শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৩




বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার

পুরো বিচারব্যবস্থার অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: টবি কেডম্যান

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে বুদ্ধিজীবী হত্যা মমলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের আইনজীবী মানবাধিকার কর্মী বৃটিশ নাইন বেড ফোর্ড রো ইন্টারন্যাশনালের এস্ট্রাডাইট (দেশে ফেরত) বিশেষজ্ঞ টবি কেডম্যান বলেছেন, আইনানুযায়ী মুঈনুদ্দীনকে বাংলাদেশে ফেরত নেয়ার ষড়যন্ত্রে সরকার সফল হবে না।

একই সাথে তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই এই সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সরকার পরিবর্তন হলে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রিভিউর মাধ্যমে পুরো বিচার ব্যাবস্থার অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ১০ নম্বর ডাউনিং ষ্ট্রীটের সম্মুখে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ ৭১টি সংগঠন যৌথভাবে চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে দেশে ফেরত দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে মুঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন ভূমিকা ও হত্যা, ধর্ষণ, নারী অপহরণ, আগুন দেয়াসহ সাক্ষ্য প্রমাণসহ স্মারকলিপি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বরাবর পেশ করেন।

উল্লেখ্য, চৌধুরী মুঈনুদ্দীন দাওয়াতুল ইসলাম ইউকে আই আরের সাবেক সভাপতি, বহুল পরিচিত চ্যারিটি সংগঠন মুসলিম এইডের ট্রাস্টি। এছাড়া ব্রিটিশ প্রিন্স চার্লসের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে পরিচিত সকলের কাছে।

মুঈনুদ্দীনকে নিয়ে নানা রকম আলোচনা দেশে-বিদেশে। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কিনা- এমনই এক পরিস্থিতিতে তার আইনজীবী টবি কেডম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোন ব্রিটিশ নাগরিকের কোন দেশ তার অনুপস্থিতিতে করবে, আর বৃটেন তার নাগরিককে ওই জল্লাদদের হাতে অর্পণ করবে এটা হয় না।

তিনি বলেন, আমি আমার মক্কেলের পক্ষে মামলার পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে গেলে সরকার আমাকে মামলা পরিচালনা করতে না দিয়ে ফেরত আসতে বাধ্য করে। এ পর্যায়ে ব্রিটিশ সরকারের মনে এই মমলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর তাছাড়া ব্রিটেন তাদের নাগরিককে কোন দেশ মৃতুদণ্ড দিলে সেক্ষেত্রে তাকে প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নই উঠে না।

তিনি বলেন, আমার মক্কেলকে এমন একটা ট্রাইব্যুনাল শাস্তি দিয়েছে যা নিয়ে সারা বিশ্ব জুড়ে সমালোচনার জড় বইছে। সেক্ষেত্রে তাকে ফেরত পাঠানো যায়না। তাছাড়া তিনি (মুঈন) এখন আর বাংলাদেশের নাগরিক নন। তিনি এখন সম্মানিত ব্রিটিশ নাগরিক।

মুঈনুদ্দীনকে বাংলাদেশ ফেরত নেয়ার জন্য কোন আবেদন করেছে কিনা জানকে চাইলে টবি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত কোন আবেদন করেনি-এটা আমি নিশ্চিত।

তিনি বলেন, আন্ডার দ্য এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট-২০০৩ অনুযায়ী যতক্ষণ বাংলাদেশ কোন আবেদন না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনভাবে দেশে ফেরত নেয়ার কথা গ্রহণযোগ্য হবে না ।

টবি বলেন, বাংলাদেশী দুজন ব্যারিস্টার বলেছেন, স্মারকলিপি দিয়ে, মানববন্ধন করেই মুঈনকে ফেরত নেয়া যাবে।আমি মনে করিনা সেভাবে সম্ভব হবে।

কেডম্যান বলেন, এ ক্ষেত্রে দুটি বাধা আছে। তাহলো-

প্রথমত, বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যে ফেরতের কোন চুক্তি নেই। এ ক্ষেত্রে একটি আইন আছে তা আবার ব্রিটিশ এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট ২০১৩। এই আইনেও অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ১. যেখানে মৃত্যুদণ্ডের মতো মারাত্মক ঝুঁকি আছে, সেক্ষেত্রে ব্রিটেন তাদের নাগরিককে কখনোই হস্তান্তর করবে না।

তাছাড়া যে ট্রাইব্যুনালে ন্যায় বিচার অনুপুস্থিত, মানবাধিকারের লঙ্ঘন করে কারাগারে পাঠানো হয় সেখানে ব্রিটিশ নাগরিককে হস্তান্তর করা অনেক চ্যালেঞ্জের। যদি তা করা হয় তাহলে ইউরোপিয়ান কনভেনশন অ্যাক্টের ধারা তিনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে আইনী বাধার কারণেও আর মুঈনকে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা নাই।

টবি বলেন, দ্বিতীয় কারণটি হলো যদি এধরনের কোন আবেদন বাংলাদেশ সরকার করেও, তারপরেও এতে কোন শর্ট-কাট ব্যবস্থা নেই। এছাড়া যদি ব্রিটিশ সরকার ফেরত দিতে সম্মতিও হয়, তাহলেও অনেক সময় লাগবে। বছরের পর বছর না লাগলেও মাসের পর মাসতো লাগবেই।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার যদি ব্রিটিশ সরকারের সাথে বিশেষ চুক্তিও করে ফেলে তারপরেও বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন অ্রাক্ট ২০১৩ এবং ইউরোপিয়ান কনভেনশন অ্যাক্ট অনুযায়ী সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি আমার মক্কেলের দেশে ফেরত নিয়ে উদ্বিঘ্ন নই। আমার মক্কেল সব ধরনের আইনি পদক্ষেপের কথাই চিন্তা ভাবনা করছেন। আর তিনি সে অনুযায়ীই তার কাজ করে চলেছেন। তিনি এই মিথ্যা মামলার করণে উদ্বিঘ্ন নন।

টবি বলেন, শুধু মাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তত্ত্বাবধায়নেই ন্যায় বিচার হতে পারে। বাংলাদেশ সরকার যদি আমার ক্লায়েন্টের ব্যাপারে সত্যি নিশ্চিত হয়ে থাকেন তিনি অপরাধী তাহলে আন্তর্জাতিক আইনে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তত্ত্বাবধানে বিচারের ব্যবস্থা করতে পারে।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় এ সরকার তা কখনোই করবে না। অধিকার ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাথে সরকারের আচরণে আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি।

ইংল্যান্ডের কারাগারে সাজা কাটানোর প্রসঙ্গে টবি বলেন, এই বিষয়টি প্রথম ৯০ সালে প্রথম উত্থাপিত হয়েছিল। তখন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ, ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস, মেট্রোপলিটন পুলিশ, এফসিও লিগ্যাল ডিপার্টম্যান্ট মঈনুদ্দীনের ব্যাপারে কোন অভিযোগ নথি পত্রে প্রমাণিত না হওয়ায় কোন কোন অভিযোগ না করার সুপারিশ করা হয়েছিলো।









তিনি বলেন, যেহেতু তার অনুপস্থিতিতে এ রায় দেয়া হয়েছে, এমতাবস্থায় ব্রিটিশ আদালত রোল্ড আউট করতে পারে না। ডাবল জিওপার্ডিহেতু প্রসিকিউশন মঈনুদ্দীনকে ব্রিটেনের আদালতে নিয়ে বিচারের জন্য সমন জারি নাও করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অ্যাক্টস থ্রোতে এই রায় নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি- এমন প্রশ্নের জবাবে টবি বলেন, এ রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং আন্তর্জাতিক আইন মানা হয়নি। রায় হয়েছে অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে-এটাই ফ্যাক্টস, যা অনেকভাবে সমালোচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পরপরই এটা নিয়ে পুরোপুরি রিভিউ করা হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায়। যেহেতু এই রায় এর কার্যক্রম নিয়ে অনেক সন্দেহ ও নানা অসংগতি রয়েছে। আমার বিশ্বস আমার দুই মক্কেলই(মুঈন-আশরাফ) আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সহায়তায় পরিপূর্ণ রিভিউর মাধ্যমে সম্মানের সাথে মুক্ত হবে এই সাজা থেকে।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মনে করি ট্রাইব্যুনালের পুরো বিচার প্রক্রিয়াই প্রশ্ন বিদ্ধ তাই এই বিচার আবার নতুন করে শুরু করা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

শুধুমাত্র ইসলামী রজনীতি করার কারণেই আব্দুল কাদের মোল্লা আজ একপা দুপা করে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাছেন!



শুধুমাত্র ইসলামী রজনীতি করার কারণেই আব্দুল কাদের মোল্লা আজ একপা দুপা করে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাছেন!

আব্দুল কাদের মোল্লা একটা নাম, একটা জীবন্ত ইতিহাস। তিনি মেধাবী একজন ছাত্র হিসেবে ১৯৫৯ ও ১৯৬১ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে আমিরাবাদ ফজলুল হক ইনিষ্টিটিউট থেকে প্রথম শ্রেণীতে মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতকার্য হন। ফরিদপুরের বিখ্যাত রাজেন্দ্র কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে ১৯৬৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষায় উত্তীর্ন হন। ১৯৬৮ সালে তিনি একই কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন। ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের কারনে ১৯৭১ সালে তিনি মাস্টার্স পরীক্ষা না দিয়ে ১৯৭৫ সালে তিনি সামাজিক বিজ্ঞানে শিক্ষা প্রশাসনের ডিপ্লোমায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরে আবার ১৯৭৭ সালে শিক্ষা প্রশাসন থেকে মাস্টার্স ডিগ্রীতে প্রথম শ্রেনীতে প্রথম হন।

আব্দুল কাদের মোল্লা ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঢাকার বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। এম,এড পরীক্ষার রেজাল্টের পরে তিনি বাংলাদেশ রাইফেলস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন এবং পরে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এ সংস্কৃতি কর্মকর্তা হিসাবে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে রিসার্স স্কলার হিসাবে বাংলাদেশ ইসলামী সেন্টারে যোগ দেন। ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে মোল্লা দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসাবে সাংবাতিকতার সাথে যুক্ত হন। ১৯৮২ ও ১৯৮৩ সালে সে পরপর দুই বছর ঢাকা ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (ডি ইউ জে) এর সহসভাপতি নির্বাচিত হন।

অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যায়নকালেই তিনি কম্যূনিজমের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ছাত্রইউনিয়নে যোগ দেন। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার পর মাওলানা মওদূদী(রঃ) লিখিত তাফহীমুল কুরআন পড়ে আলোকিত জীবনের সন্ধান পেয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ছেড়ে তিনি ছাত্রসংঘের তৎকালিন পূর্বপাকিস্তান শাখায় যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে তিনি এ সংগঠনের সদস্য হন। ছাত্রসংঘের শহিদুল্লাহ হল শাখার সভাপতি, ঢাকা বিশব্বিদ্যালয় শাখার সভাপতি, ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারী ও একই সাথে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রইউনিয়ন তাকে রাজনীতি শিখাল অথচ তিনি ১৯৬৬ সালে ছাত্র সঙ্ঘে এবং ১৯৭৭ সালের মে মাসে জামায়াতে যোগ দেন এবং ১৯৭৮ সালের নভেম্বর মাসে রুকন হন যা বাতিলের মাথা ব্যাথার অন্যতম কারণ। ধিরেধিরে তিনি গোলাম আযমের ব্যাক্তিগত সেক্রেটারি এবং ঢাকা মহানগরীর শূরা সদস্য ও কর্মপরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অল্পদিনের ব্যাবধানেই জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশ-এ-শূরার সদস্য হন। ১৯৮২ সালে তিনি ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারী ও পরবর্তীতে ঢাকা মহানগরীর নায়েব-এ-আমীর এবং ১৯৮৫ সালে তিনি ঢাকা মহানগরীর আমীর ও কেন্দ্রিয় কর্মপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি ১৯৯১ সালে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ২০০০ সালে, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেলে হিসেবে মনোনীত হন। উক্ত দায়িত্বের পাশাপাশি আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে তিনি চারদলীয় জোটের লিয়াজো কমিটির গুরুত্বপূর্ন সদস্য হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন।

মোল্লাকে বিভিন্ন মেয়াদে চার চারবার জেলে যেতে হয়। আইয়ুব সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের দায়ে ১৯৬৪ সালে প্রথমবারের মত তিনি বাম রাজনীতিক হিসেবে গ্রেপ্তার হন। ১৯৭২ সালে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন কিন্তু স্থানীয় জনতার বিক্ষোভের মুখে পুলিশ তাকে স্থানীয় পুলিশ স্টেশন কাস্টোডী থেকেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়! জেনারেল এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের কারনে আব্দুল কাদের মোল্লাকে আবারও আটক করে রাখা হয়। পরে উচ্চ আদালত তার এ আটকাদেশকে আবৈধ ঘোষণা করলে চারমাস পরে তিনি মুক্ত হন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করায় তৎকালীন বিএনপি সরকার ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তাকে আটক করে।

মোল্লা সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংস্থার সাথে যুক্ত। যার মধ্যে বাদশাহ ফয়সাল ইন্সটিটিউট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোসাইটি ও এর স্কুল, সদরপুর মাদরাসা ও এতিমখানা, ফরিদপুর জেলার হাজিডাঙ্গি খাদেমুল ইসলাম মাদরাসা ও এতিমখানা, সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী একাডেমী অন্যতম। এছাড়াও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি ছিলেন।

মোল্লা দেশ বিদেশের সমসাময়িক বিষয়ের উপর একাধিক কলাম ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ইসলামের বিভিন্ন দিকের উপরো তার লেখা পাওয়া যায়। তার লেখা কলাম ও প্রবন্ধ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বস্তুবাদ ও কম্যূনিজমের উপরে তার বৈজ্ঞানিক সমালোচনা শিক্ষিত মহলের কাছে সমাদৃত হয়েছে।

মোল্লা ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেছেন যার মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জাপান, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান ও ভারতে ভারত অন্যতম।

এহেন বর্নাড্য জীবনের অধিকারী একজন ব্যাক্তিকে শুধুমাত্র ইসলামী রজনীতি করার কারণেই আজ একপা দুপা করে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে হছে! তিনি যদি সত্যিকারেই যুদ্ধাপরাধী হতেন তাহলে ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন, উদয়ন স্কুলে শিক্ষকতা, রাইফেলস কলেজে অধ্যাপনা এমনকি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ অলঙ্কৃত করতে পারতেন না। দেশের গুণীজনদের আড্ডাখানা প্রেসক্লাব কেন্দ্রিক ঢাকার সাংবাদিকদের প্রেস্টেজিয়াস ইউনিয়ন, ‘ঢাকা ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (ডি ইউ জে)’ এর পরপর দুই মেয়াদ ১৯৮২ ও ১৯৮৩ সালে সহসভাপতি নির্বাচিত হতে পারতেন না। তিনি যে যুদ্ধাপরাধী না তার অন্যতম প্রমাণ হল যুদ্ধাপরাধী বা রাজাকার, আল বদর, আল শামস হিসাবে কোন তালিকায় তার নামতো দূরের কথা সন্দেহ ভাজনের তালিকায়ও নাম ছিলনা। এমনকি এধরণের অপরাধে তাকে কেউ ইতিপূর্বে অভিযুক্তও করেনি। এমন একজন নিষ্কলুষ ব্যক্তিকে নিয়ে শুধু মাত্র রাজনীতির কারনেই এই মরণ খেলা।
সরকার মনে করছে এই মরণ খেলা খেলে এবং অবৈধ চাপ প্রয়োগ করে জামায়াতকে কাবু করা যাবে কিন্তু তথ্য বাবার সে আশায় গুড়ে বালি। যারা নিজের মাথা পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে জান্নাতের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে তারা দুনিয়ার কোন অন্যায় চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনা। তথ্য বাবাদের কাছে ইসলামী আন্দোলনের কোন নেতা তো দূরের কথা কোন সমর্থকও নতি স্বীকার করবেনা ইনশা’আল্লাই।
ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীদের দৃঢ় মনোবলের কাছে শেষ পর্যন্ত ধর্মহীন সেকুলারদের পরাজিত হতেই হবে ইনশা’আল্লাহ। ক্ষণিকের জন্য হয়ত প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে পারবে, কিছু নিরপরাধ মানুষকে খুণ করতে পারবে, তবে তাতে অঙ্কুরেই তথ্য বাবার হাত রক্তে রঞ্জিত হবে, যা তার নানা করেছিল পরিণত বয়সে। সর্বজন শ্রদ্ধেয় তার নানা যেখানে ক্ষমতা চর্চ করতে গিয়ে সিরাজ শিকদারের রক্তে নিজের হাত রঞ্জিত করে জাতির কাছে ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছিল সেখানে রাজনীতির মাঠে হাতি খড়ি নিতে না নিতেই তথ্য বাবা কলঙ্কিত হবে। সে ক্ষেত্রে তাকে বাংলার জনগণ তার নানার আসনে বসাবে নাকি ইসলাম বিদ্বেষী ভিনদেশী দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে তা দেখার জন্য আমাদের আরও কিছু দিন আপেক্ষা করতে হবে।

মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

তথ্য সন্ত্রাসের শিকার ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন




তথ্য সন্ত্রাসের শিকার ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন
-মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

//চব্বিশ//
করনীয় প্রস্তাবনাঃ পাহাড়সম অপপ্রচারকে মাড়িয়ে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। সত্যকে মিথ্যার আস্তরন থেকে ছেঁকে বের করে সত্যাশ্রয়ী সমাজ ব্যবস্থা কা


য়েমের প্রত্যয়ে যুগপযোগী কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে। হতাশার সাগরে নিরন্তর গা ভাসিয়ে দেয়ার পরিবর্তে আশাবাদী নাবিকের মত তীরে পাড়ি জমানোর অপ্রতিরোধ্য মিশনই কেবল মিথ্যার কালো মেঘে ঢাকা একটি সমাজের পরিত্রান নিশ্চিত করতে পারে। যেখানে নিশ্চিত ভাবে বুলন্দ আওয়াজ ধ্বনিত হবে- সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত, সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভয়াবহ তথ্য সন্ত্রাসের মুখোশ মানবতার সামনে দিনের আলোর মত স্পষ্ঠ করার জন্য বহুমূখী পরিকল্পনা উম্মাহর নেতৃবৃন্দকে গ্রহণ করতে হবে। অতীব জরুরী কিছু করণীয় বিষয়ে যৎসামান্য আলোকপাত করা হল।

(ক) ধর্মীয় ও জাগতিক শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ঃ অধিকাংশ ধর্মেরই ভিত্তি ছিল ওহীভিত্তিক। ধর্মের ধারক বাহকরা নিজদের প্রয়োজন মত ওহীর অনেক নির্দেশকে ওলট-পালট করে ফেলে। যেমন: তাওরাত, ইঞ্জিল, জবুর ইত্যাদি। শুধুমাত্র কুরআন ব্যতিক্রম। কুরআনের ‍রূপকেও পরিবর্তনের জন্য যুগে যুগে খোদাদ্রোহীরা যারপরনাই চেষ্ঠা করেছে। কিন্তু এটি সংরক্ষনের জন্য আল্লাহ এক অনন্য ব্যবস্থাপনা রাসুল (সঃ) কে শিক্ষা দিলেন। রাসুল (সঃ) নিজে কুরআন মুখস্ত রাখতেন সাহাবীদেরকেও মুখস্ত করতে বলতেন। এভাবে লক্ষ লক্ষ হাফেজে কুরআন ধারাবাহিক ভাবে কুরআন বুকে ধারণ করে রাখল। পৃথিবী যত দিন রবে লক্ষ কোটি মুমিনের হৃদয়ে মহাগ্রন্থ আল কুরআন ততদিন সংরক্ষিত থাকবে। মানুষের মন মনন স্বাভাবিক ভাবে ইন্দ্রিয় কর্তৃক পরিচালিত হলে সমাজ জীবনে কল্যাণ সাধনের পরিবর্তে অকল্যানই অধিক পরিমানে সংঘটিত হয়। তাই ব্যক্তির ইন্দ্রিয়শক্তিকে পুরোদমে নিজের ও মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করে স্রষ্ঠার সৃষ্ঠির উদ্দেশ্যকে যথার্থ সার্থক করার জন্য সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে ওহি নামক যে গাইড লাইন দেয়া হয়েছে তার শিক্ষা মানুষের জন্য অতীব জরুরী। তাই সমাজের পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তা ব্যক্তিরা যদি মানবতার জন্য অপরিহার্য এই বিষয় সম্বন্ধে অবহেলা প্রদর্শন করে ধর্মীয় শিক্ষাকে জাতির চলার পথে অন্তরায় মনে করে তখন যারা সত্যগ্রাহী পথের পরিচালক তাদের সহায় সম্বল যা আছে তা নিয়েই বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে জাগতিক শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি ধর্র্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাও চালু করার উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানিক ও ঘরোয়া ভাবে ব্যাপক ভিত্তিক এর চর্চা হতে পারে। ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাই ব্যক্তির মনে হিতাহত জ্ঞান প্রদান করে ভাল-মন্দের ফারাক মালুম করতে ও রাষ্ট্র-সমাজ-ব্যক্তি জীবনে প্রকৃত সুখ-শান্তি-স্বস্থি-আস্থা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মহানায়কের ভুমিকা পালন করে। ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বেড়ে উঠা মানুষগুলো কখনো মিথ্যাচারের সাগরে নিজেদেরকে ভাসিয়ে দিতে পারেনা। নিজের ক্ষতির কথা নিয়ে তারা যা ভাবে ঠিক অন্যের ক্ষতি নিয়েও অনুরুপ ভাবতে শিখে। তাই এর গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে ব্যাপক সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

(খ) শক্তিশালী মিডিয়া প্রতিষ্টা করাঃ মিডিয়া বলতে বর্তমান সময়ে ইলেট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়াকেই ধরা হয়। মিডিয়ার কারিশমার কথা পূর্বের আলোচনায় যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। মিডিয়ায় অখ্যাতকে বিখ্যাত করার তীব্র প্রতিয়োগীতা অব্যাহত রয়েছে। এর বিপরীতে যে মিডিয়া তৈরী হবে সেখানে বিখ্যাতকে বিখ্যাত হিসাবে এবং কুখ্যাতকে কুখ্যাত হিসাবেই উপস্থাপন করবে। যেখানে যা তাই প্রকাশ করবে দ্বিধাহীন চিত্তে। সংবাদ মাধ্যমগুলোর সিংহভাগ মালিকানা ইহুদী খৃষ্ঠানদের হাতে। তারা এসব গণমাধ্যমে যথেচ্ছা ব্যবহার করছে ইসলামের বিরুদ্ধে। তাই এর বিপরীতে অপপ্রচারের যথার্থ জবাব দেওয়ার জন্য ও ইসলামের সুমহান সৌন্দর্য্য জনগনের সামনে উপস্থাপনের জন্য ঐসব গণমাধ্যমের চাইতে আরো বেশী শক্তিশালী গণমাধ্যম তৈরী করতে হবে। যার শক্তির উৎসই হবে সত্য। বিশ্ববাসী ভালভাবেই জানে- CNN, BBC, VOA, রয়টারস, এএফপির মত মিডিয়া কোন মহলের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কাজ করে। কিন্তু মুসলমানদের কাছে সত্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য তো বিকল্প কোন মাধ্যম নেই। এটি অনেক ব্যায়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং কাজ হলেও উম্মাহর প্রয়োজনে এটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা অতি জরুরী। সংবাদকর্মীরা তা করতে বাধ্য যা মিডিয়ার মালিকরা নির্দেশ করেন। তাই মালিকানা যার হাতে প্রচার দৃষ্ঠিভঙ্গি তার হাতে। Peace TV একটি কেন! শত শত Peace TV তৈরী সক্ষমতা মুসলমানরা রাখে। এর বাস্তবায়ন যত দেরী হবে তত বেশী ইসলামপন্থীদের তথ্য সন্ত্রাসের ভয়াবহ দংশনে কাতরাতে হবে।

(গ) তথ্য প্রযুক্তি কারিগর তৈরীঃ তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। আল কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান। কুরআন আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে মানবজাতির উৎকর্ষতার জন্য সব ইউনিক বিষয়েরই নির্দেশনা দিয়েছে। যা বর্তমান কালে বিজ্ঞানীরা নতুন করে কিছু আবিস্কারের পর তারা বিস্মিত হচ্ছে। কারণ আল কুরআনে এর বর্ননা ও নির্দেশনা অনেক আগেই দেয়া হয়েছিল। সুতরাং যে সকল বিজ্ঞানী অজ্ঞতাপ্রসূত মনে করেন কোরআন বিজ্ঞানশূণ্য, প্রকৃতপক্ষে কোরআনকে তারা বুঝতে সক্ষমতা লাভ করেনি। তাই ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ এ সমাজ ব্যবস্থায় কুরআন থেকেই আমাদের সমস্যার সমাধান খুজে বের করতে হবে। অসত্য ও মেকি মুখরোচক তথ্য যখন সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত অশান্তির দাবানল বাড়িয়েই চলছে, এ সময় যারা তথ্য প্রবাহের কাজের সাথে জড়িত তাদের খুবই প্রয়োজন। তাই মিডিয়ার মালিকানা যে ভাবে জরুরি তেমনি সেগুলোকে পরিচালনার জন্য যোগ্য নিয়ন্ত্রক ও কর্মী তৈরী করা আরো জরুরী। অনেক সময় দেখা যায় কোন মিডিয়া হাউজের অধিকাংশ কর্মকতারা যদি মালিকের চিন্তার বিপরীত মতের হয় তখন তাদের দাপট ও দৃষ্ঠিভঙ্গির উপরই হাউজ চলতে বাধ্য হয়। শুধু নিজেদের মিডিয়া হাউজের অঙ্গনে যাতে যোগ্য কর্মীরা হারিয়ে না যায় সে কারণে সুনিদিষ্ঠ টার্গেট নিয়ে অন্য সংস্থাগুলোতেও নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবর্তীণ হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন মিডিয়া কারিগর তৈরী করতে হবে। যেমন- গুগোল, ইয়াহু, নাসাসহ সকল প্রযুক্তি ও তথ্য প্রবাহের কারিগর। যারা পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দেয়ার মত নতুন কিছু তৈরী করবে।

(ঘ) সমগ্র তরুণ-তরুণীদের কাছে ইসলামের সঠিক আহ্বান পৌছানোঃ কোরআনের ওই বাণী তাদের কর্ণকুহরে পৌছে দেয়া- “হে কম্বল আচ্ছাদন কারী, উঠ! সাবধান কর। তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষনা কর।” মুসলিম তরুণ-তরুণীদের হৃদয়ে ইসলামের আদর্শই সর্বাধুনিক আদর্শ হিসাবে উপস্থাপন করে ইসলামী আদর্শ বিরোধী জীবনাচরণকে ত্যাগ করে দ্বীনের ঝান্ডাবাহী মর্দে মুমিন হিসাবে কল্যণমূলক কাজের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার জন্য আদর্শের মূর্তপ্রতিক হিসাবে কিছু ব্যক্তিকে ভুমিকা পালন করতে হবে। যারা নিজেদেরকে সর্বত্রভাবে আল্লাহর রঙ্গে রঙ্গিণ করতে চায়, একই ভাবে সারা দুনিয়াকে। এমন ভিশণধারী যুব সম্প্রদায় তৈরী করতে পারলেই সর্বপর্যায়ে এক অভূতপূর্ব শিহরণ জাগ্রত করা সম্ভব। যারা সত্য নির্ভর প্রত্যাশিত জাতি গঠনে অনবদ্য ভুমিকা পালন করবে।

(ঙ) কোরআনের রাজ কায়েমের উদ্যোগ গ্রহন করাঃ কোরআন হাদীস তিলাওয়াত শুধুমাত্র সাওয়াব অর্জনের জন্য নয় বরং পৃথিবীর অনিবার্য বাস্তবতার জন্য কোরআনের রাজ কায়েমের কাজকে দূর্বার করার লক্ষ্যে। আল কোরআনের সমাজ গঠনের কাঙ্খিত মানুষ তৈরী জন্য এক দল লোক তৈরী করা ও তা প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য ধীরে ধীরে পরিবেশ তৈরী করা। সর্বোতভাবে আল কোরআনের সমাজ প্রতিষ্টার মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

(চ) উপযুক্ত নেতৃত্ব তৈরীঃ এমন নেতৃত্ব তৈরী হবে যারা অন্যায়ের কাছে মাথানত করেনা, মাথানত করেনা লোভের কাছে বা জাগতিক চাওয়ার কাছে, যেমন কঠিন স্রোতের বিপরীতে নাবিক তরী বয়ে চলে। যারা দুমড়ে-মুচড়ে যাবে,ক্ষত-বিক্ষত হবে, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রমান করবে অন্যায়-অসত্যের কাছে মাথা নত করার চেয়ে জীবনের পরিসমাপ্তি অনেক শ্রেয়। অর্থ-নারী-ক্ষমতা কোন কিছুই যাদেরকে মাঞ্জিল থেকে এক চুল নড়াতে পারবেনা। এমন নেতৃত্বকে পৃথিবী ঘুরাতে পারেনা, পৃথিবীকে সে নিজের ইচ্ছেমত ঘুরানোর সক্ষমতা অর্জন করে। যে নেতৃত্ব মানবতার ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করতে নেতৃত্ব দেবে।

(ছ) দেশে বিদেশে সকল ইসলামী সংগঠনের লক্ষ্য স্থির করা ও পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করাঃ ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যে সকল ইসলামী সংগঠন দেশাভ্যন্তরে ও বহিবির্শ্বে কাজ করে যাচ্ছে তাদের ভিতর পারস্পরিক লক্ষ্য এক ও অভিন্ন হওয়া চাই, একইভাবে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যহত থাকা প্রয়োজন। যেমন আন্তর্জাতিক সংগঠন -OIC, Rabeta Al-Alam Al-Islam, IDB, ISESCO, IIIT, WAMY এর সাথে সমন্বয় করেও ইসলামের পূণর্জাগরণের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভুমিকা পালন করতে পারে, তাই সেগুলোকে ইসলামের কার্যকর সহায়ক হিসাবে ভুমিকা পালনের উপযোগী হিসাবে গড়ে তোলার সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহন করা।

(জ) শুদ্ধ সাংস্কৃতিক ইমারত তৈরীঃ সাংস্কৃতিক মন মননের উপর একটি জাতির আত্নপরিচয় বহন করে। ইসলামী তাহজীব তমুদ্দুনের বিপরীতে ঈমান বিধ্বংসী সংস্কৃতি গ্রহন করে মুসলমানদের একটি অংশ নিজেদের চেতনাবোধকে অন্য সংস্কৃতির হাতে বিকিয়ে দিয়েছে, ভুলে গেছে তাদের নিজেদের আত্নপরিচয়। যাদের ধারণা ইসলামে কোন সাংস্কৃতিক পরিচয় নেই। আবার অনেকেই গান-বাজনাকেই শুধু সংস্কৃতি হিসেবে ধরে নিয়েছে। এ ধরণের ভুল ধারণা শুধরে দেয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজন শুদ্ধ ও ইসলামসম্মত সংস্কৃতির ব্যাপক চর্চা, প্রশিক্ষণ ও প্রতিষ্টান গড়ে তোলা। এমন এক দৃশ্যমান আশা জাগানিয়া উদ্যোগ প্রয়োজন যা শুধু মুসলমানদের মধ্যে নয় ভিন্ন ধর্মবালম্বীদের মাঝেও শিহরণ জাগাতে সক্ষম হবে। যা শুদ্ধ সমাজ গঠনে বিশেষ অবদান রাখবে।

(ঝ) এক কেন্দ্র বিন্দুর দিকে আহবানঃ মুসলিম মিল্লাতের নেতৃবৃন্দ সহ ইসলামের অনুসারীদের একযোগে ইসলামের মৌলিক আদর্শের দিকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে আহবান জানানো এবং আদর্শের পক্ষে যৌক্তিক অবস্থান তুলে ধরা। যেভাবে হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে মুহাম্মদ (সঃ) এক আল্লাহর দিকে বিশ্ব মানবতাকে আহবান জানিয়েছিলেন।

(ঞ) মন্দের জবাব ভাল দিয়েঃ ইসলামের মুল সৌন্দর্য্য হলো সত্যবাদিতা। সকল অসুন্দরের মোকাবেলা হবে সুন্দর দিয়ে। মন্দের জবাব ভাল দিয়ে। মন্দের জবাব যদি মন্দ দিয়ে হয়, অসুন্দরের জবাব যদি অসুন্দর দিয়ে হয় তাহলে আদর্শবাদী আর আদর্শহীনদের মধ্যে নুন্যতম পার্থক্য থাকেনা। যদি সত্যপন্থী পরিচয় বহনকারীদের পরিচয় শুধু প্রচার-প্রকাশনায়, বক্তব্য-বিবৃতির মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে, এর কথকরা যদি নিজেদের জীবনে এর প্রতিফলন ঘটাতে না পারে; এ ধরণের আদর্শ পরিপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মকান্ড দিয়ে স্বীয় আদর্শ কখনো সমাজ জীবনে আশাব্যঞ্জক কোন প্রভাব ফেলতে পারেনা। সত্যাশ্রয়ী সমাজ গঠনের অনন্য নমুনা হলেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও তার সাহাবীরা।

(ট) নিজেদের দুর্বলতার দিকগুলো নির্ণয় করে সমাধানে উদ্যোগী হওয়াঃ ইসলামী সমাজ প্রতিষ্টার যে আন্দোলন, সে আন্দোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিরোধীদের যেমন চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র আছে, একই ভাবে নিজেদের মধ্যেও অনেকগুলো দুর্বলতা আছে। সেগুলো যথার্থ ভাবে চিহিৃত করে সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। যেমন-পাশ্চাত্যনির্ভরতা, মুসলিম শাসক ও জনগণের মাঝে দূরত্ব ও দ্বন্দ্ব, নিজেদের ভিতর অনৈক্য ও ফেরকাবাজী এবং জনসমর্থন নয় ইসলামী বিপ্লবের পূর্বশর্ত সশস্ত্র সংগ্রামের ধারণা ইত্যাদি।

(ঠ)যথার্থ সমালোচনাকে সাদরে গ্রহন করে ভুল ত্রুটি শুধরে নেয়াঃ যে কোন আদর্শবাদী দলের নেতাকর্মীদের সমালোচক হওয়ার পরিবর্তে সমালোচনা শোনার মতো মানসিকতা তৈরী করতে হবে। যথার্থ সমালোচনা গ্রহন করে ব্যক্তি ও সংগঠনকে সংশোধনের চেষ্টা থাকলে মঞ্জিলে পৌছার ক্ষেত্রে আরও সহজ হয়। আবার আন্দোলনের সমালোচক কর্মীরা আন্দোলন নিয়ে আশান্বিত হয়। তারা আন্দোলন নিয়ে নতুন করে কাজ করার অনুপ্রেরণা পায়। নেতৃত্বের আরও একটি বড় গুণ হল কথা বলার চেয়ে কথা বেশী করে শোনা। শুধু মাত্র সমালোচনার দৃষ্টি আকর্ষণের বিষয়গুলো নিজেদের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শত্রু মহলের সমালোচনাকেও খতিয়ে দেখা। কোন এক বিজ্ঞজন যথার্থই বলেছিলেন “মূর্খ্য বন্ধুর চাইতে র্ধূত শত্রু অনেক শ্রেয়” । স্বভাবজাত দৃষ্টি থেকে মানুষ মনে করে সে যা বলে তাই যথার্থ। সেটি অসত্য হলেও তা সত্য হিসাবে রুপ দেয়ার জন্য সব ধরণের কলাকৌশল অবলম্বন করে। মিথ্যার আশ্রয় নেয়। ইনিয়ে বিনিয়ে শেষ অবধি যুক্তিতর্ক চালিয়ে যায়। এ ধরণের পরিবেশ যেখানে বিরাজ করবে সেখানে সত্যকে জীবনের পাথেয় হিসাবে গ্রহন করার প্রত্যাশা করা দুরহ ব্যাপার। তবে এ বিপ্লবের সর্বস্তরের ব্যক্তিরা যদি যে কোন প্রতিকুল পরিবেশেও সত্যাশ্রয়ী হয় তাহলে তাদের কাছে সমায়ান্তরে মিথ্যা পরাজয় বরণ করে।

(ড) আশার শিহরণ জাগ্রত করাঃ চারিদিকে মিথ্যার আস্তরনের কালো মেঘে যখন লক্ষ্যভ্রষ্ট দিকবিদিক ছুটছে মানবতা, বিশ্বাসের ইমারতগুলো যখন ভেঙ্গে খান খান, আশার প্রদ্রীপ নিভু নিভু, মিথ্যার প্রেতাত্নারা নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হয়ে বিভৎস চেহারায় সবকিছুকে করায়ত্ব করতে চায় তখন সত্যপন্থীদের দুর্বার দুঃসাহসিকতা নিয়ে সম্মুখপানে এগিয়ে চলা এক ইস্পাতকঠিন দুরহ কাজ। কিন্তু যারা সমাজের সকল আবর্জনাকে ধুয়ে মুছে সুগন্ধিময় করতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায় তাদের সম্মুখে সাগরের ভয়ঙ্কর উত্তাল জলরাশি, হিমালয়ের উতুঙ্গশীর্ষে আরোহন ও বাতাসের প্রচন্ড তোড়ে ঠায় সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়া খুব মামুলি ব্যাপার অনুভুত হয়। রাসুল (সঃ) এর সাহাবীরা যেভাবে আরবের জাহেলিয়াতে পরিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থাকে মুলৎপাটন করে নতুন সমাজব্যবস্থা গঠন করেছিলেন। প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে যেকোন ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দুঃসাহসিক নাবিক হওয়ার মত হিম্মতের বারুদ রপ্ত করতে হবে। যা দেখে হতবাক হবে বিশ্ববাসী, যাদের কাছে বুকভরা আশা নিয়ে প্রত্যাশা করবে শোষিত-বঞ্চিত মানবতা, থাকবেনা হতাশার লেশমাত্র চিহৃ, জাগ্রত হবে আশার শিহরণ।
চলবে..............

লেখক:
Abdul Zabbar
Secretary General
BANGLADESH ISLAMI CHHATRASHIBIR

সংগ্রহ

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৩

ভারতের নীল নকশায় ধ্বংস হচ্ছে গার্মেন্টস সেক্টর....

শ্রমিক নামধারী কিছু অপরিচিত দুষ্কৃতকারীদের আগুনে প্রায় ১২শ' কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টস কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

গতকাল বিজিএমইএ ভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কারখানাটিতে কমপ্লায়েন্টের (কর্মপরিবেশের) কোন ত্রুটি ছিল না। শ্রম আইনের বাইরেও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। কিন্তু কী পেলাম? চোখের সামনে আমার ১২শ' কোটি টাকার সম্পদ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে সর্বস্বান্ত করে দেয়া হয়েছে। আপনারা আমাকে বাঁচান। এর বিচার করুন। এ কথা বলে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন মোশাররফ হোসেন।

বৃহস্পতিবার রাতে শ্রমিক হত্যার গুজব ছড়িয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে অবস্থিত ১০ তলা গার্মেন্টস ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় শ্রমিকরা। রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৩০ ট্রাক মালসহ পুড়ে যায় ৯টি কাভার্ডভ্যান। পুড়ে কঙ্কাল হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে কারখানা ভবন।

এবার ভাবুনতো, যে গার্মেন্টস এ কর্মচারীরা ঠিকমতো বেতন বোনাস সহ সকল সুবিধা ভোগ করেন, সেই গার্মেন্টস এ কারা কেন আগুন দিল....????
নিশ্চয়ই অবরোধ কারীরা গার্মেন্টস এ আগুন দিতে যায়নি.....তাহলে কারা...?

ঠিক একই রকম রহস্যজনকভাবে গতবছর তাজরীন গার্মেন্টস এ কিছু অপরিচিত মানুষ আগুন দেয়...
কারা এই অপরিচিত মানুষ.....???
বুঝতে কি খুব কষ্ট হচ্ছে....?


বুঝতে কষ্ট হলে নিজেকে প্রশ্ন করুন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস হলে কাদের সুবিধা হয়....???
উত্তর একটাই, আমাদের চিরশত্রু “ইন্ডিয়া....”
’৭১ এ পাকি হানাদারদের আমরা হারিয়েছি, এবার কি এই রেন্ডির বাচ্চাদের হারাতে পারবো না....???



রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

কারা বাসে আগুন দেয় ?

 কারা বাসে আগুন দেয়?

জানতে হলে পুরো প্রতিবেনটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন..............হরতাল, অবরোধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গত এক বছরে সারা দেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ৩২টি বাস ও দুটি ট্রাকে আগুন দেয়া হয়। এগুলোর বেশির ভাগই পোড়ানো হয় সংস্থাটির নিজস্ব ডিপোতেই। এছাড়া ভিন্ন রুটে চালাতে গিয়েও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিআরটিসির নিজস্ব শ্রমিক-কর্মীদের সহায়তা ছাড়া অগ্নিসংযোগের এসব ঘটনা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এর প্রমাণও মিলছে। এজন্য বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত শুরু করছে বিআরটিসি।

বিআরটিসির তথ্যমতে, গত ২৯ অক্টোবর হরতালের আগের দিন গভীর রাতে গাবতলী বাস ডিপোয় একটি দ্বিতল বাসে আগুন দেয়া হয়। ক্রমে তা ছয়টি বাসে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুটি দ্বিতল বাস পুরোপুরি পুড়ে যায়। অন্য চারটি বাসও বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়। এ সময় ডিপোয় শ্রমিক-কর্মীরা বাস মেরামতের দায়িত্বে থাকলেও কেউ আগুন নেভানোর চেষ্টা করেননি।
বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিআরটিসির বাসে আগুন দেয়া অবশ্যই পূর্বপরিকল্পিত। এর সঙ্গে সংস্থার কর্মীরা জড়িত থাকতে পারেন। কারণ গাবতলী ডিপোর দেয়াল বেশ উঁচু। ওই দেয়াল টপকে ডিপোয় ঢুকে সাধারণ মানুষের পক্ষে বাসে আগুন দেয়া সম্ভব নয়। আর বাইরে থেকে বোমা ছুড়ে পরিকল্পিতভাবে এসব বাসে আগুন লাগানোও সম্ভব নয়।
এ প্রসঙ্গে বিআরটিসির পরিচালক (কারিগরি) কর্নেল মো. আবদুল্লাহিল করিম বলেন, গাবতলী ডিপোয় সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে বিআরটিসির কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশও একই ধরনের কথা জানায়। এজন্য বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিআরটিসির কর্মীরা জড়িত থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কমলাপুর ডিপো থেকে ঢাকা-নরসিংদী রুটে চলা একটি একতলা (চীনা) বাস হঠাৎ ৭ নভেম্বর রাজধানীর আজিমপুর আনা হয়। বাসটি ঘোরানোর জন্য প্রধান সড়ক ছেড়ে আজিমপুর কবরস্থানের কাছে সরু সড়কে নেয়া হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা এতে আগুন দেয়। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে বিআরটিসিকে অবহিত করে পুলিশ। চালক পলাতক থাকায় ঘটনাটির তদন্ত সম্পন্ন করতে পারেনি বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কাছে একটি দ্বিতল বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হলে তাতে আগুন দেয়া হয়। বাসটি খালি ছিল। বাসস্ট্যান্ড না হওয়ায় ওই স্থানে কোনো যাত্রী ওঠানামা করছিল না বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানান। এছাড়া চালক ও হেলপার বাসটির আগুন নেভানোর কোনো চেষ্টা করেননি। ফলে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই বাসটি পুরোপুরি পুড়ে যায়।
নভেম্বরের শুরুর দিকে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ইজারা দেয়া পুরনো দ্বিতল বাসে আগুন দেয়া হয়। এছাড়া গত ২৯ নভেম্বর মিরপুর বাঙ্লা কলেজের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা অন্য একটি পুরনো দ্বিতল বাসে আগুন দেয়া হয়। কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াই বাস দুটিতে আগুন দেয়াকেও পরিকল্পিত নাশকতা বলে মনে করছে বিআরটিসি।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে জোয়ারসাহারা ডিপোয় নতুন একটি দ্বিতল বাস আগুনে পুড়ে যায়। ওই মাসে রংপুর ডিপোয় নতুন একটি দ্বিতল ও একটি পুরনো একতলা বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বাস দুটি পুড়ে অচল হয়ে যায়। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে দুটি বাস আগুনে পুড়ে অচল হয়ে যায়। প্রতিটি ঘটনাই দিনের বেলায় ও বিআরটিসির ডিপোর ভেতরে ঘটে। বাইরে থেকে এসে হঠাৎ দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে বাসগুলো পুড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ডিপো ম্যানেজাররা জানালেও সে যুক্তি গ্রহণ করেনি বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, বিআরটিসি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা তদন্ত কারা বাসে আগুন দেয়শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির শ্রমিক-কর্মীরা জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহ করা হলেও তারা কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে বিআরটিসি। এছাড়া সংস্থাটির বিভিন্ন ডিপো ম্যানেজারকে সম্প্রতি রদবদল করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচির দিনগুলোয় ভারত থেকে কেনা নতুন বাস ও কোরিয়া থেকে কেনা এসি ও নন-এসি বাস বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিআরটিসির পরিচালক (অপারেশন) নিখিল রঞ্জন রায় বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে নতুন বাস কেনা হলেও নতুন জনবল নিয়োগ করা হয়নি। বেশির ভাগ বাসই দৈনিক মজুরিভিত্তিক অস্থায়ী চালক ও হেলপার দিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে নাশকতার ঘটনার সঙ্গে বিআরটিসির কর্মীরা জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে বিআরটিসির কর্মী জড়িত নাও থাকতে পারে। পাশাপাশি এসব ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আমি মনে হয় একাই ভাবছি যে , বাংলাদেশের মতো ২২ এর অধিক দেশ নিয়ে গঠিত ভারত কি করে উন্নয়নশীল দেশ হলো ? আমরা কি তাদের চেয়েও দুর্নীতিগ্রস্ত ? আমরা কি তাদের চেয়েও হিংস্র , আমরা কি তাদের চেয়েও সাম্প্রদায়িক ?



এই প্রশ্ন ততদিন আমার কাছে ধাঁধা হয়েছিলো যতদিন আমি ভাল কোন ইন্ডিয়ানের সাথে আলাপ করতে পারিনি । কিন্তু বিষয়টা আমাকে ক্লিয়ার করেছেন এক ভারতীয় লোক ।
যাদের জাতীয় সংসদ( বিধানসভা) এ সরাসরি কাল টাকা নিয়ে কাড়াকাড়ি হয় । সরাসরি সরকারী দল বিরোধী দলকে কিনে ।

তাদের চেয়ে আমরা কি সভ্য নই ?

শুধু দিল্লী , বোম্বে , কলকাতা , হায়দ্রাবাদ , ব্যাঙ্গালোর নিয়েই কিন্তু ভারত নয় । যেই দেশের এমন রাজ্য আছে যেখানের মানুষ গুলো নিজেদেরকে দুনিয়ার বাহিরের কোন দেশ বলে মনে করে ।যাদের কোন মৌলিক অধিকার নেই । যাদের কোন খাবার নেই , পরনের জন্য কাপড় নেই , শিক্ষা - চিকিৎসা তো অনেক দূরের কথা ।

ইউপি , বিহার সহ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার মানুষ এখনও দিনে ১ বেলা খেতে পারেন এমন পরিবার খুব কমই আছে । এমন কিছু রাজ্য আছে যেখানে মানুষ না খেয়ে , না পরে মরে যাচ্ছে । চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ লোককে জঙ্গলে পেলে দেয়া হচ্ছে ।
এমন রাজ্য আছে যেখানে বিদ্যুৎ কি জিনিস টাও তারা জানে না । টিভি কাকে বলে এটা খায় না মাথায় দেয় তাতেও তারা অজ্ঞ ।


ইন্ডিয়ার সরকার তাদেরকে ইন্ডিয়ান বলে স্বীকৃতি দিলেও তাদের জন্য কোন নাগরিক সুবিধা রাখেন নি , ওই রাজ্য গুলোতে কখনো কোন মিডিয়া কর্মীকে / কোন পর্যটককে যেতে দেয়া হয় না । ওই রাজ্যগুলোকে শোষণ করেই মূলত ইন্ডিয়া চলে ।
অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে , তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে ।
হ্যাঁ ভাই আমরাও যদি শুধু ঢাকা , চট্টগ্রাম সহ বিভাগীয় শহরেই যদি উন্নয়নের চিন্তা করি , বাজেট বরাদ্ধ করি , সারা দেশের কথা ভুলে যাই তবে আমরা ভারত কেন জাপানের চেয়েও উন্নত রাষ্ট্র ।

আমার কলিগ ইণ্ডিয়ান হওয়াতে আমি ঈন্ডিয়া সম্পর্কে , তাদের ভোগলিক অবস্থান , তাদের অর্থনীতি , রাজনীতি জানার চেষ্টা করি , এবং জানতে পারি আমার কলিগ নিজেই একজন হিন্দু , হিন্দু হলেও তার অবস্থান খুবই খারাপ , কারন সে ইউপি অধিবাসী । যেখানে মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ায় সরকারী কোন বরাদ্ধ যায় না । তার কথা হিসেবে সে প্রবাসে আসার আগে এমন দিন অতিবাহিত করেছে যে , এমনও দিন গেছে তার চুলা জ্বলে নি । তার মা-বাবার জন্য একমুটো খাবার জোগাড় করতে পারে নি । বেকার হয়ে না খেয়ে নিজেকে অভিশাপ ভাবতে শুরু করেছিলো । এলাকায় সাম্প্রদায়িক গন্ডগোলের সময় শহরে চলে আসে এবং একটা হোটেলে কাজ নেয় ,

একদিন খবর পেল বিদেশে শ্রমিক নেয়া হচ্ছে বিনে পয়সায় ( ভারতে এখনও ভিসা খোলা রয়েছে ) , আরেক বন্দ্ধুর সাথে গিয়ে ইন্টার্ভিউতে টিকে যায় এবং বরতমানে সে প্রবাসে আছে ।

তার মতে , তারই চোখের সামনে হাজার হাজার লোককে সে দেখেছে না খেয়ে মারা যেতে ।

যাই হোক ভারতের কি আছে কি নেই তাতে আমাদের কিছুই যায় আসে না , কিন্তু তারা আমাদেরকে ইউজ করতে চাইলে , আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে , আমরা কেন তা মেনে নেব ?

আমাদের দেশের কিছু দালাল তাদের হয়ে দেশ বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে । ট্রানজিটের নামে নদীর উপরে বাঁধ , ভারতের সুরক্ষার জন্য নিজেদের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিলুপ্ত করা সহ দেশ বিরোধী হাজারও কাজ করে যাচ্ছে । আর এর প্রতিবাদ করলেই তাকে রাজাকার উপাধি দিয়ে জেলে প্রেরন করছে ।

ভারতের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমি হাজারবার রাজাকার হতে রাজি আছি কিন্তু দালালদের কাছে মাথা নোয়াবো না ।

আমরা দালাল মুক্ত বাংলাদেশ চাই ।

বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৩

মিশরের ইসলাম পন্থি দল এবং ইসরাইলী ষড়যন্ত্র .

মিশরের ইসলাম পন্থি দল এবং ইসরাইলী ষড়যন্ত্র .















নীলনদের এই তীরে ইসলামী জাগরণের ইতিহাস ঐতির্য্য এমনভাবে ধারন করা আছে যে , কেউ ইচ্ছে করলে সেই ইতিহাস মুছে দিতে পারবেনা । আল্লাহ সুবাহানাহু ওতাআ’লা যেই ভূখণ্ডকে
কবুল করেছেন ইসলামের বুনিয়াদ হিসেবে সাধ্য কার তা বিলিন করার ।

 হযরত দাউদ (আ) , হযরত ইউছুফ (আ) ,হযরত মুসা (আ) এর মিশর এখনো সাক্ষী হয়ে আছে ইসলামের বুনিয়াদের ইতিহাসকে ঘিরে !
 ফেরাউন থেকে শুরু করে অধ্যাব্দি শত শত ফেরাউনরা আল্লাহর রশ্মিকে মিশরের বুক থেকে মুছে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে বহুকাল থেকে । বারবার পরাজিত হওয়া শর্তেও ফেরাউনদের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি / হচ্ছে না । 

আল্লাহর রাসুল (সা) এড় চিঠি এখনো মিশরের ইসলামী জাগরণের সাক্ষী । অনেক নবী রাসুল জন্ম নিয়েছেন এই মিশরে । দাওয়াত দিয়েছেন আল্লাহর একত্ববাদের । উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে অনেকেই এই দাওয়াতী কাজকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন এবং করছেন । অনেককেই শহীদ হতে হয়েছে দাওয়াতী কাজের আঞ্জাম দিতে গিয়ে । আজও শহীদ হচ্ছে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে ।

তারই ধারাবাহিকতায় এই মরুর বুকে উম্মতে মুহাম্মদীর এক বলিষ্ঠ দায়ী জন্ম নিয়েছেন ১৯০৬ সালের ১৪ই অক্টোবর । সাইয়েদ কুতুব হাসান আল বান্না নামের সেই দায়ী শত সহস্র নির্যাতন এবং অপমান সহ্য করে ইসলামের আলোকে প্রজ্বলিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন । কিন্তু ইসলামের দুষমনদের ষড়যন্ত্রের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হয়ে বার বার জেল-জুলুম-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন । তথাপি তিনি বিরত হননি ইসলামের আদর্শের দাওয়াত থেকে । তিনি জনগনের কাছে একটি বার্তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন , ইসলামের অনুশাসনই একমাত্র মুক্তির পথ । পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রভাবে কিভাবে মিশরের সমাজ ক্রমশ ভোগের দিকে ঝুঁকে পড়ছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন । ১৯২৮ সালে ৬ জন ইসলামী ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায় হাসানুল বান্না (রহ: ) গঠন করেন “ইখওয়ানুল মুসলিমিন” সংগঠনটি । আর সেই সংগঠনের আমির নির্বাচিত হন স্বয়ং হাসানুল বান্না (রহ: )। সংগঠনটিকে সামাজিক ভিত্তি দিতে পুরো মিশর জুড়ে তিনি একইসঙ্গে সমাজকল্যাণ এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। মিশরের প্রতিটি শহরে গড়ে ওঠে শাখা সংগঠন। দ্বীন ইসলামকে সবার নিকট উপস্হাপনের জন্য হাসানুল বান্না (রহ: ) মহিলাদেরকে নিয়ে আখওয়াত আল মুসলিমাত নামক সংগঠন গড়ে তোলেন । ইসলামের আদর্শ পৌঁছে যায় জনসাধারণের দোরগোড়ায় । সাধারণ জনগন ইসলামের আদর্শকে আলিঙ্গন করতে শুরু করে  ।

আর এতেই আরও ক্ষ্রীপ্ত হয়ে ওঠে জালিমের হাতিয়ার । এদিকে আরবের মাটিতে জন্ম নেয় ইহুদীবাদের ! ইসরায়েল নামের এক শয়তানের দোসরের । হাত মিলাতে শুরু করে জালিম , মুনাফেকরা । মিশরের ইসলামী জাগরণকে রুখতে গিয়ে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ১৯৪৯ সালের ১২ ফ্রেব্রুয়ারী ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে এই ইসলামিক ব্যাক্তিত্ব সাইয়েদ কুতুব হাসান আল বান্নাকে শহীদ করার মাধ্যমে ইসলামের আলোকে নিবিয়ে দিতে চেয়েছিলো ।
কিন্তু ইসলাম কবুল করার মালিক আল্লাহ ।
 আল্লাহ মিশরের মাটিকে ইসলামের জন্য কবুল করে নিয়েছেন । প্রায় ৫৩ বছর পর ইসলামী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড মিশরের রাজনিতিতে ভুমিকা রাখতে শুরু করে । শুরু হয় আন্দোলন , একের পর এক পরাজিত হতে থাকে বাতিলের মসনদ ।
অবশেষে ২০১০ সালের ২৫ এ জানুয়ারী সংগঠিত হয় এক নতুন ইতিহাস । মিশরের আকাশের ধর্মনিরপেক্ষতার সূর্য অস্তমিত হতে শুরু করে । এবং ইসলামী আদর্শ বুকে ধারন করে মিশরের আকাশে কালিমার পতাকা উত্তোলন করেন একদল উদ্দীপ্ত নওজোয়ান । শুরু করার ইচ্ছা পোষণ করেন আরবে ইসলামী বিপ্লব । পৌঁছে দিতে চেয়েছেন দুনিয়াব্যাপি ইসলামের বার্তা ! সকল জালিমদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন অন্যায় এবং অবিচার বন্ধ করার আহ্বানের মাধ্যমে । 
কিন্তু জালিমরা বসে থাকেনি , তাঁরা শুরু করেন নতুন ষড়যন্ত্র । যাতে সাথী হিসেবে আরবের কিছু ক্ষমতালোভী রাষ্ট্রনায়ক এবং মুনাফেক  ।
যাদের মূলে থাকে ইসরায়েল নামের সেই জালেমরা  । অর্থ এবং বিভিন্ন লোভনীয় শর্তে কিনে নেয়  ইসলামের নামধারী  মুনাফেকদের । 

শুরু করে ষড়যন্ত্রের পর ষড়যন্ত্র। গনতান্ত্রিক পন্থায় জনগনের ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রনায়ককে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য হাজার হাজার ডলার ব্যয় করার মিশন নিয়ে মাঠে নামে ইস্রায়েল  । তাদের একটাই ভয় যদি সত্যি সত্যি মিশরে ইসলাম কায়েম হয়ে যায় তবে , মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কোন ক্ষমতাই থাকবে না । ধূলিসাৎ হয়ে যেতে হতে পারে যেকোন সময় ! মুসলিমদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে ইহুদী বিনাস করতে শুরু করে দিতে পারে । আর তাই মিশরকে টার্গেট করে ইতিহাস পরিবর্তন করতে চাইছে ইস্রায়েল । যাতে ইসলামী দলকে মিশরের মানুষের কাছে অগ্রহণ যোগ্য করে তুলতে পারে ।
কিছু অর্থলোভী কাপুরুষ এতে সাড়াও দিয়েছে । আর তাতেই ইস্রায়েলিরা  মিশরের বিরুদ্ধে শুরু করেছে বিশ্বব্যাপি প্রচারনা ।

কিন্তু লক্ষ লক্ষ ইসলাম প্রিয় তাওহিদি জনতা নিজের জীবন দিয়ে হলেও সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় প্রস্তুত হয়ে গেছে । বজ্রকন্ঠে আওয়াজ আসছে , আমরা জীবন দেবো কিন্তু ইসলামকে ভুলন্ঠিত হতে দেবো না ।
 আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করবো ,  না হয় হাসি মুখে মরবো । বাতিলের কাছে মাথা নত করবো না ।