বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১২

ট্রাইব্যুনাল



১। শাক্ষি হাজিরের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পক্ষকে নয় মাস সময় দেয়া আর সাঈদীর পক্ষকে মাত্র একমাস পাঁচদিন সময় দেয়া
২। সতের বার রাষ্ট্র পক্ষের শাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ হওয়ার পরেওতাদের বিরুদ্ধে কোন রুল জারি না করা আর মাত্র দ্বীতিয় বারের মাথায় একাধিক শাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ হওয়ায় সাঈদী পক্ষের বিরুদ্ধে "শাক্ষী গ্রহন সমাপ্ত" করে দেয়া মর্মে রুল জারি করা।
৩। রায় ঘোষিত হওয়ার
আগেই ট্রাইব্যুনালের বিচারক কর্তৃক"ফাঁশি" দিয়ে দেয়ার হুমকী দেয়া
৪। রাষ্ট্র পক্ষের শাক্ষীদেরকে সেইফ হাউজ পর্যন্ত এনেও আদালতে হাজির না করেই তাদের জবান বন্দীকে শাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করা।
৫। রাষ্ট্র পক্ষের শাক্ষীদেরকে সেইফ হাউজে হাজির করা হয়েছে সেটা প্রমান সহ আদালতে দাখিল করার পরেও আদালতের সে ব্যপারে কোন পদক্ষেপ না নেয়া। বরঙ বিভিন্ন অযুহাত দিয়ে সেই তথ্য-প্রমান গ্রহন না করা
৬। যাদের জবান বন্দী রাষ্ট্র পক্ষের জন্য শাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে তাদেরই দুইজন সাঈদীর পক্ষে শাক্ষ্য দিতে এলে একজনকে শাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন না করা এবং রাষ্ট্রীয় আইন-শৃংখলা বাহীনি দ্বারা তাঁকে গুম করা।
৮। ৬নং এ বর্নিত কারনে আদালত বর্জন করায় আসামী পক্ষের অত্যন্তগুরুত্বপুর্ন আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনাল ১ এ প্রবেশাধিকার রহিত করা এবং সেই রহিতাদেশের মেয়াদ উর্তীর্ন হওয়ার পরে কোন কারন ছাড়াই সে আদেশনতুন মেয়াদে দীর্ঘায়ীত করা। এবং তাজুলকে শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল ১ যুক্তি তর্ক উপস্থাপনের সময়ে আসার সুযোগ হরন করা।
৯। হরতালের কারনে সাঈদী পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত হতে নাপারায় যুক্তি তর্ক উপস্থাপন মুলতবী না করে আসামী পক্ষের আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতেই সরকারপক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহন করে তাদেরকে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ করে দেয়া।
১০। রাষ্ট্র পক্ষের শাক্ষীদের অসংলগ্ন শাক্ষ্য
১১। মামলাগুলোর সময়, কাল ও শংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যকার চরম অযৌক্তিকতা ও অসংলগ্ননতা
১২। কিছু কিছু মামলার রক্তের আত্মীয়দের শাক্ষ্যদিতে না আসা। (জাফর ইকবাল ও তার মা)
শুধু আমার চোখেই এপর্যন্ত এই অসঙ্গতী গুলো ধরা পড়েছে। এগুলোর যে কোন একটি কে বিবেচনা করলেই এই মামলা গুলোর উপর সম্পুর্ন অনাস্থা আনা যায়। ট্রাইবুনালের পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট হয়ে আছে এগুলোতে। আর যুদ্ধাপরাধ আইনের অসঙ্গতী এবং এর আওন্তর্যাতিক মানের করুন অবস্থাতো বলাই হল না। তাছাড়া কিছু কিছু পয়েন্ট উল্যেখ করতে গেলে বড় বড় ব্যক্ষা বিশ্লেষন দিতে হতো যা এখানে সম্ভব না। তাছাড়া পাঠকরাও বড় লেখা পড়েন না।
এত কিছুর পরে একজন মুর্খও এই মামলার ন্যায়-নিষ্ঠ রায় আন্দাজ করতে পারবেন। তাই আমরা আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছি। আশাকরি তারা পাড়া-মহল্লার বিচার-আচারের মতো নীচুতে নামবেন না। আমাদের দেশের আইনের প্রতি যে আস্থা আছে তা অক্ষুন্য থাকবে কি থাকবেনা তা এখন নির্ভর করছে ঐ বিজ্ঞ বিচারকদের উপর। যদিও আশা আমাদের অনেক কম। কারন বিজ্ঞ বিচারকদের ব্যপারেও দলীয় আনুগত্যের অভিযোগ রয়েছে। তার পরেও ঐ ক্ষীন আশার আলোকেই আমরা শেষ পর্যন্ত আঁতশী কাঁচ দিয়ে বড় করে দেখছি ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন