মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৩

আল্লাহর সাহায্য তোমাদের জন্যই আসবে । তাই সবর এবং হেকমতের সাথে কাজ করো , ইনশাআল্লাহ বিজয় তোমাদের সুনিশ্চিত ।
হঠাৎ মোবাইলটা বেজে উঠলো ।
হাতে নিয়ে দেখি আমার অনেক পুরনো এক বন্ধুর ফোন ।
সালাম দিয়ে ভালোমন্দ জিজ্ঞাসা করতেই আমাকে উল্টো প্রশ্ন করলো , তোদের কি অবস্থা আগে সেটাই বল ?

আমি বললাম আলহামদুলিল্লাহ ভাল । দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নাস্তিকদের উৎপাত নিয়ে একটু চিন্তায় আছি । আমাদের অনেক ভাই শহীদ হয়েছেন , অনেকেই আহত হয়েছেন এবং আরও অনেকেই এখনো নিখোঁজ আছে তাই মনটা ভাল না ।

কিন্তু তাঁর পাল্টা উত্তর , আমি মনে করি ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে নাস্তিকদের  ইসলাম বিরোধিতা  এবং এতে সরকারের সমর্থনে ইসলামেরই বিশেষ করে ইসলামী দল গুলোরই বেশী লাভ হচ্ছে । আর শহীদদের কথা বলছো ? আল্লাহর রাসুলের রক্ত ঝরেছিল , সাহাবীরা শহীদ হয়েছেন । তোমরা কেন শহীদ হবে না ?তোমাদের রক্ত কেন ঝরবে না ?
 একটা কথা মনে রাখবা তোমাদের শহীদরাই তোমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ । মানে আরও অনেকে শহীদ হলেও আফসোসের কিছু নেই ।কারন এর প্রতিদান যে কত উঁচু তা হয়তো আমাদের সকলেরই ধারণার বাহিরে ।

আমি অবাক হয়ে শুনছিলাম ........................

সে আমাকে বলল , রাসুল (সা) যখন নবুয়ত পেলেন তখন তিনি কি সর্বপ্রথম দাওয়াত শুরু করেছিলেন নাকি প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছিলেন ?

নবুয়তের প্রাপ্তের পরে রাসুল(সা) ভাবছিলেন কি করে এই দাওয়াত মানুষের কাছে পৌছাবেন । কার কাছে , কিভাবে এই দাওয়াত দেবেন  ...

রাসুল(সা) ভাবলেন আর আল্লাহর সাহায্য এসে গেলো

 দেখুন , রাসুল(সা) মসজিদে নববীতে বসে যখন কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন তখন সেটা মুশরিক নেতা আবু জেহেল শুনতে পেলেন , এবং শুনার পর সে ভাবলো , এই কথা গুলো যদি মুহাম্মদ( সা) প্রচার করে তবে কেউ আমাদেরকে মানবে না এবং আমাদের বাপ-দাদাদের ধর্ম ত্যাগ করে মুহাম্মদের অনুসারী হয়ে যাবে । তাই ভাতিজা মুহাম্মদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে ।

আবু জেহেল তার অধীনস্ত সকল গোত্রের কাছে গিয়ে বলতে শুরু করলেন , আমার ভাতিজা মুহাম্মদ পাগল হয়ে গেছে (নাউযুবিল্লাহ) । তোমরা ওর কোন কথা বিশ্বাস করিও না । একে একে সকল কওমকে এই বার্তা শুনিয়ে দিলেন যাতে কেউ মুহাম্মদ(সা) কে বিশ্বাস না করে ।

সবার পছন্দের ব্যাক্তি আল আমিন খ্যাত মুহাম্মদ(সা) কে পাগল হতে শুনে সবাই তাকে দেখতে এবং তাঁর কথা শুনতে ছুটে গেলেন মুহাম্মদ(সা) এর কাছে । মুহাম্মদ (সা) তখনও কুরানের তেলাওয়াত করে যাচ্ছেন । সবাই তেলাওয়াত শুনে অবাক হয়ে বলতে লাগলেন এটা তো কোন মানুষের কথা হতে পারে না ।

তবে এই কথা গুলো কার ?

তখন মুহাম্মদ(সা) তাদের কে দাওয়াত দিতে শুরু করেন এবং সকলে ইসলামের ছায়াতলে ধীরে ধীরে অংশ গ্রহন করতে লাগলো । 


দেখেন আজকের প্রেক্ষাপটে শাহবাগের নাস্তিকরা তোমাদের বিরুদ্ধে এবং ইসলাম ও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা , বেহায়াপনা -উলঙ্গপনা করে , মিথ্যাচার চালিয়ে মূলত দেশের ১৬ কোটি মানুষের দৃষ্টি আপনাদের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন ।
যেটা আবু জেহেলের মিথ্যা প্রোপাগান্ডার মতোই উল্টো কাজ করছে । হেফাজতে ইসলাম আজ বাংলাদেশের মুসলমানদের নিয়ে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে । সাধারন মুসলিমরাও তোমাদের জানতে চাইছে ।

আল্লাহর সাহায্য তোমাদের জন্যই আসবে । তাই সবর এবং হেকমতের সাথে কাজ করো , ইনশাআল্লাহ বিজয় তোমাদের সুনিশ্চিত । 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন