সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৩


আবদুল কাদের মোল্লার রায়
ট্রাইব্যুনাল ও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে সংরক্ষিত মোমেনা বেগমের সাক্ষ্যে বৈপরীত্য

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসালামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে একটি অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অভিযোগটি হল মিরপুরে কালাপানি লেনে হযরত আলী, তার ছেলে, মেয়ে, স্ত্রীকে হত্যা ও মেয়েদের ধর্ষর্ণের ঘটনা।

ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগে আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছিলেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ট্রাইব্যুালের এ যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

হযরত আলী পরিবার হত্যার ঘটনায় বেঁচে যায় হযরত আলী লস্করের বড় মেয়ে মোমেনা বেগম এবং এ হত্যার ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষের একমাত্র সাক্ষী মোমেনা বেগম। মোমেনা বেগম ট্রাইব্যুনালে তার সাক্ষ্যে তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা এবং তার বোনকে ধর্ষণের বিবরণ দিয়েছেন।

হযরত আলী লস্করের পরিবারের হত্যার এ ঘটনার বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে। হযরত আলী লস্করের মেয়ে মোমেনা বেগমের সাক্ষাতের ভিত্তিতে ২০০৭ সালে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কর্তৃপক্ষ এ প্রতিবেদন তৈরি করেছিল।

এই প্রতিবেদনে দেখা যায় মোমেনা বেগম ট্রাইব্যুনালে তাদের পরিবারের হত্যাকাণ্ড বিষয়ে যে বিবরণ দিয়েছেন তার সাথে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী তথ্য রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে সংরক্ষিত প্রতিবেদনে। যেমন ট্রাইব্যুনালে মোমেনা বেগম বলেছেন ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনা দেখেছেন।

অথচ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে তার বরাত দিয়ে তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দুই দিন আগে মোমেনা বেগম তার শ্বশুরবাড়ি চলে যাওয়ায় প্রানে বেঁচে যান।

তাছাড়া ট্রাইব্যুনালে মোমেনা বেগম বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় কাদের মোল্লা ঘটনাস্থলে ছিলেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে রক্ষিত প্রতিবেদনে কাদের মোল্লার নাম নেই।

যে হযরত আলী লস্করের পরিবার হত্যার ঘটনায় আবদুল কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, হযরত আলীর বেঁচে যাওয়া একমাত্র মেয়ে মোমেনা বেগমের বরাত দিয়েই সে ঘটনার বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে প্রতিবেদন আকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে জাদুঘরে। প্রতিবেদনের সাথে মোমেনা বেগমের একটি ছবিও সেখানে সংযুক্ত রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ যাদু ঘরে সংরক্ষিত মোমেনার বিবরণ

১৯৭১ সালে মিরপুরের কালাপানি এলাকায় বিহারিদের সাথে কিছু বাঙালি পরিবারও বাস করতো। ৭ মার্চের পর থেকে দেশের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কিছু কিছু বাঙালি পরিবার এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। অনেকের অন্যত্র যাওয়ার অবস্থা ছিল না, ফলে ওই এলাকায় রয়ে যান। যে কয়েকটি পরিবার অন্যত্র যেতে পারলেন না তাদের মধ্যে একটি হযরত আলী লস্করের পরিবার।

হযরত আলী লস্কর ছিলেন একজন দর্জি। মিরপুরেই তার দোকান ছিল। সবাই যখন এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন তখন হযরত আলী লস্করকেও তারা চলে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু তার যাওয়ার জায়গা ছিল না।

২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু হয়ে গেলে ২৬ মার্চ সকাল সাতটার দিকে বিহারিরা হযরত আলী লস্করের বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং তাকে ধরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই তারা তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও শিশু ছেলেকে ধরে নিয়ে যায় এবং সবাইকে এক সাথে নির্মমভাবে হত্যা করে পাশের বাড়ির কূয়োতে সব লাশ ফেলে যায়।

বিহারিরা তার দ্বিতীয় মেয়ে আমেনা বেগমকে ঘরের ভেতর সারাদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। পরে তাকেও হত্যা করে সেই কূয়োতে ফেলে। হযরত আলীর বড় মেয়ে মোমেনা বেগম মাত্র দুইদিন আগে শ্বশুরবাড়িতে চলে যাওয়ায় একমাত্র সেই প্রানে বেঁচে যায়। হযরত আলী স্ত্রী সে সময় অন্তঃসত্বা ছিলেন।

কয়েকদিন পরই এ খবর হযরত আলীর বড় মেয়ে মোমেনা বেগম জানতে পারেন। কিন্তু মিরপুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তিনি বাড়ি আসতে পারলেন না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজ বাড়িতে এসে তিনি আর কিছুই অবশিষ্ট পেলেন না। ভগ্নহৃদয়ে ফিরে গেলেন শ্বশুরবাড়িতে।

