মিশরের ইসলাম পন্থি দল এবং ইসরাইলী ষড়যন্ত্র .নীলনদের এই তীরে ইসলামী জাগরণের ইতিহাস ঐতির্য্য এমনভাবে ধারন করা আছে যে , কেউ ইচ্ছে করলে সেই ইতিহাস মুছে দিতে পারবেনা । আল্লাহ সুবাহানাহু ওতাআ’লা যেই ভূখণ্ডকে
কবুল করেছেন ইসলামের বুনিয়াদ হিসেবে সাধ্য কার তা বিলিন করার ।
হযরত দাউদ (আ) , হযরত ইউছুফ (আ) ,হযরত মুসা (আ) এর মিশর এখনো সাক্ষী হয়ে আছে ইসলামের বুনিয়াদের ইতিহাসকে ঘিরে !
ফেরাউন থেকে শুরু করে অধ্যাব্দি শত শত ফেরাউনরা আল্লাহর রশ্মিকে মিশরের বুক থেকে মুছে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে বহুকাল থেকে । বারবার পরাজিত হওয়া শর্তেও ফেরাউনদের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি / হচ্ছে না ।
আল্লাহর রাসুল (সা) এড় চিঠি এখনো মিশরের ইসলামী জাগরণের সাক্ষী । অনেক নবী রাসুল জন্ম নিয়েছেন এই মিশরে । দাওয়াত দিয়েছেন আল্লাহর একত্ববাদের । উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে অনেকেই এই দাওয়াতী কাজকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন এবং করছেন । অনেককেই শহীদ হতে হয়েছে দাওয়াতী কাজের আঞ্জাম দিতে গিয়ে । আজও শহীদ হচ্ছে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে ।
তারই ধারাবাহিকতায় এই মরুর বুকে উম্মতে মুহাম্মদীর এক বলিষ্ঠ দায়ী জন্ম নিয়েছেন ১৯০৬ সালের ১৪ই অক্টোবর । সাইয়েদ কুতুব হাসান আল বান্না নামের সেই দায়ী শত সহস্র নির্যাতন এবং অপমান সহ্য করে ইসলামের আলোকে প্রজ্বলিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন । কিন্তু ইসলামের দুষমনদের ষড়যন্ত্রের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হয়ে বার বার জেল-জুলুম-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন । তথাপি তিনি বিরত হননি ইসলামের আদর্শের দাওয়াত থেকে । তিনি জনগনের কাছে একটি বার্তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন , ইসলামের অনুশাসনই একমাত্র মুক্তির পথ । পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রভাবে কিভাবে মিশরের সমাজ ক্রমশ ভোগের দিকে ঝুঁকে পড়ছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন । ১৯২৮ সালে ৬ জন ইসলামী ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায় হাসানুল বান্না (রহ: ) গঠন করেন “ইখওয়ানুল মুসলিমিন” সংগঠনটি । আর সেই সংগঠনের আমির নির্বাচিত হন স্বয়ং হাসানুল বান্না (রহ: )। সংগঠনটিকে সামাজিক ভিত্তি দিতে পুরো মিশর জুড়ে তিনি একইসঙ্গে সমাজকল্যাণ এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। মিশরের প্রতিটি শহরে গড়ে ওঠে শাখা সংগঠন। দ্বীন ইসলামকে সবার নিকট উপস্হাপনের জন্য হাসানুল বান্না (রহ: ) মহিলাদেরকে নিয়ে আখওয়াত আল মুসলিমাত নামক সংগঠন গড়ে তোলেন । ইসলামের আদর্শ পৌঁছে যায় জনসাধারণের দোরগোড়ায় । সাধারণ জনগন ইসলামের আদর্শকে আলিঙ্গন করতে শুরু করে ।
আর এতেই আরও ক্ষ্রীপ্ত হয়ে ওঠে জালিমের হাতিয়ার । এদিকে আরবের মাটিতে জন্ম নেয় ইহুদীবাদের ! ইসরায়েল নামের এক শয়তানের দোসরের । হাত মিলাতে শুরু করে জালিম , মুনাফেকরা । মিশরের ইসলামী জাগরণকে রুখতে গিয়ে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ১৯৪৯ সালের ১২ ফ্রেব্রুয়ারী ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে এই ইসলামিক ব্যাক্তিত্ব সাইয়েদ কুতুব হাসান আল বান্নাকে শহীদ করার মাধ্যমে ইসলামের আলোকে নিবিয়ে দিতে চেয়েছিলো ।
কিন্তু ইসলাম কবুল করার মালিক আল্লাহ ।
আল্লাহ মিশরের মাটিকে ইসলামের জন্য কবুল করে নিয়েছেন । প্রায় ৫৩ বছর পর ইসলামী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড মিশরের রাজনিতিতে ভুমিকা রাখতে শুরু করে । শুরু হয় আন্দোলন , একের পর এক পরাজিত হতে থাকে বাতিলের মসনদ ।
অবশেষে ২০১০ সালের ২৫ এ জানুয়ারী সংগঠিত হয় এক নতুন ইতিহাস । মিশরের আকাশের ধর্মনিরপেক্ষতার সূর্য অস্তমিত হতে শুরু করে । এবং ইসলামী আদর্শ বুকে ধারন করে মিশরের আকাশে কালিমার পতাকা উত্তোলন করেন একদল উদ্দীপ্ত নওজোয়ান । শুরু করার ইচ্ছা পোষণ করেন আরবে ইসলামী বিপ্লব । পৌঁছে দিতে চেয়েছেন দুনিয়াব্যাপি ইসলামের বার্তা ! সকল জালিমদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন অন্যায় এবং অবিচার বন্ধ করার আহ্বানের মাধ্যমে ।
কিন্তু জালিমরা বসে থাকেনি , তাঁরা শুরু করেন নতুন ষড়যন্ত্র । যাতে সাথী হিসেবে আরবের কিছু ক্ষমতালোভী রাষ্ট্রনায়ক এবং মুনাফেক ।
যাদের মূলে থাকে ইসরায়েল নামের সেই জালেমরা । অর্থ এবং বিভিন্ন লোভনীয় শর্তে কিনে নেয় ইসলামের নামধারী মুনাফেকদের ।
শুরু করে ষড়যন্ত্রের পর ষড়যন্ত্র। গনতান্ত্রিক পন্থায় জনগনের ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রনায়ককে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য হাজার হাজার ডলার ব্যয় করার মিশন নিয়ে মাঠে নামে ইস্রায়েল । তাদের একটাই ভয় যদি সত্যি সত্যি মিশরে ইসলাম কায়েম হয়ে যায় তবে , মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কোন ক্ষমতাই থাকবে না । ধূলিসাৎ হয়ে যেতে হতে পারে যেকোন সময় ! মুসলিমদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে ইহুদী বিনাস করতে শুরু করে দিতে পারে । আর তাই মিশরকে টার্গেট করে ইতিহাস পরিবর্তন করতে চাইছে ইস্রায়েল । যাতে ইসলামী দলকে মিশরের মানুষের কাছে অগ্রহণ যোগ্য করে তুলতে পারে ।
কিছু অর্থলোভী কাপুরুষ এতে সাড়াও দিয়েছে । আর তাতেই ইস্রায়েলিরা মিশরের বিরুদ্ধে শুরু করেছে বিশ্বব্যাপি প্রচারনা ।
কিন্তু লক্ষ লক্ষ ইসলাম প্রিয় তাওহিদি জনতা নিজের জীবন দিয়ে হলেও সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় প্রস্তুত হয়ে গেছে । বজ্রকন্ঠে আওয়াজ আসছে , আমরা জীবন দেবো কিন্তু ইসলামকে ভুলন্ঠিত হতে দেবো না ।
আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করবো , না হয় হাসি মুখে মরবো । বাতিলের কাছে মাথা নত করবো না ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন