**আমরা কি এতই স্বার্থপর !!!**


রাতের বেলায় সংগঠনের কয়েকজন ভাইকে নিয়ে এক জায়গায় দাওয়াত খেতে গেলাম । কথা হচ্ছিল দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি-ইসলামী আন্দোলনের অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে । চরম আড্ডা চলছিল ; আড্ডার এক পর্যায়ে খাবার এসে হাযির হল । চাইনিজ,ফ্রাই,কারি,সালাদ কি নেই আইটেমের তালিকায় । সবই আমার অনেক পছন্দের খাবার । জিভে লোল এসে গিয়েছিল , মুখে দিতে যাব – এমন সময়ে এমন একজনের কথা মনে হল যার চিন্তাটা মাথায় আসার সাথে সাথে সব কিছু যেন স্স্থবির হয়ে গেল । হাত দুটি একটুও নড়াতে পারছিলাম না । গলা প্রবলভাবে ধরে আসছিল। পর মুহূর্তে বুঝতে পারলাম , পেট থেকে কর্পূরের মতই খিদে নামক জিনিসটি উধাও হয়ে গেছে । শেষ পর্যন্ত আর খেতে পারি নি । নিজেকে ধিক্কার দিতে দিতে চলে এসেছিলাম সেখান থেকে ।
আমার তখন কার কথা মনে পড়েছিল জানেন ?? মাহমুদুর রহমান নামক একজন মুজাহিদের কথা , যাকে আমরা সবাই বাংলার আরেকজন বাঘ আখ্যা দিয়েছি । এই ঘটনার পর কেউ কেউ হয়তো আমাকে অতি আবেগি বলবেন । কিন্তু সত্যি কথা কি জানেন , এই দেশ থেকে যখন ইসলামকে সমূলে উতপাটনের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চলছিল , ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের যখন নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে মারা হচ্ছিল – আর আমরা যখন খাদের কিনার থেকে অসহায়ের মত চেয়ে চেয়ে আমাদের এই ধ্বংস দেখছিলাম , তখন নির্ভীক এই মুজাহিদই ভয়ংকর স্রোতের বিরুদ্ধে একলা দাড়িয়ে গিয়েছিলেন । কলমকে ড্রাম মেশিনগান বানিয়ে বুক সামনে পেতে দিয়ে একহাত দিয়ে শত্রুপক্ষের দিকে একের পর এক গুলির বন্যা ছুটিয়েছিলেন আর আরেক হাত দিয়ে খাদের কিনার থেকে তুলে এনেছিলেন আমাদের । কিন্তু তিনি নিজে হয়ে গেলেন অরক্ষিত । শত্রুপক্ষের এক ঝাঁক শকুন এসে ঘিরে ফেলল তাকে ।
কি অবস্থা এখন সেই মুজাহিদের ? তিনি এখন হাসপাতালের কামরায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন । কিছুই খাচ্ছেন না এখন । একটি মুহূর্ত পাড় করতেও সংগ্রাম করতে হচ্ছে তার ।
আর নিজের জীবন বিপন্ন করে যাদের বাচালেন তারা ? কই তাদের তো হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে হচ্ছে না ! তাদের তো সময়টা দিব্যি কেটে যাচ্ছে ! খাবারের কোন সমস্যা তো তাদের হচ্ছে না , আমার মত স্বার্থপররা তো এখনও চাইনিজ-ফ্রাই খেয়েই চলছেন আর নিজেদের ইসলামী আন্দলনের কর্মী দাবী করে আরামসে ঢেঁকুর তুলছেন ।
আল্লাহর কাছে শুধু দোয়া করি ইয়া আল্লাহ , বাংলার এই জমিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসী মানুষের বড় আকাল । তবুও যে কয়েকজন আছে তারা তোমার উপরে ভরসা করে নির্ভয়ে লড়ে যাচ্ছে । জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই যখন তুঙ্গে , তখন তোমার কাছে একটাই দাবী – তোমার এই সাহসী বান্দাগুলোকে এতো আগেই তুলে নিয়ে যেও না আল্লাহ । তাদেরকে আবার আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দাও ইয়া আল্লাহ । কথা দিচ্ছি তাদের পিছনে থেকে হলেও এই জমিনে ইসলামের পতাকা উড্ডয়নের জন্য আমৃত্যু লড়াই করে যাব , ইনশাআল্লাহ ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন