তথ্য সন্ত্রাসের শিকার ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন
-মুহাম্মদ আবদুল জব্বার
//চব্বিশ//
করনীয় প্রস্তাবনাঃ পাহাড়সম অপপ্রচারকে মাড়িয়ে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। সত্যকে মিথ্যার আস্তরন থেকে ছেঁকে বের করে সত্যাশ্রয়ী সমাজ ব্যবস্থা কা
য়েমের প্রত্যয়ে যুগপযোগী কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে। হতাশার সাগরে নিরন্তর গা ভাসিয়ে দেয়ার পরিবর্তে আশাবাদী নাবিকের মত তীরে পাড়ি জমানোর অপ্রতিরোধ্য মিশনই কেবল মিথ্যার কালো মেঘে ঢাকা একটি সমাজের পরিত্রান নিশ্চিত করতে পারে। যেখানে নিশ্চিত ভাবে বুলন্দ আওয়াজ ধ্বনিত হবে- সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত, সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভয়াবহ তথ্য সন্ত্রাসের মুখোশ মানবতার সামনে দিনের আলোর মত স্পষ্ঠ করার জন্য বহুমূখী পরিকল্পনা উম্মাহর নেতৃবৃন্দকে গ্রহণ করতে হবে। অতীব জরুরী কিছু করণীয় বিষয়ে যৎসামান্য আলোকপাত করা হল।
(ক) ধর্মীয় ও জাগতিক শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ঃ অধিকাংশ ধর্মেরই ভিত্তি ছিল ওহীভিত্তিক। ধর্মের ধারক বাহকরা নিজদের প্রয়োজন মত ওহীর অনেক নির্দেশকে ওলট-পালট করে ফেলে। যেমন: তাওরাত, ইঞ্জিল, জবুর ইত্যাদি। শুধুমাত্র কুরআন ব্যতিক্রম। কুরআনের রূপকেও পরিবর্তনের জন্য যুগে যুগে খোদাদ্রোহীরা যারপরনাই চেষ্ঠা করেছে। কিন্তু এটি সংরক্ষনের জন্য আল্লাহ এক অনন্য ব্যবস্থাপনা রাসুল (সঃ) কে শিক্ষা দিলেন। রাসুল (সঃ) নিজে কুরআন মুখস্ত রাখতেন সাহাবীদেরকেও মুখস্ত করতে বলতেন। এভাবে লক্ষ লক্ষ হাফেজে কুরআন ধারাবাহিক ভাবে কুরআন বুকে ধারণ করে রাখল। পৃথিবী যত দিন রবে লক্ষ কোটি মুমিনের হৃদয়ে মহাগ্রন্থ আল কুরআন ততদিন সংরক্ষিত থাকবে। মানুষের মন মনন স্বাভাবিক ভাবে ইন্দ্রিয় কর্তৃক পরিচালিত হলে সমাজ জীবনে কল্যাণ সাধনের পরিবর্তে অকল্যানই অধিক পরিমানে সংঘটিত হয়। তাই ব্যক্তির ইন্দ্রিয়শক্তিকে পুরোদমে নিজের ও মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করে স্রষ্ঠার সৃষ্ঠির উদ্দেশ্যকে যথার্থ সার্থক করার জন্য সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে ওহি নামক যে গাইড লাইন দেয়া হয়েছে তার শিক্ষা মানুষের জন্য অতীব জরুরী। তাই সমাজের পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তা ব্যক্তিরা যদি মানবতার জন্য অপরিহার্য এই বিষয় সম্বন্ধে অবহেলা প্রদর্শন করে ধর্মীয় শিক্ষাকে জাতির চলার পথে অন্তরায় মনে করে তখন যারা সত্যগ্রাহী পথের পরিচালক তাদের সহায় সম্বল যা আছে তা নিয়েই বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে জাগতিক শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি ধর্র্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাও চালু করার উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানিক ও ঘরোয়া ভাবে ব্যাপক ভিত্তিক এর চর্চা হতে পারে। ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাই ব্যক্তির মনে হিতাহত জ্ঞান প্রদান করে ভাল-মন্দের ফারাক মালুম করতে ও রাষ্ট্র-সমাজ-ব্যক্তি জীবনে প্রকৃত সুখ-শান্তি-স্বস্থি-আস্থা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মহানায়কের ভুমিকা পালন করে। ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বেড়ে উঠা মানুষগুলো কখনো মিথ্যাচারের সাগরে নিজেদেরকে ভাসিয়ে দিতে পারেনা। নিজের ক্ষতির কথা নিয়ে তারা যা ভাবে ঠিক অন্যের ক্ষতি নিয়েও অনুরুপ ভাবতে শিখে। তাই এর গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে ব্যাপক সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
(খ) শক্তিশালী মিডিয়া প্রতিষ্টা করাঃ মিডিয়া বলতে বর্তমান সময়ে ইলেট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়াকেই ধরা হয়। মিডিয়ার কারিশমার কথা পূর্বের আলোচনায় যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। মিডিয়ায় অখ্যাতকে বিখ্যাত করার তীব্র প্রতিয়োগীতা অব্যাহত রয়েছে। এর বিপরীতে যে মিডিয়া তৈরী হবে সেখানে বিখ্যাতকে বিখ্যাত হিসাবে এবং কুখ্যাতকে কুখ্যাত হিসাবেই উপস্থাপন করবে। যেখানে যা তাই প্রকাশ করবে দ্বিধাহীন চিত্তে। সংবাদ মাধ্যমগুলোর সিংহভাগ মালিকানা ইহুদী খৃষ্ঠানদের হাতে। তারা এসব গণমাধ্যমে যথেচ্ছা ব্যবহার করছে ইসলামের বিরুদ্ধে। তাই এর বিপরীতে অপপ্রচারের যথার্থ জবাব দেওয়ার জন্য ও ইসলামের সুমহান সৌন্দর্য্য জনগনের সামনে উপস্থাপনের জন্য ঐসব গণমাধ্যমের চাইতে আরো বেশী শক্তিশালী গণমাধ্যম তৈরী করতে হবে। যার শক্তির উৎসই হবে সত্য। বিশ্ববাসী ভালভাবেই জানে- CNN, BBC, VOA, রয়টারস, এএফপির মত মিডিয়া কোন মহলের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কাজ করে। কিন্তু মুসলমানদের কাছে সত্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য তো বিকল্প কোন মাধ্যম নেই। এটি অনেক ব্যায়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং কাজ হলেও উম্মাহর প্রয়োজনে এটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা অতি জরুরী। সংবাদকর্মীরা তা করতে বাধ্য যা মিডিয়ার মালিকরা নির্দেশ করেন। তাই মালিকানা যার হাতে প্রচার দৃষ্ঠিভঙ্গি তার হাতে। Peace TV একটি কেন! শত শত Peace TV তৈরী সক্ষমতা মুসলমানরা রাখে। এর বাস্তবায়ন যত দেরী হবে তত বেশী ইসলামপন্থীদের তথ্য সন্ত্রাসের ভয়াবহ দংশনে কাতরাতে হবে।
(গ) তথ্য প্রযুক্তি কারিগর তৈরীঃ তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। আল কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান। কুরআন আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে মানবজাতির উৎকর্ষতার জন্য সব ইউনিক বিষয়েরই নির্দেশনা দিয়েছে। যা বর্তমান কালে বিজ্ঞানীরা নতুন করে কিছু আবিস্কারের পর তারা বিস্মিত হচ্ছে। কারণ আল কুরআনে এর বর্ননা ও নির্দেশনা অনেক আগেই দেয়া হয়েছিল। সুতরাং যে সকল বিজ্ঞানী অজ্ঞতাপ্রসূত মনে করেন কোরআন বিজ্ঞানশূণ্য, প্রকৃতপক্ষে কোরআনকে তারা বুঝতে সক্ষমতা লাভ করেনি। তাই ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ এ সমাজ ব্যবস্থায় কুরআন থেকেই আমাদের সমস্যার সমাধান খুজে বের করতে হবে। অসত্য ও মেকি মুখরোচক তথ্য যখন সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত অশান্তির দাবানল বাড়িয়েই চলছে, এ সময় যারা তথ্য প্রবাহের কাজের সাথে জড়িত তাদের খুবই প্রয়োজন। তাই মিডিয়ার মালিকানা যে ভাবে জরুরি তেমনি সেগুলোকে পরিচালনার জন্য যোগ্য নিয়ন্ত্রক ও কর্মী তৈরী করা আরো জরুরী। অনেক সময় দেখা যায় কোন মিডিয়া হাউজের অধিকাংশ কর্মকতারা যদি মালিকের চিন্তার বিপরীত মতের হয় তখন তাদের দাপট ও দৃষ্ঠিভঙ্গির উপরই হাউজ চলতে বাধ্য হয়। শুধু নিজেদের মিডিয়া হাউজের অঙ্গনে যাতে যোগ্য কর্মীরা হারিয়ে না যায় সে কারণে সুনিদিষ্ঠ টার্গেট নিয়ে অন্য সংস্থাগুলোতেও নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবর্তীণ হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন মিডিয়া কারিগর তৈরী করতে হবে। যেমন- গুগোল, ইয়াহু, নাসাসহ সকল প্রযুক্তি ও তথ্য প্রবাহের কারিগর। যারা পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দেয়ার মত নতুন কিছু তৈরী করবে।
(ঘ) সমগ্র তরুণ-তরুণীদের কাছে ইসলামের সঠিক আহ্বান পৌছানোঃ কোরআনের ওই বাণী তাদের কর্ণকুহরে পৌছে দেয়া- “হে কম্বল আচ্ছাদন কারী, উঠ! সাবধান কর। তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষনা কর।” মুসলিম তরুণ-তরুণীদের হৃদয়ে ইসলামের আদর্শই সর্বাধুনিক আদর্শ হিসাবে উপস্থাপন করে ইসলামী আদর্শ বিরোধী জীবনাচরণকে ত্যাগ করে দ্বীনের ঝান্ডাবাহী মর্দে মুমিন হিসাবে কল্যণমূলক কাজের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার জন্য আদর্শের মূর্তপ্রতিক হিসাবে কিছু ব্যক্তিকে ভুমিকা পালন করতে হবে। যারা নিজেদেরকে সর্বত্রভাবে আল্লাহর রঙ্গে রঙ্গিণ করতে চায়, একই ভাবে সারা দুনিয়াকে। এমন ভিশণধারী যুব সম্প্রদায় তৈরী করতে পারলেই সর্বপর্যায়ে এক অভূতপূর্ব শিহরণ জাগ্রত করা সম্ভব। যারা সত্য নির্ভর প্রত্যাশিত জাতি গঠনে অনবদ্য ভুমিকা পালন করবে।
(ঙ) কোরআনের রাজ কায়েমের উদ্যোগ গ্রহন করাঃ কোরআন হাদীস তিলাওয়াত শুধুমাত্র সাওয়াব অর্জনের জন্য নয় বরং পৃথিবীর অনিবার্য বাস্তবতার জন্য কোরআনের রাজ কায়েমের কাজকে দূর্বার করার লক্ষ্যে। আল কোরআনের সমাজ গঠনের কাঙ্খিত মানুষ তৈরী জন্য এক দল লোক তৈরী করা ও তা প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য ধীরে ধীরে পরিবেশ তৈরী করা। সর্বোতভাবে আল কোরআনের সমাজ প্রতিষ্টার মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
(চ) উপযুক্ত নেতৃত্ব তৈরীঃ এমন নেতৃত্ব তৈরী হবে যারা অন্যায়ের কাছে মাথানত করেনা, মাথানত করেনা লোভের কাছে বা জাগতিক চাওয়ার কাছে, যেমন কঠিন স্রোতের বিপরীতে নাবিক তরী বয়ে চলে। যারা দুমড়ে-মুচড়ে যাবে,ক্ষত-বিক্ষত হবে, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রমান করবে অন্যায়-অসত্যের কাছে মাথা নত করার চেয়ে জীবনের পরিসমাপ্তি অনেক শ্রেয়। অর্থ-নারী-ক্ষমতা কোন কিছুই যাদেরকে মাঞ্জিল থেকে এক চুল নড়াতে পারবেনা। এমন নেতৃত্বকে পৃথিবী ঘুরাতে পারেনা, পৃথিবীকে সে নিজের ইচ্ছেমত ঘুরানোর সক্ষমতা অর্জন করে। যে নেতৃত্ব মানবতার ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করতে নেতৃত্ব দেবে।
(ছ) দেশে বিদেশে সকল ইসলামী সংগঠনের লক্ষ্য স্থির করা ও পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করাঃ ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যে সকল ইসলামী সংগঠন দেশাভ্যন্তরে ও বহিবির্শ্বে কাজ করে যাচ্ছে তাদের ভিতর পারস্পরিক লক্ষ্য এক ও অভিন্ন হওয়া চাই, একইভাবে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যহত থাকা প্রয়োজন। যেমন আন্তর্জাতিক সংগঠন -OIC, Rabeta Al-Alam Al-Islam, IDB, ISESCO, IIIT, WAMY এর সাথে সমন্বয় করেও ইসলামের পূণর্জাগরণের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভুমিকা পালন করতে পারে, তাই সেগুলোকে ইসলামের কার্যকর সহায়ক হিসাবে ভুমিকা পালনের উপযোগী হিসাবে গড়ে তোলার সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহন করা।
(জ) শুদ্ধ সাংস্কৃতিক ইমারত তৈরীঃ সাংস্কৃতিক মন মননের উপর একটি জাতির আত্নপরিচয় বহন করে। ইসলামী তাহজীব তমুদ্দুনের বিপরীতে ঈমান বিধ্বংসী সংস্কৃতি গ্রহন করে মুসলমানদের একটি অংশ নিজেদের চেতনাবোধকে অন্য সংস্কৃতির হাতে বিকিয়ে দিয়েছে, ভুলে গেছে তাদের নিজেদের আত্নপরিচয়। যাদের ধারণা ইসলামে কোন সাংস্কৃতিক পরিচয় নেই। আবার অনেকেই গান-বাজনাকেই শুধু সংস্কৃতি হিসেবে ধরে নিয়েছে। এ ধরণের ভুল ধারণা শুধরে দেয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজন শুদ্ধ ও ইসলামসম্মত সংস্কৃতির ব্যাপক চর্চা, প্রশিক্ষণ ও প্রতিষ্টান গড়ে তোলা। এমন এক দৃশ্যমান আশা জাগানিয়া উদ্যোগ প্রয়োজন যা শুধু মুসলমানদের মধ্যে নয় ভিন্ন ধর্মবালম্বীদের মাঝেও শিহরণ জাগাতে সক্ষম হবে। যা শুদ্ধ সমাজ গঠনে বিশেষ অবদান রাখবে।
(ঝ) এক কেন্দ্র বিন্দুর দিকে আহবানঃ মুসলিম মিল্লাতের নেতৃবৃন্দ সহ ইসলামের অনুসারীদের একযোগে ইসলামের মৌলিক আদর্শের দিকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে আহবান জানানো এবং আদর্শের পক্ষে যৌক্তিক অবস্থান তুলে ধরা। যেভাবে হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে মুহাম্মদ (সঃ) এক আল্লাহর দিকে বিশ্ব মানবতাকে আহবান জানিয়েছিলেন।
(ঞ) মন্দের জবাব ভাল দিয়েঃ ইসলামের মুল সৌন্দর্য্য হলো সত্যবাদিতা। সকল অসুন্দরের মোকাবেলা হবে সুন্দর দিয়ে। মন্দের জবাব ভাল দিয়ে। মন্দের জবাব যদি মন্দ দিয়ে হয়, অসুন্দরের জবাব যদি অসুন্দর দিয়ে হয় তাহলে আদর্শবাদী আর আদর্শহীনদের মধ্যে নুন্যতম পার্থক্য থাকেনা। যদি সত্যপন্থী পরিচয় বহনকারীদের পরিচয় শুধু প্রচার-প্রকাশনায়, বক্তব্য-বিবৃতির মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে, এর কথকরা যদি নিজেদের জীবনে এর প্রতিফলন ঘটাতে না পারে; এ ধরণের আদর্শ পরিপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মকান্ড দিয়ে স্বীয় আদর্শ কখনো সমাজ জীবনে আশাব্যঞ্জক কোন প্রভাব ফেলতে পারেনা। সত্যাশ্রয়ী সমাজ গঠনের অনন্য নমুনা হলেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও তার সাহাবীরা।
(ট) নিজেদের দুর্বলতার দিকগুলো নির্ণয় করে সমাধানে উদ্যোগী হওয়াঃ ইসলামী সমাজ প্রতিষ্টার যে আন্দোলন, সে আন্দোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিরোধীদের যেমন চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র আছে, একই ভাবে নিজেদের মধ্যেও অনেকগুলো দুর্বলতা আছে। সেগুলো যথার্থ ভাবে চিহিৃত করে সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। যেমন-পাশ্চাত্যনির্ভরতা, মুসলিম শাসক ও জনগণের মাঝে দূরত্ব ও দ্বন্দ্ব, নিজেদের ভিতর অনৈক্য ও ফেরকাবাজী এবং জনসমর্থন নয় ইসলামী বিপ্লবের পূর্বশর্ত সশস্ত্র সংগ্রামের ধারণা ইত্যাদি।
(ঠ)যথার্থ সমালোচনাকে সাদরে গ্রহন করে ভুল ত্রুটি শুধরে নেয়াঃ যে কোন আদর্শবাদী দলের নেতাকর্মীদের সমালোচক হওয়ার পরিবর্তে সমালোচনা শোনার মতো মানসিকতা তৈরী করতে হবে। যথার্থ সমালোচনা গ্রহন করে ব্যক্তি ও সংগঠনকে সংশোধনের চেষ্টা থাকলে মঞ্জিলে পৌছার ক্ষেত্রে আরও সহজ হয়। আবার আন্দোলনের সমালোচক কর্মীরা আন্দোলন নিয়ে আশান্বিত হয়। তারা আন্দোলন নিয়ে নতুন করে কাজ করার অনুপ্রেরণা পায়। নেতৃত্বের আরও একটি বড় গুণ হল কথা বলার চেয়ে কথা বেশী করে শোনা। শুধু মাত্র সমালোচনার দৃষ্টি আকর্ষণের বিষয়গুলো নিজেদের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শত্রু মহলের সমালোচনাকেও খতিয়ে দেখা। কোন এক বিজ্ঞজন যথার্থই বলেছিলেন “মূর্খ্য বন্ধুর চাইতে র্ধূত শত্রু অনেক শ্রেয়” । স্বভাবজাত দৃষ্টি থেকে মানুষ মনে করে সে যা বলে তাই যথার্থ। সেটি অসত্য হলেও তা সত্য হিসাবে রুপ দেয়ার জন্য সব ধরণের কলাকৌশল অবলম্বন করে। মিথ্যার আশ্রয় নেয়। ইনিয়ে বিনিয়ে শেষ অবধি যুক্তিতর্ক চালিয়ে যায়। এ ধরণের পরিবেশ যেখানে বিরাজ করবে সেখানে সত্যকে জীবনের পাথেয় হিসাবে গ্রহন করার প্রত্যাশা করা দুরহ ব্যাপার। তবে এ বিপ্লবের সর্বস্তরের ব্যক্তিরা যদি যে কোন প্রতিকুল পরিবেশেও সত্যাশ্রয়ী হয় তাহলে তাদের কাছে সমায়ান্তরে মিথ্যা পরাজয় বরণ করে।
(ড) আশার শিহরণ জাগ্রত করাঃ চারিদিকে মিথ্যার আস্তরনের কালো মেঘে যখন লক্ষ্যভ্রষ্ট দিকবিদিক ছুটছে মানবতা, বিশ্বাসের ইমারতগুলো যখন ভেঙ্গে খান খান, আশার প্রদ্রীপ নিভু নিভু, মিথ্যার প্রেতাত্নারা নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হয়ে বিভৎস চেহারায় সবকিছুকে করায়ত্ব করতে চায় তখন সত্যপন্থীদের দুর্বার দুঃসাহসিকতা নিয়ে সম্মুখপানে এগিয়ে চলা এক ইস্পাতকঠিন দুরহ কাজ। কিন্তু যারা সমাজের সকল আবর্জনাকে ধুয়ে মুছে সুগন্ধিময় করতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায় তাদের সম্মুখে সাগরের ভয়ঙ্কর উত্তাল জলরাশি, হিমালয়ের উতুঙ্গশীর্ষে আরোহন ও বাতাসের প্রচন্ড তোড়ে ঠায় সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়া খুব মামুলি ব্যাপার অনুভুত হয়। রাসুল (সঃ) এর সাহাবীরা যেভাবে আরবের জাহেলিয়াতে পরিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থাকে মুলৎপাটন করে নতুন সমাজব্যবস্থা গঠন করেছিলেন। প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে যেকোন ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দুঃসাহসিক নাবিক হওয়ার মত হিম্মতের বারুদ রপ্ত করতে হবে। যা দেখে হতবাক হবে বিশ্ববাসী, যাদের কাছে বুকভরা আশা নিয়ে প্রত্যাশা করবে শোষিত-বঞ্চিত মানবতা, থাকবেনা হতাশার লেশমাত্র চিহৃ, জাগ্রত হবে আশার শিহরণ।
চলবে..............
লেখক:
Abdul Zabbar
Secretary General
BANGLADESH ISLAMI CHHATRASHIBIR
সংগ্রহ



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন