রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

কারা বাসে আগুন দেয় ?

 কারা বাসে আগুন দেয়?

জানতে হলে পুরো প্রতিবেনটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন..............হরতাল, অবরোধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গত এক বছরে সারা দেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ৩২টি বাস ও দুটি ট্রাকে আগুন দেয়া হয়। এগুলোর বেশির ভাগই পোড়ানো হয় সংস্থাটির নিজস্ব ডিপোতেই। এছাড়া ভিন্ন রুটে চালাতে গিয়েও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিআরটিসির নিজস্ব শ্রমিক-কর্মীদের সহায়তা ছাড়া অগ্নিসংযোগের এসব ঘটনা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এর প্রমাণও মিলছে। এজন্য বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত শুরু করছে বিআরটিসি।

বিআরটিসির তথ্যমতে, গত ২৯ অক্টোবর হরতালের আগের দিন গভীর রাতে গাবতলী বাস ডিপোয় একটি দ্বিতল বাসে আগুন দেয়া হয়। ক্রমে তা ছয়টি বাসে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুটি দ্বিতল বাস পুরোপুরি পুড়ে যায়। অন্য চারটি বাসও বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়। এ সময় ডিপোয় শ্রমিক-কর্মীরা বাস মেরামতের দায়িত্বে থাকলেও কেউ আগুন নেভানোর চেষ্টা করেননি।
বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিআরটিসির বাসে আগুন দেয়া অবশ্যই পূর্বপরিকল্পিত। এর সঙ্গে সংস্থার কর্মীরা জড়িত থাকতে পারেন। কারণ গাবতলী ডিপোর দেয়াল বেশ উঁচু। ওই দেয়াল টপকে ডিপোয় ঢুকে সাধারণ মানুষের পক্ষে বাসে আগুন দেয়া সম্ভব নয়। আর বাইরে থেকে বোমা ছুড়ে পরিকল্পিতভাবে এসব বাসে আগুন লাগানোও সম্ভব নয়।
এ প্রসঙ্গে বিআরটিসির পরিচালক (কারিগরি) কর্নেল মো. আবদুল্লাহিল করিম বলেন, গাবতলী ডিপোয় সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে বিআরটিসির কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশও একই ধরনের কথা জানায়। এজন্য বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিআরটিসির কর্মীরা জড়িত থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কমলাপুর ডিপো থেকে ঢাকা-নরসিংদী রুটে চলা একটি একতলা (চীনা) বাস হঠাৎ ৭ নভেম্বর রাজধানীর আজিমপুর আনা হয়। বাসটি ঘোরানোর জন্য প্রধান সড়ক ছেড়ে আজিমপুর কবরস্থানের কাছে সরু সড়কে নেয়া হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা এতে আগুন দেয়। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে বিআরটিসিকে অবহিত করে পুলিশ। চালক পলাতক থাকায় ঘটনাটির তদন্ত সম্পন্ন করতে পারেনি বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কাছে একটি দ্বিতল বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হলে তাতে আগুন দেয়া হয়। বাসটি খালি ছিল। বাসস্ট্যান্ড না হওয়ায় ওই স্থানে কোনো যাত্রী ওঠানামা করছিল না বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানান। এছাড়া চালক ও হেলপার বাসটির আগুন নেভানোর কোনো চেষ্টা করেননি। ফলে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই বাসটি পুরোপুরি পুড়ে যায়।
নভেম্বরের শুরুর দিকে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ইজারা দেয়া পুরনো দ্বিতল বাসে আগুন দেয়া হয়। এছাড়া গত ২৯ নভেম্বর মিরপুর বাঙ্লা কলেজের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা অন্য একটি পুরনো দ্বিতল বাসে আগুন দেয়া হয়। কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াই বাস দুটিতে আগুন দেয়াকেও পরিকল্পিত নাশকতা বলে মনে করছে বিআরটিসি।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে জোয়ারসাহারা ডিপোয় নতুন একটি দ্বিতল বাস আগুনে পুড়ে যায়। ওই মাসে রংপুর ডিপোয় নতুন একটি দ্বিতল ও একটি পুরনো একতলা বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বাস দুটি পুড়ে অচল হয়ে যায়। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে দুটি বাস আগুনে পুড়ে অচল হয়ে যায়। প্রতিটি ঘটনাই দিনের বেলায় ও বিআরটিসির ডিপোর ভেতরে ঘটে। বাইরে থেকে এসে হঠাৎ দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে বাসগুলো পুড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ডিপো ম্যানেজাররা জানালেও সে যুক্তি গ্রহণ করেনি বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, বিআরটিসি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা তদন্ত কারা বাসে আগুন দেয়শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির শ্রমিক-কর্মীরা জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহ করা হলেও তারা কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে বিআরটিসি। এছাড়া সংস্থাটির বিভিন্ন ডিপো ম্যানেজারকে সম্প্রতি রদবদল করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচির দিনগুলোয় ভারত থেকে কেনা নতুন বাস ও কোরিয়া থেকে কেনা এসি ও নন-এসি বাস বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিআরটিসির পরিচালক (অপারেশন) নিখিল রঞ্জন রায় বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে নতুন বাস কেনা হলেও নতুন জনবল নিয়োগ করা হয়নি। বেশির ভাগ বাসই দৈনিক মজুরিভিত্তিক অস্থায়ী চালক ও হেলপার দিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে নাশকতার ঘটনার সঙ্গে বিআরটিসির কর্মীরা জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে বিআরটিসির কর্মী জড়িত নাও থাকতে পারে। পাশাপাশি এসব ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন