কাজের ক্রেডিট নেয়। জমির চাচা অনেকক্ষণ কথা বলে থামেন।
স্যার, কিছুই জানা ছিল না আমার, মফস্বলের মানুষ, তা-ও আবার মেয়ে। অল্প সময়ে অনেক কিছু শিখলাম। হয়তো আরও শেখার আছে। মেয়েদের সারা জীবনটাই জানার। ছাত্রী হয়েই থাকতে হয় সবকিছু জানার জন্য। অ্যাপ্রেন্টিস বলে না? আমরা হলাম তাই। কিন্তু আমি আর পারছি না স্যার। আমার একটা চাকরি দরকার। ভদ্রলোকের, ভদ্রমেয়ের মতো চাকরি। আপনি দিতে পারেন। আপনার তো সেই সুযোগ রয়েছে। আমার বেশি কিছু দেওয়ার নেই, সবই তো দেখতে পাচ্ছেন। প্রায় দেউলে হয়ে গিয়েছে শরীর আর মন। দেওয়ার মতো কিছু হয়তো একসময় ছিল, এখন তেমন কিছু নেই। মিথ্যে বলব কেন। আপনি অভিজ্ঞ লোক। সেলিব্রিটি।
তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, তোমার একটা দোষ আছে। তুমি বেশি কথা বল।
মেয়েটি শুনে মিইয়ে যায়। তারপর বলে, জমির চাচা কোথায়? আছেন, তিনি তার জায়গাতেই আছেন, দলের কাজ করছেন উঠে-পড়ে, দলে আরও কিছুটা ওপরে উঠতে পেরেছেন। অনেক ফন্দিফিকির জানেন তিনি। কী করে ডিঙিয়ে যেতে হয়, ওপরের মানুষকে তুষ্ট করতে হয়, সব জানা আছে তার। তিনি আরও ওপরে উঠবেন।
আমি? না, আমার পক্ষে ওপরে ওঠা সম্ভব হবে না। যেটুকু উঠেছি, ওই পর্যন্ত। মানববন্ধন করি, মিছিলে যাই, মঞ্চ তৈরি করে তার ওপরে উঠে গলা ফাটিয়ে স্লোগান দিই। টেলিভিশনে দেখায়। কাগজে নাম ছাপা হয়। পাবনা থেকে ছোট বোন প্রশংসা করে ফোনে জানায়। মা-ও খুশি, তার মেয়েকে টেলিভিশনে দেখা যাচ্ছে, সবাই তার কথা বলছে। মা আমাকে নিয়ে গর্ব করেন বলে শুনেছি।
পড়াশোনা? হ্যাঁ, জমির চাচা তাঁর কথা রেখেছিলেন। কলেজে অ্যাডমিশন হয়েছে। হোস্টেলে শেয়ারে সিট পেয়েছি, মানে দুজনে একসঙ্গে থাকতে হয়। ক্লাস বেশি হয় না, প্রায়ই বন্ধ থাকে। আমরাও ফুরসত পাই না। হরতাল, মিটিং, মিছিল। মঞ্চে উঠে স্লোগান দেওয়া। এতে অনেক সময় চলে যায়। তবে কলেজে নামটা আছে খাতায়। হোস্টেলে সিটটা আছে এখনো। কেউ আপত্তি করে না, কেন করবে? প্রায় সবাই তো আমার মতো অবস্থার। কারও অনুগ্রহে অ্যাডমিশন আর সিট পাওয়া। সন্ধ্যার পর পড়াশোনা? না, সেটা প্রায় কারোরই হয় না। সবাই কিছু না কিছু নিয়ে ব্যস্ত, টাকার ধান্দায় ঘোরে। আমি পার্টি অফিসে যাই। কখনো একা, কখনো ছাত্রনেতাদের সঙ্গে। জমির ভাইয়ের অফিসে বসে বক্তৃতা লিখি, কখনো লিফলেট। কম্পিউটারে প্রিন্ট আউট বের করে দেখাই। তিনি প্রুফ দেখে দেন। আবার টাইপ করি। এসব কাজ ছেলেরা করতে চায় না। তারা মারধর, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর—এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কাজ শেষ হলে আড্ডা দেয়, ড্রিংক করে একসঙ্গে বসে।
ড্রিংক? না, না। চা-টা না। অ্যালকোহল। হুইসকি। বিয়ার। আমাকেও খেতে হয়েছে পাল্লায় পড়ে। ওদের সঙ্গে থাকতে হলে তাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য নানাভাবে সঙ্গ দিতে হয়। এড়ানোর উপায় নেই। ওরা নেতাদের কাছে নালিশ করলে আমাদের ভাতা বন্ধ। দেড় হাজার টাকা ভাতা পাই আমি অফিস থেকে, তাই দিয়ে কলেজে পড়া, হোস্টেলে থাকা। খুব মূল্যবান সেই ভাতা। বোকামি করে হারাতে পারি না। তাহলে যে পথে বসব।
জমির ভাইকে বলোনি কেন এসব? কী যে বলেন! তিনি কি ধোয়া তুলসি পাতা? তিনিও ড্রিংক করেন। রাতে কাজ শেষ হয়ে গেলে অফিসে বসেই করেন। আমাকেও খেতে হয়েছে তার সঙ্গে। আদর করে জড়ানো গলায় বলেছেন, খাও, খাও। ভালো জিনিস। স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এনার্জি বাড়ায়। এত পরিশ্রম করার পর দরকার আছে এটার। সাহেবরা তো খারাপ জিনিস তৈরি করেনি। অল্প অল্প খাও, তাহলে বেসামাল হবে না। একটু সামলে চলতে হবে, হাজার হোক এটা পার্টি অফিস। বেসামাল হতে চাও তো আমার বাসায় এসো। তোমার ভাবি? আরে সে থাকলে তো! কেউ নেই, বাসা খালি। মারা গিয়েছে? না, মারা যাবে কেন? মেয়েরা অত তাড়াতাড়ি মরে না। এই ঝগড়া করে চলে গেল আরকি। বলল, রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ঘর করা পোষাবে না তার। কয়েক বছর একসঙ্গে থাকার পর এই কথা বলা। এত দিন যখন সহ্য করতে পেরেছে, তখন বাকিটাও পারত। কোনো মানে হয় হঠাৎ করে এসব কথা বলার? যারা দেশের জন্য খাটছে দিন-রাত, তাদের কিছু খামখেয়ালি, নিয়ম ভেঙে চলা—এসব সহ্য করতে না পারলে চলবে কেন? শুনল না মেয়ে মানুষটা। চলে গেল। যাক গে। বেশ আছি। হাত-পা ঝাড়া। চাকর আছে, রাঁধুনি আছে বাসায়। খাওয়া-দাওয়ার অসুবিধা হচ্ছে না, ঘুমোবার সময় বেশ ঘুমোচ্ছি। হ্যাঁ, তোমার যখন খুশি যেতে পারো। ওদের বললেই তোমাকে খেতে দেবে। দোকানে দোকানে সব সময় খাওয়া ভালো না লাগারই কথা। সেই তো বিরিয়ানি, নয়তো পরোটা-গোশত। কত দিনের পুরোনো কে জানে। স্বাদ বদলের জন্য এসো আমার বাড়ি মাঝে মাঝে। যখন খুশি। আমি বলে রাখব। জমির চাচা বললেও আমি সঙ্গে সঙ্গে তার বাসায় যাইনি। আমার মনে বেশ সন্দেহ জমেছিল। আস্তে আস্তে লোকটার চেহারা খুলে যাচ্ছিল আমার সামনে।
জমির চাচা নিজেই একদিন নিয়ে গেলেন তার বাসায়। প্রায় জোর করেই ড্রিংক করালেন ড্রয়িংরুমে বসে। সেদিন বেশিই খাওয়া হয়ে গিয়েছিল, তারই চাপে। ড্রিংকের পর পোলাও-কোর্মা খাওয়া হলো। খুব ফুর্তি লাগছিল। অমন মজা করে খাইনি অনেক দিন। তিনি যখন অনেক রাতে বললেন, দেরি হয়ে গিয়েছে। এখন হোস্টেলে যাওয়া ঠিক হবে না। থেকে যাও এখানে।
তাঁকে বেশি করে বলতে হলো না। থেকে গেলাম প্রায় স্বেচ্ছায়। সেই শুরু। তারপর বেশ কয়েক দিন হয়েছে অমন, একসঙ্গে ড্রিংক করা, খাওয়া আর ঘুমানো। দলের ছেলেরা তো বোকা না, টের পেয়ে গিয়েছে। ঠাট্টা করেছে, মিসট্রেস বলে। গায়ে মাখিনি। এমন ভাব করেছি, যেন শুনতেই পাইনি। ওরা ঠাট্টা করা বন্ধ করেনি।
জমির চাচাকে কেন বলিনি ওদের কথা? এই জন্য বলিনি যে জমির চাচা ওদের কিছু বলবেন না। তাদের নিয়ে কাজ করতে হয় তাকে।
তিনি রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছেন, অনেক জায়গাজুড়ে মঞ্চ। রাস্তায়, ফুটপাতে মানুষের ভিড়। অল্প বয়সের ছেলেমেয়েই বেশি। স্লোগান উঠছে থেকে থেকে, কোলাহল বাড়ছে। তিনি সীমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি মঞ্চে যাবে না আজ? স্লোগান দিতে?


না। ছাত্রনেতারা পলিটিকস করছে আমার সঙ্গে। বলছে, তাদের খাদ্য হতে হবে। শুধু জমির চাচার একার খাদ্য হলে চলবে না। রাতের বেলা মঞ্চের আশপাশে তাদের সঙ্গেও শুতে হবে। তাহলেই হাতে মাইক্রোফোন দেবে, নচেৎ নয়।
শুনে তিনি অবিশ্বাসের চোখে তার দিকে তাকান। রাস্তার স্লোগান ক্রমেই জোরালো হয়। তিনি সীমা নামের মেয়েটিকে বলেন, মাইক্রোফোন ওরা কন্ট্রোল করে? ওরাই ঠিক করে কে কখন স্লোগান দেবে?

তা নয় তো কী? ওরাই তো মঞ্চের নেতা। ওদের কথা যারা মানবে না, তারা হাতে মাইক্রোফোন পাবে না। গলা যত সুন্দরই হোক। আমার মতো ভরাট গলা হলেও চান্স পাবে না। মেয়েটি হঠাৎ তার দিকে তাকিয়ে বলল, শুনবেন স্যার? একটা স্লোগান দেব? আমার ভরাট গলায়?
না, না। দরকার নেই। এমনিতেই বুঝতে পারছি তোমার গলা বেশ ভরাট। রেডিও, টিভি অ্যানাউন্সারদের মতো, নিউজ রিডারের মতো।
মেয়েটি খুব খুশি হয় শুনে। হাসিমুখে বলে, সত্যি বলছেন স্যার? টিভি অ্যানাউন্সার, নিউজ রিডারের মতো? বলতে বলতে মেয়েটির চোখ ভিজে এল। ধরা গলায় বলল, আমার মতো অধঃপতিত মেয়ের ভাগ্যে কি তা হবে কখনো? হতে পারত যদি খারাপ হয়ে না যেতাম। ভালো পথে চলতাম। ভালো লোকের সঙ্গে মিশতাম। কিন্তু তা কী করে সম্ভব? আমার মতো অবস্থার একটা মেয়ে ভালো পথে কী করে চলবে? ভালো মানুষের সঙ্গ সে কোথায় পাবে? হাজার চেষ্টা করলেও তা হবে না। পাবনা থেকে ঢাকা অনেক দূরের পথ। আমি তো জানি পথের বাধাগুলো কোথায় কোথায় দাঁড়িয়ে। না, অত বড় কিছুর কথা ভাবতে পারি না আমি এখন। ছোটখাটো একটা চাকরি পেলেই বর্তে যাব। যেকোনো কাজ, যা ভদ্রভাবে চলতে দেবে, সুন্দরভাবে থাকতে দেবে। আচ্ছা স্যার, আপনার টেলিভিশন চ্যানেলে লেখাটেখার কোনো কাজ নেই? আমি খুব ভালো বাংলা লিখি। কবি শামসুর রাহমানের ওপর লেখা আমার কয়েকটা প্রবন্ধ আছে। অনেকে প্রশংসা করেছিল। আরও কয়েকটা লিখে একটা বই বের করব ভেবেছিলাম। কিন্তু সময় হলো না। ইচ্ছেটা এখনো আছে।
জমির চাচাকে বলব? তিনি উড়িয়ে দেবেন কথাটা। বলবেন, কবি-টবিদের ওপরে বই লিখে কী হবে? তার চেয়ে আমাদের দলের ওপর লেখো। দলের নেতাদের ওপর লেখো। তারপর একটু থেমে বলেছেন, তোমার অসুবিধা কোথায়? এই সব কথা তোমার মাথায় ঢোকে কেন? মাসে তিন হাজার টাকা পাচ্ছ। সেই টাকায় কলেজের ফি, হোস্টেলের খরচ দিচ্ছ। এই বয়সে এর চেয়ে ভালো চাকরি আর কী হতে পারে? তাও আবার পার্টটাইম। পরীক্ষায় পাস করার পর বেশি বেতনে চাকরি পেয়ে যাবে, তখন তুমি শুধু শামসুর রাহমান কেন, সব কবিদের নিয়ে লিখবে। এখন তোমাকে আমার অফিসের কাজের জন্য বেশি দরকার। ছাত্রনেতারা হাসি-ঠাট্টা করে? তা একসঙ্গে করলে বন্ধুরা অমন করবেই, গায়ে না মাখালেই হলো অথবা হেসে উড়িয়ে দেবে। আর শোনো, আমাকে না বলে ছাত্রনেতাদের সম্পর্কে কিছুই বলতে যাবে না। ওরা রেগে গেলে সবকিছু করতে পারে। দল ভেঙে অন্য কোথাও যাওয়ারও চেষ্টা কোরো না। দলের ছেলেরা সেটা সহ্য করবে না। ওরা সাংঘাতিক কিছু করে ফেলবে। দলের ছেলেমেয়েদের দলে রাখা তাদের জন্য একটা প্রেসটিজের ব্যাপার। ইচ্ছে করলেই কাউকে চলে যেতে দেওয়া যায় না। ঢোকা সহজ, বেরোনো কঠিন। বুঝলে? মাথা ঠিক রেখে কাজ করো। সমস্যা হলেই আমার কাছে চলে আসবে, খোলাখুলি সব বলবে।
জমির সাহেব মঞ্চের ছেলেদের বলছেন না কেন তোমাকে মাইক্রোফোন দেওয়ার জন্য? তিনি মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করেন।
বলছেন না এই জন্য যে তিনি তাদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চান না। তা ছাড়া ব্যাপারটা নাটকের মতো। পেছন থেকে প্রম্পটার যা বলছে, তাই নিয়ে স্লোগান হচ্ছে, সে অনুযায়ী সবকিছু চলছে। বাইরে থেকে কিছু বোঝা যায় না। জমির চাচা মঞ্চের পেছন থেকে সামনে আসতে যাবেন কেন? তিনি এবং তার বন্ধুরা টাকা দিয়ে যাচ্ছেন, খাওয়ার প্যাকেট পাঠাচ্ছেন। মঞ্চ চালু থাকছে, মিছিল বের হচ্ছে। ব্যস, এতেই তারা সন্তুষ্ট। একটা মেয়ের জন্য তিনি কিংবা তার সহকর্মীরা ছাত্রনেতাদের খেপাতে যাবেন কেন? নিজের দুর্বলতা থাকলে এমনই হয়। না, জমির চাচাকে বলে কিছু হবে না। সে আমার জানা আছে। হাতে মাইক্রোফোন পাওয়ার একটাই উপায়। ছাত্রনেতাদের কথা শুনতে হবে। সোজা কথায়, তাদের খাদ্য হতে হবে। হ্যাঁ স্যার, আমার মতো মেয়েরা সবাই খাদ্য। তারা মেনে নিয়েছে, ইচ্ছায় এবং অনিচ্ছায়। কী করবে? বাবার এত টাকা নেই যে তার খরচে ঢাকায় থাকবে। চাচা নেই, মামা নেই যে সাহায্য করতে পারেন। একমাত্র জমির চাচারা আছেন। তারা আগ বাড়িয়ে সাহায্য করতে আসেন। বড় মিষ্টি তাদের ব্যবহার। প্রায় অপত্যস্নেহে তাঁরা সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন।
মেয়েটি প্রসঙ্গ বদলায়। বলে, আপনাকে টেলিভিশনে দেখেছি, টকশোতে আপনার কথা শুনেছি। আপনাকে অন্য রকম মনে হয়েছে। মানে অন্য পুরুষদের মতো না। আমার ভুলও হতে পারে। কিন্তু সত্যিই আপনাকে দেখে আমার এমন মনে হয়েছে। তা স্যার, পারবেন আমার জন্য কিছু করতে? বড় কিছু না। মঞ্চের আড়ালেই থাকব, লেখালেখি কিছু থাকলে করে দেব। টেলিভিশনেও লেখার কাজ নিশ্চয়ই আছে?
এই বইটা থেকে পড়ব? কতটুকু? এক প্যারা? বেশ পড়ছি। বলে মেয়েটি পড়তে থাকে এক মনে। পড়া শেষ হলে সে তাকে বলে, ক্যামন হলো স্যার? স্লোগান দিয়ে দিয়ে গলাটা ভেঙে গিয়েছে। নরমাল হলে আর একটু ভালো হতো। তা লেখালেখির কাজের জন্য তো গলার স্বরের দরকার নেই। আমার লেখা প্রবন্ধগুলো আপনাকে দেব। কবি শামসুর রাহমানের ওপর লেখা প্রবন্ধ। আমার খুব প্রিয় কবি ছিলেন। ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি পড়লেই আমার গায়ের রোমকূপ দাঁড়িয়ে যায়। আমি প্রবন্ধগুলো আপনার অফিসে গিয়ে দিয়ে আসব। আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না কে জানে। কত রকমের সিকিউরিটি আপনাদের অফিসে। তবু আমি দিয়ে আসব।
তিনি পকেট থেকে মোবাইল বের করে চোখের সামনে নিয়ে একটা নম্বরে টিপ দিলেন। তারপর ওপাশে কণ্ঠস্বর শোনা যেতেই তিনি বললেন, একটা মেয়ে যাবে অফিসে। নাম সীমা। ওর একটা অডিশন নেবে। হ্যাঁ, সে একটা কিছু পড়ে যাবে, যা তোমরা তাকে দেবে। শোনার পর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। তারপর আমাকে তোমাদের মত দেবে। হ্যাঁ, আমিও শুনব তার রেকর্ড করা অডিশন।
স্যার, আমি টেলিভিশনে অডিশন দেব? সত্যি বলছেন? না, না ঠাট্টা করবেন না আমার সঙ্গে। আমি এর মধ্যেই জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছি। আর বাড়াতে চাই নে কষ্টের বোঝা। স্যার, চাকরি না দেন, আমার সঙ্গে ঠাট্টা করবেন না। আমি মফস্বলের সামান্য একজন মেয়ে, তার ওপর আবার অধঃপতিত। পড়ে গেলে নাকি ওঠা কঠিন। আমি একটু দেখতে চাই, পড়ে গেলেও ওঠা যায় কি না, তার জন্য ছোট একটা সুযোগ দেন শুধু।
তিনি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি খুব বেশি কথা বল।
শাহবাগ চত্বর লোকে লোকারণ্য। সব বয়সের মানুষ নর-নারীতে ভরে গিয়েছে সব রাস্তা, ফুটপাত। সবাই ব্যগ্র হয়ে তাকিয়ে আছে দক্ষিণের দিকে, যেখানে জাতীয় জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি আর তারপর আর্ট ইনস্টিটিউট। হকাররা ভিড়ের মধ্যে নানা ধরনের জিনিস বিক্রি করছে। খেলনা, খাবার জিনিস—সবই। লাল আর সাদা হাওয়াই মিঠাইয়ের পেজা তুলার মতো ফাঁপানো শরীর প্লাস্টিকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। বাবার কাঁধে চড়ে একটা শিশু হাওয়াই মিঠাই খাচ্ছে, কাঁধে চড়েই কেউ বাতাসে খেলনা নাড়ছে। বাঁশি বাজাচ্ছে এক হকার, গলায় ঝোলানো ঝোলায় বিক্রির বাঁশি। শুকনো মিষ্টি বিক্রি করছে ঠেলাওয়ালা। বাতাসে ভাজা-পোড়ার গন্ধ। শিশুপার্কের সামনে এক চিলতে জায়গায় ফকির আলমগীর তাঁর দল নিয়ে লালনসংগীত গাইছেন ফিউশন সুরে।
একটু পরে আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হলো। সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ের মধ্যে ঢেউয়ের মতো একটা চঞ্চলতা আছড়ে পড়ল। পেপিয়ার-ম্যাশে তৈরি মস্ত বড় বাঘ, প্যাঁচা, ময়ূর মাথার ওপরে তুলে এগিয়ে আসছে শোভাযাত্রার ছেলেমেয়েরা। উত্তেজনায় ফেটে পড়ছে যেন, চঞ্চল হয়ে উঠেছে ভিড়ের মানুষ। গরমে ঘামছে সবাই, লাল হয়ে এসেছে মুখ। ধুলো উড়ছে, বাতাসে রোদের ঝাঁজ।
মেয়েটি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে বলছে, ‘নতুন বর্ষকে স্বাগত জানিয়ে এগিয়ে আসছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এতক্ষণ যারা অধীর প্রতীক্ষায় ছিল, হাজার হাজার সেই সব নর-নারী শিশু-কিশোরের প্রতীক্ষা শেষ হলো। গান শোনা যাচ্ছে, এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’ বলতে বলতে মেয়েটির স্বর ক্রমেই উঁচু হলো। এত কোলাহল, গানের চড়া সুর, তার ভেতরে মেয়েটির কণ্ঠস্বর স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। সে পরেছে লাল পেড়ে সাদা সুতির একটা শাড়ি। তার এক হাতে ছোট গাঁদা ফুলের মালা বালার মতো জড়িয়ে।

(দৈনিক প্রথম আলোয় ১৫/০৪/ ২০১৩ প্রকাশিত)

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৩










এতদিন যেসব চেকুল্যার বান্দা কইতো ইসলামে রাজনীতি নাই , যারা ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধে জামায়াত ইসলামী কে নিষিদ্ধের দাবী করে আসছে , যারা ইসলামী রাজনীতিকে ভন্ডামী বলে আসছে , যারা ইসলামকে কেবল নামাজ রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছে , যারা ভাবতো ধর্ম আর রাজনীতি আলাদা তাদের এবং সকল নাস্তিকদের গালে ঠাস কইরা জুতার বাড়ি পড়েছে মদীনা সনদ ইস্যুতে ।

চেকুল্যার আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান শেখ হাছিনাও এতো দিনে মেনে নিলেন ইসলামী রাজনীতিকে ।
ইসলাম একটি জীবন ব্যাবস্থা । আর এই জীবন ব্যাবস্থার অনুসরণ , অনুকরণের নামই হচ্ছে ইসলামী রাজনীতি । আল্লাহর দুনিয়ার আল্লাহর দ্বীন কায়েম / আল্লাহর হুকুম কায়েম করার দায়িত্ব নিয়ে আমরা এই দুনিয়াতে এসেছি । আর আল্লাহর দ্বীনকে বাস্তবায়ন করার নামই ইসলামী রাজনীতি ।

ইসলামকে রাজনীতি বিযুক্ত করার কোনও সুযোগ যে নাই তা আবার স্পষ্ট সামনে চলে আসলো ।

সত্যি আল্লাহর কৌশল অত্যন্ত সুন্দর ।













একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা আবার রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী সংবিধানই একমাত্র পাথেয় তা আমরা বুঝতে সক্ষম হচ্ছি । আমরা মেনে নিচ্ছি রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী আইনের কোন বিকল্প নাই ।

হাছিনা যদি ধর্মকে নির্বাচনের জন্য ব্যবসা করার লক্ষে এই ঘোষণা দেন / ঘোষণা দেয়ার পরও মদিনা সনদকে সংবিধান হিসেবে মেনে না নেন তবুও মদিনা সনদকে টাইমলাইনে এনে এই দেশের মুসলমানকে মদিনা সনদ সম্পর্কে জানার সুযোগ এবং হাছিনা নিজেও মদিনা সনদকে মেনে নেয়ার যে ইচ্ছা পোষণ করলেন তাতে আমি নিশ্চিত আমরা ইসলামী হুকুমত পেতে যাচ্ছি অতি শীঘ্রই ।

সেই জন্য জামায়াত ইসলামীই হোক আর হেফাজতে ইসলামীই হোক অথবা অন্য কোন ইসলামিক দলের মাধ্যমেই হোক না কেন আমরা কালেমার পতাকার সন্নিকটে আছি । ইসলামী দল গুলোকে অবশ্যই প্রস্তুতি নিতে হবে আল কোরআনের সংবিধান বাস্তবায়নের জন্য ।

হাছিনাকে দিয়ে এই কথা বলানোর জন্য আল্লাহ রাব্বুল আ'লামিনের দরবারের শুকরিয়া আদায় করছি । আলহামদুলিল্লাহ ।

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩






টাকা তো থাকার কথা সরকারের কাছে ? ক্ষমতায় সরকার । 
চুরি করুক আর ডাকাতি করুক /চাঁদাবাজিই করুক  টাকার ভাগ সরকারের , কিন্তু ওই একটা ইসলামী দলের এতো টাকার উৎস কি ?
যেই টাকা দিয়ে এতো বড়ো একটা লং মার্চের আয়োজন করলেন হেফাজত ইসলাম নামের একটি ইসলামী সংগঠন ?

বাংলাদেশে সাধারন এবং অসাধারন সকল পর্যায়ের মানুষের সচরাচর যেই ধারনা আছে তা হচ্ছে ইমাম / মুয়াজ্জিন / কোন মাদ্রাসার ছাত্র- শিক্ষক মানেই নিন্মবৃত্তের মানুষ !







একসময় বাংলাদেশে এতিমখানা থেকে পড়ালেখা করে মসজিদের ইমাম হতো বলেই সবাই জানতো ।  কিন্তু আজকের সমাজ বাবস্থায় এসেছে আমূল পরিবর্তন । মাদ্রাসা জগত এখন আর এতিমখানায় সীমাবদ্ধ নেই , বর্তমান বাংলাদেশে এমন মাদ্রাসা আছে যেইখানে পড়ালেখা করতে হলে সাধারনত কোন বেসরকারী নামকরা স্কুলের থেকেও অনেক বেশী খরচ সহ্য করতে হয় ।






যাই হোক , আমি সেই দিকে যেতে চাই না ।

একটি জাতীয় দৈনিকে ৬ তারিখের লংমার্চে কোন শহর থেকে কত বাস আসবে, সেই সব বাসের ভাড়া কত লাগবে এবং সেই অর্থের জোগান দাতা কারা ?
 ইত্যাদি সম্পর্কে আগাম রিপোর্ট করেছে। ভাবখানা এমন আমাদের আলেম-ওলামারা এতই দরিদ্র যে তাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম বাস ভাড়া দেয়ারও সামর্থ্য নেই!
 এইসব রিপোর্ট থেকে পত্রিকাগুলোর শ্রেণী-চরিত্র বুঝতে আর কোনো সমস্যা থাকে না। সরকার শত শত মানুষ হত্যা করলে এরা কোনো অনুসন্ধানী টিম / প্রতিবেদন করেন নি ।

আমাদের সরকারী দল আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা মণ্ডলীর সদস্য হানিফ বললেন এই লং মার্চে নাকি ৮০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে । তিনি জানেন কে / কারা এই টাকার যোগান দিয়েছেন ।

দেশের সাধারন মানুষ যদি এই  টাকার সুরাহা না পায় তবে আওয়ামী লীগের এই মিথ্যাচারের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেও ক্ষমা পাবে কিনা সেটাও বিবেচনার বিষয় ।

আমি ধরে নিলাম , ৮০ কোটি টাকাই খরচ হয়েছে , এখন দেখার বিষয়  এই টাকার যোগান দাতা কে ?

আমরা দেখেছি , ৬ এপিলের লং মার্চে শত বাধা উপেক্ষা করে ঢাকাতেই প্রায় ১৫-২০ লক্ষ লোক অংশগ্রহন করেছেন । অন্য দিকে চট্টগ্রামেও প্রায় ৪- ৫ লক্ষ লোক জড়ো হয়েছে , আর সারা বাংলায় যেই ভাবে দেখলাম তাতে আমি নিশ্চিত কমপক্ষে ৫০ লক্ষ লোক প্রত্যক্ষ ভাবে হেফাজতে ইসলামীর ডাকে সাড়া দিয়েছিলো ।







 এবার আসুন এই ৫০ লক্ষ কর্মী যদি জনপ্রতি ২০০ টাকা হারে হেফাজতের ফান্ডে জমা করে তবে হিসেব অনুযায়ী প্রায় ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠিত হয় । মানে এখনো ২০ কোটি টাকা হেফাজতে ইসলামীর পান্ডে থাকার কথা ।

যা দিয়ে হানিফের মতো ১৪ জন কিনা যাবে !


স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? 




যেই বিষয়টা নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করবো তা হচ্ছে আল্লাহ এবং আল্লাহর সৃষ্টি ।

১ম অংশ

নাস্তিকরা যখন বিভিন্ন ভ্রান্ত তত্ত্ব দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করে যে মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে, পৃথিবী সৃষ্টিতে এবং আমাদের (মানুষ) সৃষ্টিতে কোন স্রষ্টার প্রয়োজন নেই, এবং ব্যর্থ হয়। তখন বিশ্বাসীকে প্রশ্ন করে বসে- স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? কারণ বিশ্বাসীকে গায়েল করার জন্য নাস্তিকদের এটা প্রধান ও শেষ হাতিয়ার। আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের পরিসরে যুক্তি ও তথ্য উপাত্তার মাধ্যমে তাদের এই হাতিয়ারে আঘাত করতে চাই বিজ্ঞানের আলোকে।

আর আমরা বিজ্ঞান বলতে সরল ভাবে যা বুঝি তাহল পদার্থ বিদ্যা*। আর পদার্থ বিদ্যা যে যে ভিত্তিগুলোর উপর দাঁড়িয়ে আছে, তাদের অন্যতম একটি হল নিত্যতার সূত্র। যেমন- ভরের নিত্যতার সূত্র, শক্তির নিত্যতার সূত্র। পদার্থ বিদ্যার প্রথমে ধারণা ছিল- বস্তুর ভর অবিনশ্বর, সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই। কিন্তু আইনস্টানের E=mc² সূত্র ভরের নিত্যতার সূত্রে আঘাত হানে। যার ব্যবহারিক প্রমাণ মেলে জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমা বিষ্ফোরনের মধ্যমে। এই ভয়ঙ্কর বিষ্ফোরনে এটাই প্রমাণিত হল ভর নষ্ট হয়ে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তারপর ভরের নিত্যতার সূত্র রূপ নেয় শক্তির নিত্যতার সূত্র হিসেবে (শক্তির সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই)। আর এই নিত্যতার সূত্র পদার্থ বিদ্যার অন্যতম ভিত্তি কেন? কেন-ই বা এই নিত্যতার সূত্রের প্রয়োজন।
কারণ আপনার, আমার, আমাদের চারপাশের যা কিছুই আছে পৃথিবী সমেত সমগ্র মহাবিশ্ব (বস্তু জগত), অর্থাৎ অস্তিত্বশীল সকল কিছুর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য প্রথমে প্রয়োজন এমন একটা কিছু, যার কোনো সৃষ্টি নাই। সৃষ্টি ছাড়া কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকলেই কেবল প্রমাণ করা সম্ভব আপনার, আমার, সব কিছুর অস্তিত্ব আছে। তা-না হলে কোন ভাবেই প্রমাণ করা সম্ভব নয় আপনার, আমার অস্তিত্বের কথা। সুতরাং আপনার, আমার আস্তিত্ব যখন আছে, তখন অবশ্যই ধরে নিতে হবে, এমন একটা কিছু অবশ্যই আছে যার কোনো সৃষ্টি নেই। তাহলেই স্বপ্রমাণ বস্তু জগতের অস্তিত্বের।
একই ভাবে পদার্থ বিদ্যার অস্তিত্ব আছে প্রমানের জন্য প্রয়োজন শক্তির নিত্যতার সূত্রের। আমরা যদি শক্তি সম্পর্কে আরো ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করতে পারি, এবং দেখি যে শক্তিও কোন উrস থেকে সৃষ্টি, সেই দিন শক্তির নিত্যতার সূত্র রূপ লাভ করবে- শক্তির সৃষ্ট উৎসের নিত্যতার সূত্র হিসেবে। তারপরও প্রয়োজন নিত্যতার সূত্রের, প্রয়োজন এমন কিছুর যার সৃষ্টি নেই ও চিরকাল ধরে ছিল। অতএব সব কিছুরই সৃষ্টির প্রশ্ন করা যায় না। এক পর্যায়ে গিয়ে থামতেই হবে এই সৃষ্টির প্রশ্নের ব্যাপারে।
যেমন পদার্থ বিদ্যা গিয়ে থেমেছে শক্তির সৃষ্টির প্রশ্নের কাছে। অর্থাৎ- শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নাই। এই মহাবিশ্বে শক্তির পরিমান ধ্রুব। শক্তি এক বা একাদিক রূপে রূপান্তরিত হতে পারে, যার ফল স্বরূপ মহাবিশ্বের সকল অস্তিত্ব।

তাহলে নাস্তিকবাদ এই প্রশ্ন করতে পারে না- স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? আর বিশ্বাসীরা স্রষ্টা পর্যন্ত গিয়ে থেমে যান সৃষ্টির প্রশ্নের ব্যাপারে। এটা প্রয়োজন আস্তিকদের নিজের অস্তিত্ব প্রমানের জন্য। কারণ কোন অস্তিত্বশীল-ই চাইবেনা এটা যে, আমার অস্তিত্ব নাই (অস্তিত্বশীল থাকা স্বত্বেও)।

২য় অংশ

স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল এর ১ম অংশে বিজ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমে উত্তর দেওয়ার প্রয়াস করেছি। ২য় অংশে কুরআন ও বিজ্ঞানের আলোকে আলোচনা করে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।
পাঠকের অবগতির জন্য বলছি, আমি একজন তুচ্ছ জ্ঞানের সাধারণ মানুষ। ভূল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, এবং যুক্তি যুক্ত মনে হলে গ্রহন করবেন। তবে মহান আল্লাহ সম্পর্কে আমার ব্যাখ্যাই চুড়ান্ত এটা ভাববেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতালা বলেন- তাঁর অনন্ত জ্ঞানের কোন বিষয়ই কেউ আয়ত্ব করতে পারে না (২:২৫৫)। অর্থাৎ মানুষ আমার সম্পর্কে তুচ্ছ জ্ঞানই লাভ করতে পারবে (আল কোরআন)। নিম্মে কয়েকটি গুরুত্ব পূর্ণ আয়াত দেওয়া হল যে গুলো আল্লাহ তালার অস্তিত্বের প্রকাশ করবে -

(আল্লাহ)! তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই ব্যক্ত, তিনিই গুপ্ত- তিনি সর্ব বিষয়ে সম্যক অবগত (৫৭:৩)।

ইহার (সৃষ্টির) উপর অবস্থিত যাবতীয় বস্তু ধ্বংসের অধীন। শুধু তোমার সম্মানিত প্রভুর সত্ত্বা লয়হীন ও অনন্তস্থায়ী(৫৫:২৬-২৭)।

আল্লাহর অস্তিত্ব ব্যতীত সমস্ত কিছুই নিঃশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইবে(২৮:৮৮)।

আল্লাহ! তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব.....(২:২৫৫)।

তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নাই... (২৮:৭০)।

তিনিই আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, তাঁর সন্তান হইবে কিরূপে (৬:১০১)।

আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ নাই এবং তাহার সহিত অপর কোন উপাস্য নাই (২৩:৯১)।

বল- আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।
এবং কেহই তাঁর সমকক্ষ নয় (১১২:১-৪)।

শক্তির সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই তুচ্ছ, শক্তির নিত্যতার সূত্র ছাড়া এর সম্পর্কে বেশি কিছু জানা নেই। তবে ধারনা করা হয় ফোটন কণা সহ, মৌলিক বল সৃষ্টিকারি বিভিন্ন চক্রণ বিশিষ্ট্য ফোটন কণা গুলো শক্তির গুচ্ছ বা প্যাকেট। অর্থাৎ শক্তি কোনো তথ্য* দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে গুচ্ছ আকারে ফোটন কণা সহ মৌলিক কণা গুলো সৃষ্টি করে। আর এই ফোটন কনা গুলোই সৃষ্টি করে পদার্থের প্রথম ভিত্তি কোয়ার্ক। কারণ কোয়ার্ক পর্যন্ত কণাগুলো কে পদার্থ হিসেবে ধরা যায়। ফোটন কণাগুলো হল আলোক কণা বা বিভিন্ন বলবহী কণা। কোয়ার্ক ৬ ধরণের, এই কোয়ার্ক গুলোই পরমানুর মূল ভিত্তি ৩টি স্থায়ী কণিকা- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন সৃষ্টি করে। ফোটন কণা সম্পর্কে আমদের যথেষ্ট জ্ঞান থাকলে ও, তারপর (শক্তি সম্পর্কে) আমাদের অর্জন শূন্যের কোটায়। যেহেতু ফোটন কণার পর শুধু শক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সুতরাং শক্তিই হল সব কিছুর আদি ভিত্তি, এবং কোন অস্তিত্ব (পদার্থ) ধ্বংসের পর শক্তিতে পরিনত হয়, তাই শক্তিই হল অন্ত। শক্তি সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি তাহল- শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নাই। এই মহাবিশ্বে শক্তির পরিমান ধ্রুব। শক্তি এক বা একাদিক রূপে রূপান্তরিত হতে পারে, যার ফল স্বরূপ মহাবিশ্বের সকল অস্তিত্ব। এবার আপনার সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে কুরআনের- ৫৭:৩, ৫৫:২৬-২৭, ২৮:৮৮, ২:২৫৫, ২৮:৭০, ৬:১০১, ২৩:৯১ ও ১১২:১-৪ নং আয়াত গুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। দেখবেন শক্তি সম্পর্কে বিজ্ঞানের ধারনা ও আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে আল্লাহর ভাষ্য একেবারে হুবহু মিলে যাচ্ছে।

৫৭:৩ নং আয়াতে আল্লাহ আদি ও অন্ত, ৫৫:২৭ নং আয়াতে আল্লাহর সত্ত্বা লয়হীন ও অনন্তস্থায়ী এবং ২:২২৫ নং আয়াতে আল্লাহ চিরঞ্জীব সত্ত্বা বলে দাবি করেছেন। ৫৫:২৬, ২৮:৮৮ নং আয়াতে বলাহয়েছে আল্লাহর অস্তিত্ব ব্যতীত সমস্ত কিছুই নিঃশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইবে অথবা ধ্বংসের অধীন। এর আলোকে আমরা বলতে পারি- আল্লাহর সৃষ্টি বা ধ্বংশ নাই।

২৮:৭০, ৬:১০১, ২৩:৯১ ও ১১২:১-৪ নং আয়াতের প্রেক্ষিতে আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয় সত্ত্বার দবিদার। এবং ১১২:৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহ কাউকে জন্ম দেননি (জন্ম গ্রহণ ও জন্ম দান), অর্থাr এখানে এটাই নির্দেশ করে যে আল্লাহর সত্ত্বা ধ্রুব। কারণ আল্লাহ জন্ম গ্রহণ করলে আল্লাহর সত্ত্বা ধ্রুব থাকত না, অনুরূপ ভাবে তিনি কাউকে জন্ম দিলেও।

(প্রথমে-ই, যদি ভূল ব্যাখ্যা করে থাকি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রর্থনা করছি) ৫৫:২৬, ২৮:৮৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে- আল্লাহর অস্তিত্ব ব্যতীত সৃষ্টির উপর অবস্থিত যাবতীয় বস্তু নিঃশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইবে। বস্তু যে নিঃশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তা আমরা আগেই জেনেছি। অর্থাr কোয়ার্ক হল বস্তু জগতের সর্বশেষ অস্তিত্ব, কোয়্র্কের পর পদার্থের আর কোন অস্তত্ব থাকে না, পদার্থ হয়ে যায় শক্তি (এক অদৃশ্য সত্ত্বা)। সুতরাং শক্তিকে যদি আল্লাহর সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা করি, তাহলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এখানে শক্তিকে আল্লাহর সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা করার পিছনে আর একটি ব্যাখ্যা হল, কুরআনে আল্লাহর যত গুলো নাম আছে সব গুলোই গুণবাচক নাম। এই গুণবাচক নাম গুলোর মধ্য কয়েকটি হল- ক্কাভিও, ক্কাদিরু, আজিজু। এই নাম গুলোর মূল শব্দ সরাসরি শক্তি বা এনার্জি কে নির্দেশ করে। অনুরুপ ভাবে আর একটি নাম হল নূর, যার অর্থ আলো। শক্তি এবং আলো দুইটিই শুধু গুণ গত অস্তিত্ব নয়, সত্ত্বা গত অস্তিত্ব্ বটে। মহান আল্লাহ হয়তো এখানে তাঁর গুণ গত বৈশিষ্ট্যর পাশাপাশি সত্ত্বা গত বৈশিষ্ট্যর কথাও বলেছেন। যা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন সমগ্র সৃষ্টি জগত। তাই বস্তু জগত ধ্বংশ হয়ে তাঁর সত্ত্বায় বিলীন হয়ে যায়। ইহার (সৃষ্টির) উপর অবস্থিত যাবতীয় বস্তু ধ্বংসের অধীন। শুধু তোমার সম্মানিত প্রভুর সত্ত্বা লয়হীন ও অনন্তস্থায়ী(৫৫:২৬-২৭)। তাহলে আমরা বলতে পারি,

মহান স্রষ্টার সৃষ্টি বা বিনাশ নাই। তিনি চিরকাল থেকে ছিলেন এবং অনন্তকাল থাকবেন, তিনি শাস্যত চিরঞ্জীব।

পরিশেষে পাঠকের নিকট একটা প্রশ্ন, আপনি কি মনে করেন শক্তি থেকে এমনিতেই সবকিছু সৃষ্টি হওয়া সম্ভব, নাকি এর পিছনে কোন বিজ্ঞ স্রষ্টা কৃতিত্ব রয়েছে। যিনি অথবা যেখান থেকেই হোক! আমাদের ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে, তাঁকেই স্রষ্টা হিসেবে গ্রহন করতে আমাদের সমস্যা কোথায়। একটু ভেবে দেখেন সৃষ্ট হিসেবে আমরা কতই নিকৃষ্ট, স্রষ্টা কেই মেনে নিতে পারছি না।
(মহান আল্লাহ আমার (আমাদের) ধারনা থেকে অনেক উর্ধে, আমার এ তুচ্ছ জ্ঞানে তাঁর সম্পর্কে ক্ষুদ্র জ্ঞানই লাভ করতে পারব, সুস্পষ্ট ধারনা অর্জন করা কখনো সম্ভব নয়)

স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? এ আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। পরবর্তিতে আল্লাহর কিভাবে এ সৃষ্ট জগত সৃষ্টি করলেন কোরআন ও বিজ্ঞানের আলোকে আলোচনা করে আর্টক্যাল লিখার চেষ্টা করব।

মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৩

 আল্লাহকে ভালবাসি বলেই রাসুল(সা) এর অনুসরণ করি ।



আমাদের অনেকেই রাসূল(সা:) এর নাম উচ্চারনের সময় উনার উপর আল্লাহ্ র শান্তি বর্ষিত হোক এই দোয়াটিও বলার প্রয়োজন মনে করি না। অনেকের মাঝে এই ধারনাটি বেশ প্রবল যে আমাদের কুরআন মানলেই চলবে হাদীস অত গুরুত্বপূর্ন নয়। অনেকে আবার হাদিসের শুদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন করেন!!! আমি নিজেও বিভিন্ন সময় হাদীসের গুরুত্ব সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারি নাই। তাই আমার নিজের জন্য এবং যারা হাদিসের গুরুত্ব নিয়ে সন্দিহান তাদের সকলের জন্য কুরআনের সেই সকল আয়াতসমুহ তুলে ধরছি যা দ্বারা আর কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে স্বয়ং আল্লাহ্ তায়ালা নিজেই পবিত্র কুরআন এ নির্দেশ দিচ্ছেন যে কুরআন এবং হাদিস মেনে চলেই আমাদের জীবনকে পরিচালিত করতে হবে।

হাদীস অমান্য করলে যে পবিত্র কুরআনকেই অমান্য করা হয়।

রাসূল (সা:)কে ১) বিশ্বাস করা ২) সম্মান করা ৩) তাঁকে ভালবাসা ৪) শ্রদ্ধা করা ৫) তাঁকে মেনে চলা ইত্যাদি বিষয়ে পবিত্র কুরআনের আয়াত সমুহ নিম্নে উল্লেখিত হোল।
আল্লাহ্ তায়ালা এবং তাঁর প্রিয় রাসূলের আনুগত্যের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে যেভাবে বলা আছে...
৩ নং সূরা, সূরা আল ইমরান , আয়াত ৩১: আপনি বলে দিন: যদি আল্লাহ্ কে ভালবাস তবে আমার অনুসরন কর, তাহলে আল্লাহ্ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপ মাজর্না করে দেবেন। আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৩ নং সূরা, সূরা আল ইমরান , আয়াত ৩২: আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগত্য কর। যদি অবাধ্য হও তবে জেনে রেখ আল্লাহ্ কাফেরদের ভালবাসেন না।
৩ নং সূরা, সূরা আল ইমরান , আয়াত ১৩২: আনুগত্য কর আল্লাহ্ ও রাসূলের যেন অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা , আয়াত ১৩: এটা আল্লাহ্ র বিধান, আর যে আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার নিচ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। এটাই বড় সাফল্য!
৪ নং সূরা, সূরা নিসা , আয়াত ৫৯: হে মুমিনেরা তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল এবং তোমাদের মাঝে যে মীমাংসাকারী তার।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা , আয়াত ৬৯: আর যারা আনুগত্য করে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের তারা আল্লাহ্ র নিয়ামতপ্রাপ্ত হবে। যেমন- নবী, সত্যবাদী শহীদ ও নেককারদের সাথে অবস্থান করবে।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা , আয়াত ৮০: রাসূলের আনুগত্য করলে আল্লাহ্ র আনুগত্য হয়।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা, আয়াত ১৫০: নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্ ও রাসূলদেরকে অবিশ্বাস করে আর আল্লাহ্ ও রাসূলদের মধ্যে পাথর্ক্য করতে চায় এবং বলে কতককে বিশ্বাস করি আর কতককে করি অবিশ্বাস;আর তারা এর মাঝামাঝি এক পথ উদ্ভাবন করতে চায়।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা, আয়াত ১৫১: এরাই প্রকৃতপক্ষে কাফের। আর আমি কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
৪ নং সূরা, সূরা নিসা, আয়াত ১৫২: যারা ঈমান আনে আল্লাহ্ র প্রতি এবং তাঁর রাসূলদের প্রতি আর পাথর্ক্য করে না তাদের কারো মধ্যে, অচিরেই তিনি তাদের পুরুষ্কার দিবেন। আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৫ নং সূরা, সূরা মায়িদা, আয়াত ১৫: হে কিতাবের অনুসারীরা! তোমাদের কাছে আমার রাসূল এসেছেন, তিনি তোমাদের কাছে প্রকাশ করেন কিতাবের এমন অনেক কিছু যা তোমরা গোপন করতে এবং অনেক বিষয় উপেক্ষা করেন। তোমদের কাছে এসেছে আল্লাহ্ র তরফ থেকে এক জ্যোতি ও একটি সমুজ্জ্বল কিতাব।
৯ নং সূরা, সূরা তওবাহ্ , আয়াত ৭১: মুমিন নর নারী ১) একে অপরের বন্ধু। ২) তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় ৩) অসৎ কাজে নিষেধ করে ৪) আর নামায প্রতিষ্ঠা করে। ৪) যাকাত প্রদান করে ৫) আল্লাহ্ আর রাসূলের আনুগত্য করে । এদের প্রতিই আল্লাহ্ র রহমত অবশ্যই বষির্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ প্রতাপশালী।
যে কোন কিছু থেকে অনেক বেশী আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসার কথা পবিত্র কুরআনের
৯ নং সূরা, সূরা তওবাহ্, আয়াত ২৪ এ যেভাবে বলা আছে...
আয়াত ২৪: আপনি বলুন তোমাদের নিকট যদি ১) তোমাদের পিতা,২) তোমাদের সন্তান ৩) তোমাদের ভ্রাতা ৪) তোমাদের স্বগোষ্ঠী ৫) তোমাদের অজির্ত সম্পদ ৬) তোমাদের ব্যবসা যার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা কর ৭) তোমাদের প্রিয় বাসস্থান যদি আল্লাহ্, রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে বেশী প্রিয় হয় তবে আল্লাহ্ র বিধান আসা পযর্ন্ত অপেক্ষা কর।
২১ নং সূরা, সূরা আম্বিয়া , আয়াত ১০৭: আমিতো আপনাকে ঈমানদারদের জন্য রহমতস্বরুপ প্রেরন করেছি।
২৪ নং সূরা, সূরা নূর , আয়াত ৫২: আর যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে আল্লাহ্ কে ভয় করে এবং তাঁর বিরোধিতা হতে বিরত থাকে তারাই সফল।
২৪ নং সূরা, সূরা নূর , আয়াত ৫৪: আপনি বলুন, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের। মূখ ফিরালে তার ওপর তার দায়িত্ব, তোমাদের উপর তোমাদের দায়িত্ব। আনুগত্য করলে সুপথ পাবে। রাসূলের কাজ সুস্পস্ট বাণী পৌছানো।
২৪ নং সূরা, সূরা নূর , আয়াত ৫৬:আর তেআমরা নামাজ কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।
৩৩ নং সূরা, সূরা আহযাব , আয়াত ২১:তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও শেষ বিচারের দিনকে ভয় করে এবং যারা আল্লাহ্ কে অধিক পরিমানে স্মরন করে তাদের জন্য অবশ্যই উত্তম আদর্শ রয়েছে রাসূলুল্লাহ্ র মধ্যে।
৩৩ নং সূরা, সূরা আহযাব , আয়াত ৫৭: যারা আল্লাহ্ কে ও তাঁর রাসূলকে কস্ট দেয়, আল্লাহ্ অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়া আর আখিরাতে লা’নত করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।
৩৩ নং সূরা, সূরা আহযাব , আয়াত ৭১: তবে আল্লাহ্ তোমাদের কর্মসমুহকে সংশোধন করবেন, তোমাদের পাপ মোচন করবেন,যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে বড় সফলকাম।
৩৩ নং সূরা, সূরা আহযাব, আয়াত ৩৬: কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর এ অধিকার থাকে না যে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল কোন সিদ্ধান্ত প্রদান করলে সে প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করে। কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করলে সে তো প্রকাশ্য পথভ্রস্টতায় পতিত হয়।
৪৭ নং সূরা, সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ২: আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে এবং মুহাম্মদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তাতেও ঈমান এনেছে, আর তা-ই তাদের রবের তরফ থেকে প্রেরিত সত্য, আল্লাহ্ তাদের গুনাহ্ মাজর্না করবেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করবেন।
৪৮ নং সূরা, সূরা ফাতহ্, আয়াত ৮-১০ এ রাসূল (সা:) সম্বন্ধে যা বলা হয়েছে।
আয়াত ৮: আপনাকে (রাসূলকে) ১) সাক্ষী ২) সুসংবাদদাতা ৩) সতকর্কারীরুপে পাঠালাম।
আয়াত ৯: যেন আল্লাহ্ ও রাসূলে ঈমান আন, তাঁকে সাহায্য ও সম্মান কর। সকাল সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ পাঠ করো।
আয়াত ১০: নিশ্চয়ই যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহ্ র কাছেই আনুগত্যের শপথ গ্রহন করে। আল্লাহ‌র হাত তাদের হাতের উপর। যদি ভঙ্গ করে পরিনাম তাদেরই। যে আল্লাহ্ র সাথে প্রতিশ্রুত পূর্ন করে, তিনি তাকে পুরষ্কার দেন।
আল্লাহ্ র রাসূলকে সম্মান প্রদশর্ন করার ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের
৪৯ নং সূরা, সূরা হুজুরাত, আয়াত ১-৩ এ যেভাবে বলা আছে...
৪৯ নং সূরা, সূরা হুজুরাত, আয়াত ১: হে লোকেরা তোমরা যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রনী হয়ো না। আল্লাহ্ কে ভয় করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সবকিছু শুনেন, সব বিষয়ে সম্যক অবগত।
৪৯ নং সূরা, সূরা হুজুরাত, আয়াত ২: হে ঈমানদারেরা! তোমরা তোমাদের কন্ঠস্বরকে নবীর কন্ঠস্বরের ওপর উচু করো না। তোমরা একে অপরের ন্যায় উচ্চস্বরে কথা বলো না, এতে তোমাদের কর্ম তোমাদের অজান্তেই নিস্ফল হয়ে যাবে।
৪৯ নং সূরা, সূরা হুজুরাত, আয়াত ৩:নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্ র রাসূলের সামনে নিজেদের কন্ঠস্বর নিচু করে, আল্লাহ্ তাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্য বিশুদ্ধ করে দিয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে বিরাট ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।
৪৯ নং সূরা, সূরা হুজুরাত , আয়াত ১৫: প্রকৃত মুমিন তো তারাই, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ্ আর তাঁর রাসূলের প্রতি, পরে কখনও সন্দেহ করেনি এবং আল্লাহ্ র পথে নিজেদের ধন সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করেছে; তারাই সত্যবাদী লোক।
৫৭নং সূরা, সূরা হাদীদ, আয়াত ২৮: হে ঈমানদারেরা! তোমরা আল্লাহ্ কে ভয় করো এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন, তিনি স্বীয় দয়ায় দ্বিগুন পুরুষ্কার প্রদান করবেন এবং তোমাদের দান করবেন এমন নূর যা নিয়ে তোমরা চলাফেরা করবে আর তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু।
৫৯ নং সূরা, সূরা হাশর, আয়াত ৭: জনপদবাসীদের কাছ থেকে আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে যা দিয়েছেন তা আল্লাহ্ র, তাঁর রাসূলের, রাসূলের নিকট-আত্মীয়দের, ইয়াতীমদের, মীসকিনদের এবং মুসাফিরদের, যাতে ধন সম্পদ তোমাদের মাঝে যারা বিত্তশালী কেবল তাদের মধ্যে পুঞ্জীভুত না হয়। আর রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহন কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক; আর ভয় কর আল্লাহ্ কে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ কঠোর শাস্তিদাতা।
৬১ নং সূরা, সূরা ছোয়াফ,
আয়াত ১১: তোমরা ঈমান আনবে আল্লাহ্ র উপর ও তাঁর রাসূলের উপর এবং আল্লাহ্ র পথে তোমাদের জান এবং তোমাদের মাল দিয়ে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ।
আয়াত ১২: তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন।
৬৪ নং সূরা, সূরা তাগাবুন, আয়াত ১২: আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা মূখ ফিরিয়ে নাও তবে রাসূলের দায়িত্বতো শুধু কেবল স্পস্টভাবে প্রচার করা।





গতকাল রাতে আমি কোন টিভি চ্যানেল / নিউজ সাইট / ফেসবুক / অন্য কোন উপায়ে বাংলাদেশের খবর দেখিনি ।কারন ...............................

বিএনপির জন্য শোক করলাম । দলটা ভালোই ছিলো । কয়েকবার ক্ষমতায়ও এসেছিলো । আজ যদি বিএনপি থাকতো !?

বিএনপিকে প্রথমে ঘর থেকে রাস্তায় বের করে , তার পর চিনিয়ে নেয়া হয় তাদের স্বপ্ন গুলোকে ! একে একে চিনিয়ে নিতে নিতে আজ বিএনপিকে দেশের উদবাস্তুতে পরিনত করেছে ।
গতকাল থেকে আজ অব্দি আমি কোন বিএনপিকে খুঁজে পাচ্ছি না , আপনারা কি দেখেছেন কোন বিএনপিকে ?

কিছু নামধারী ছাত্রদল (দুর্বল মহিলা ) আছে যারা নিজেদের ইজ্জৎই ( ক্যাম্পাসে মিছিল করতে পারে না ) রক্ষা করতে পারছে না তারা আবার কি ভাবে বিএনপিকে বাঁচাবে ।

হায়রে ................. বিএনপি ! তোরা আজ বাকশালের বলি হয়ে গেলি ? আমি নিশ্চিত মেজর জিয়া বিএনপির এই পরিণতি কখনো আশাও করেননি । বাম পন্থি লোক গুলোকে দলে ডুকানোই আজকের বিএনপি গত হয়ে গেলো ।

সেই প্রথম , বদরুদ্দোজা চৌঃ থেকে শুরু হয়ে হুদা পর্যন্ত দলকে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছিলো , অবশ্য তারা কেউই সফল হতে পারে নি কিন্তু হুদারা যখন বাকশালের সাথে হাত মিলায় তখনই বিএনপি মৃত্যু হয় । এবং আজ বিএনপি নাই ।

কিন্তু আমরা আছি , আমরা যারা

বিএনপিকে সমর্থন করতাম । আমরা দেখেছি আমাদের নেতারা কিভাবে গ্রেফতার হচ্ছেন ,
আমরা কিন্তু কিচ্ছু বলিনি ! সবাইকে গ্রেফতার করা হলেও আমরা কিছু বলিনি । আমাদের মহাসচিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে , তাতে কি হয়েছে রাজনীতি করলে গ্রেফতার হবেই ।

হয়তো বিএনপি না থাকলে আমরা অন্য কোন দল করতাম / করবো , তাই বলে প্রতিবাদ করে জেলে যাবো কেন ?
রাজপথে বুলেট খাব কেন ?

যা হয় নেতাদের হবে , আমাদের কি ? আমরা আছি বেশ ভালোই আছি ! ! !!

এই রকম সুবিধাবাদী বিএনপি আমরা ।