জাদুঘরে সংরক্ষিত বিবরণে আরো জানা যায়, মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত পাম্প হাউজে এনে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিহারীরা বাঙ্গালীদের হত্যা করত। হত্যার পর তাদের লাশ ফেলে দিত পানির ট্যাংকি এবং পাশের ডোবায়।

১৯৯০ দশকে এখানকার বধ্যভূমিটি আবিষ্কার করা হয় এবং অসংখ্য শহীদদের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এরপর পাম্প হাউজটিকে জল্লাদখানা যাদুঘর করা হয় এবং এটি বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের অংশ।

জল্লাদখানায় ১৯৭১ সালে যাদের হত্যা করা হয়েছে যাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবারের অনেক আত্মীয় স্বজনকে খুঁজে বের করে বিভিন্ন সময়ে তাদের সাক্ষাতকার ও বক্তব্য রেকর্ড করে তা যাদুঘরে সংরক্ষণ করেছেন।

শহীদ পরিবারের আত্মীয় স্বজনদের সাক্ষাতকার, লিখিত বক্তব্যের মূল কপি ও অডিও ভিডিও বক্তব্য সংরক্ষিত আছে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে। এছাড়া লিখিত বক্তব্যের ডুপ্লিকেট কপি সংরক্ষিত আছে মিরপুর জল্লাদখানা যাদুঘরে।

ট্রাইব্যুনালে মোমেনা বেগমের সাক্ষ্য

ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে (রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার পরিচালনা) মোমেনা বেগমের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় ট্রাইব্যুনালে। ফলে সেসময় মোমেনা বেগমের সাক্ষ্য সংবাদ মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশিত হয়নি। তবে মোমেনা বেগম ট্রাইব্যুনালে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তা আবদুল কাদের মোল্লার রায়ে বর্ণনা করা হয়েছে বিস্তারিতভাবে।

ট্রাইব্যুনালে মোমেনা বেগমের সাক্ষ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঘটনা ঘটে। মোমেনা বেগমরা তখন মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ৫নং কালাপানি লেনে ২১ নম্বর বাসায় থাকতেন। মোমেনা বেগম ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়ে ঘটনার বিষয়ে বলেন, সন্ধ্যায় তার বাবা হযরত আলী হন্তদন্ত হয়ে ঘরে আসলেন এবং বললেন কাদের মোল্লা তাকে মেরে ফেলবে। কাদের মোল্লা এবং তার বিহারী সাগরেদ আক্তার গুণ্ডা তার বাবাকে হত্যার জন্য ধাওয়া করছে। তার বাবা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন।

এরপর তারা বাইরে বোমা ফাটাল। দরজা খোলার জন্য গালাগাল করল। তার মা দা হাতে নিয়ে দরজা খুললেন। তারা ঘরে ঢুকে গুলি করে হত্যা করল তার মাকে। কাদের মোল্লা তার বাবাকে কলার ধরে টেনে বাইরে নিয়ে গেল। তার সঙ্গীরা তার বোন খাদিজা এবং তাসলিমার গলা কাটল। দুই বছরের ভাইকে আছড়িয়ে হত্যা করে।

মোমেনা জানান, তিনি এবং তার ১১ বছরের অপর বোন আমেনা খাটের নিচে আশ্রয় নেয়। আমেনা ভয়ে চিৎকার দেয়ায় তাকে খাটের নিচ থেকে টেনে বের করে জামাকাপড় ছিড়ে ফেলে এবং এক পর্যায়ে তার কান্না থেমে যায়।

পরে তাকেও টেনে বের করে এবং ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে সে জ্ঞান হারায় এবং জ্ঞান ফিরে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে। তার পরনের প্যান্ট ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পান তিনি। পরে এক ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং তাদের সেবার মাধ্যমে কিছুটা সুস্থ হন। তার শ্বশুর খবর পেয়ে তাকে এসে নিয়ে যান।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে মোমেনা বেগমের সাক্ষ্যের বরাত দিয়ে তাদের পরিবারের ঘটনার যে বর্ণনা করা হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত চিত্র এটি।

ট্রাইব্যুনাল এবং মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে রক্ষিত ডকুমেন্টের বৈপরীত্য

ট্রাইব্যুনালে মোমেনা বেগমের সাক্ষ্য এবং মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে সংরক্ষিত প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী তথ্য রয়েছে।

যেমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী মোমেনা বেগম তার সাক্ষ্যে বলেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। খাটের নিচে লুকিয়ে থেকে পরিবারের সদস্যদের হত্যা এবং তার বোনকে ধর্ষণের ঘটনা দেখেছেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেও ধর্ষণের শিকার হন এবং পরে অচেতন হয়ে পড়েন।

অপরদিকে, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে রক্ষিত প্রতিবেদনে দেখা যায় মোমেনা বেগম ঘটনার দুই দিন আগে তার শ্বশুর বাড়িতে চলে যান। ফলে তিনি প্রানে বেঁচে যান এ ঘটনা থেকে।

মোমেনা বেগমের সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কর্তৃপক্ষের তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মোমেনা বেগম তাদের পরিবারের হত্যার জন্য বিহারীদের দায়ী করেছেন।

সেখানে কাদের মোল্লার কোন নাম গন্ধই নেই। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে মোমেনা বেগম তার জবানবন্দিতে বলছেন আবদুল কাদের মোল্লার উপস্থিতিতে এবং নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। কাদের মোল্লা এবং আক্তার গুণ্ডা তার বাবাকে ধাওয়া করে ঘর পর্যন্ত নিয়ে আসে। এরপর ঘরে ঢুকে তার বাবাকে শার্টের কলার ধরে বাইরে নিয়ে যায়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একজনমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী জীবিত সাক্ষী এবং ক্ষতিগ্রস্ত হলেন মোমেনা বেগম। তার সাক্ষ্যকে পাশ কাটানো যায়না বা সন্দেহ করা যায়না।

আপিল বিভাগের রায়ে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) তার রায়ে লিখেছেন মোমেনা বেগম প্রাকৃতিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। বর্বরোচিত এ ঘটনায় তিনি তার পরিবারের সব সদস্যদের হারিয়েছেন। তাকে আসামিপক্ষ বিস্তারিতভাবে জেরা করেছে। কিন্তু তার বর্ণিত ঘটনা এবং যেভাবে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন তাকে আসামিপক্ষ দুর্বল করতে পারেনি।

আসামিপক্ষের দাবি

মোমেনা বেগমকে জেরার সময় আসামিপক্ষ দাবি করেছিলেন ট্রাইব্যুনালে মোমেনা বেগম নামে যাকে হাজির করা হয়েছে তিনি আসল মোমেনা নন। আসামিপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তখন তাদের কাছে এ দাবির পক্ষে ডকুমেন্ট ছিলনা। মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের কাছে রক্ষিত হযরত আলী পরিবারের হত্যার বিবরণ বেশ পরে তারা সংগ্রহ করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেন।

এ ডকুমেন্ট ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়ার পর ট্রাইব্যুনাল তখন তা নথিভুক্ত করে জানিয়েছিলেন বিষয়টি তারা রায়ের সময় বিবেচনা করবেন। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে এ ডকুমেন্ট বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

আপিল শুনানীর সময়ও তারা এই ডকুমেন্টটি জমা দিলে আপিল বিভাগ থেকে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা জানতে চান এ রিপোর্ট যাদুঘরের কাছ থেকে কিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে সে মর্মে কোনো রেকর্ড আছে কি না এবং কে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাকে তাকে হাজির করা হয়েছিল কি না।

আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক এ প্রশ্নের জবাবে তখন আদালতকে বলেন, আমরা দাবি করছি আমরা যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি সেটি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এখন মাননীয় আদালত চাইলে এর সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে পারেন।

তিনি বলেন, আদালত ইচ্ছা করলে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাউকে এখানে ডেকে জানতে চাইতে পারেন তাদের কাছে এ ধরনের কোনো ডকুমেন্ট বা প্রতিবেদন আছে কি না । তাহলেই প্রমান হয়ে যাবে আমাদের দাবি সত্য কি না।

আবদুল কাদের মোল্লাকে মোট ছয়টি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় এবং এর মধ্যে পাঁচটি অভিযোগে দণ্ড দেয়া হয় তাকে। হযরত আলী হত্যা ঘটনাটি ছিল ৬ নম্বর অভিযোগ এবং এ অভিযোগসহ আরো একটি অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

হযরত আলী আওয়ামী লীগ করার কারণে এবং স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে আবদুল কাদের মোল্লা বিহারী এবং পাকিস্তানি সেনাদের সাথে নিয়ে তাকেসহ পরিবারের লোকজনকে হত্যা করে মর্মে অভিযোগ করা হয় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে।

দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৫ ফেব্রুয়ারি আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ছয়টি অভিযোগ এনেছিল। ছয়টি অভিযোগের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল আবদুল কাদের মোল্লাকে দুইটি অভিযোগে যাবজ্জীবন, তিনটি অভিযোগে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেন। একই সাথে একটি অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আপিল শুনানী শেষে আবদুল কাদের মোল্লাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন।

http://www.timenewsbd.com/law---court/2013/12/09/18815#sthash.1EdJ02xW.dpuf

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন