শনিবার, ১৮ মে, ২০১৩

তার কথার চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে যে, মানুষ কে আল্লাহর পথে ডাকে , নেক আমল করে এবং ঘোষণা করে আমি মুসলমানের অন্তর্ভুক্ত । সুরা হা মীম আয়াত ৩৩ ।



স্কুলের পাঠ্যবই এবং ইসলামের ইতিহাস পড়ে জেনেছি , কোরআন হাদিস থেকে জেনেছি যে , রাসুল(সা) ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করেছিলেন । অনেকেই শহীদ হয়েছিলেন জিহাদরত অবস্থায় ।কিন্তু জিহাদের ময়দান থেকে ফিরে যাননি।  যুগে যুগে আরও অনেক জিহাদ হয়েছিলো পৃথিবীতে কিন্তু কখনো স্বচোখে দেখিনি / অংশগ্রহণ করিনি জিহাদে ।


স্কুলের পাঠ্যবই এবং ইসলামের ইতিহাস পড়ে জেনেছি , কোরআন হাদিস থেকে জেনেছি যে , রাসুল(সা) ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করেছিলেন । অনেকেই শহীদ হয়েছিলেন জিহাদরত অবস্থায় ।কিন্তু জিহাদের ময়দান থেকে ফিরে যাননি।  যুগে যুগে আরও অনেক জিহাদ হয়েছিলো পৃথিবীতে কিন্তু কখনো স্বচোখে দেখিনি / অংশগ্রহণ করিনি জিহাদে ।

তবে টিভিতে দেখেছি ফিলিস্তিন , কাশ্মীর , চেচনিয়া, বজনিয়া এর জিহাদ ! দেখেছি রাইফেলের বুলেটের প্রতিবাদে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেও কিভাবে জিহাদ করা যায় ! দেখেছি জিহাদ করতে করতে হাসি মুখে  কিভাবে শহীদ হতে হয়   দেখেছি গণহত্যা চালিয়েও মুজাহিদদের রাজপথ থেকে একবিন্দুও নামাতে না পারার প্রত্যয় ।  

কিন্তু আজ একি দেখছি !!
আমি নিজেই সয়ং জিহাদে লিপ্ত ! আমার বিরুদ্ধেও জালিমরা ঠিক একই কাজ করছে যা
ফিলিস্তিন , কাশ্মীর , চেচনিয়া, বজনিয়া এর জিহাদে শুনেছি । আমি দেখেছি আমার সেই সকল ভাইদেরকে যারা দিনের পর দিন না খেয়ে , রাতের পর রাত না গুমিয়ে , এবাদতে মশগুল থাকলেও সকাল বেলা ঠিকই রাজপথে এসে অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন । আর জালিমের  বুলেটের আঘাতে বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত করছেন রাজপথ ।

আমার সেই শহীদ ভাইদের সংগঠন , আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
 
স্বচোখে বাংলাদেশের জামায়াত- শিবির কে দেখছি সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ এবং আল্লাহর উপর আস্তা উঠানোর প্রতিবাদে এবং ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতির প্রতিবাদে রাজপথে অবস্থান নিতে ।
 তারপর সকল জুলুমবাজের বিরুদ্ধে , সকল প্রকার প্রহসনের বিরুদ্ধে , ইসলাম বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে , বিধর্মী দালালের বিরুদ্ধে ইট-পাথর নিয়ে মোকাবেলা করার হিম্মত এবং হাসি মুখে শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা !
আমি আগে কখনো জামায়াত -শিবিরকে এতো ভাল ভাবে জানার সুযোগ পাইনি অবশ্য এর জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই , সরকার যদি এইভাবে তাঁদের উপর ধর, মার, কাট এর মতো অন্যায় আচরণ না করতো তবে হয়তো জামায়াত শিবিরকে এইভাবে জানার সুযোগ হতো না অথবা আগের মতোই ঘৃনা করতাম ।

ও হ্যাঁ একটা কথা বলতে ভুলেই গেছি , জামায়াত শিবির নাকি যুদ্ধাপরাধী !?
আমিও একসময় মানতাম যে জামায়াত শিবির যুদ্ধাপরাধী কিন্তু বর্তমান সরকারের কিছু আচরণ এবং সৃষ্ঠ কয়েকটা প্রশ্নই আমাকে অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখায় ...
১৯৭১ সালে জামায়াত শিবির নাকি ৩০ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জৎ নষ্ট করেছিলো ? তাই যদি হয় তবে সেই সময় জামায়াত এর সদস্য কতজন ছিলো ? ধরে নিলাম যারা ছিল সবাই ইজ্জৎ নষ্ট করেছে , তাহলে সাধীনতার পর থেকে গত ৪২ বছর এই জামায়াতরা কি পুরুষত্বহীন হয়ে গেলো ? কেন তাঁদের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগও পাওয়া গেলো না ? তারপরও ধরে নিলাম তাঁরা যুদ্ধাপরাধী , তবে ৪২ বছর পর যখন বিচারের আয়োজন করেইছিলো তখন আওয়ামী লীগ সরকারের কি দরকার ছিলো ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার ? মানে বিচারপতি নাসিমকে দিয়ে , স্কাইপি স্কান্ডাল করে পুরো বিচার ব্যাবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ? নাটক করে মানুষের চোখে ধোঁকা দেয়ার মাধ্যমে নির্দোষ কে দোষী বানানোই ছিল এই ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্য ?


সাক্ষীকে গুম করে ভারতে পাচার ,  অর্থাৎ জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমান করতে পারবে না সেটা আওয়ামী লীগও জানতো তাই কি এই নাটকের অবতারণা ? স্কাইপি স্কান্ডলের পরও বিচারের ধারাবাহিকতা রেখে রায় দেয়া কি করে ন্যায় বিচার সম্ভব ?
 মন্ত্রীরা জামায়াত শিবির মোকাবেলায় প্রশাসনের উপর ভরসা না করে সেই ছাত্রলীগ এবং যুবলীগকে কেন আহ্বান করলো ? যেই ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ সারা বাংলায় চাপাতির যনযনানি শুরু করছিলো
কেন বিশ্বজিতকে হত্যা করা  হলো ?
কে তাঁকে হত্যা করলো ?
এর বিচার কি হচ্ছে ? / হবে ?

আওয়ামী লীগের কেউ কেন সাক্ষী দিতে গেলেন না ?
হিন্দুরা কেন সাঈদী সাহেবের পক্ষে সাক্ষী দিতে গিয়ে গুম হচ্ছেন ? আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল বলা হলেও কেন আন্তর্জাতিক ভাবে কোন আইনজীবী রাখা হলো না ?
কেন বিচার পতি নাসিমকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না ?
কেন বিচার চলা কালীন অবস্থায় মন্ত্রী কর্তৃক ফাসির রায় ঘোষণা হচ্ছে ?
কেন সত্য কে আড়াল করতে জ্বোর করে রায় চাপানোর জন্য মিডিয়া কে দূরে রাখা হচ্ছে ?


তাই এইসব প্রশ্নের কারনে
যেই দিন এই ট্রাইব্যুনাল নিয়ে স্কাইপি স্কান্ডাল প্রকাশিত হয় আমি সেইদিন থেকে জামায়াতকে জানার শুরু করি । হতে পারে এটা নির্যাতিতের পক্ষে এক মানবতার দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ ।

যাই হোক , এখন আমার আগ্রহ হচ্ছে জামায়াত শিবিরকে জানার , বুঝার , এবং তাঁদের সাথে চলার । আমি স্যালুট জানাই জামায়াত শিবিরকে , যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে , ইসলাম বিরোধীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে যাচ্ছেন ।
ইসস ... সত্যি আমি যদি তাঁদের দলের হতাম !
আল্লাহর কসম আজ থেকে আর কোনদিন কোন দলে আমি থাকবো না , আমার মৃত্যু না আসা পর্যন্ত আমি জামায়াত শিবিরকেই ভালবেসে যাবো ।
আমার বিশ্বাস যদি কোনদিন এই দেশে জামায়াত শিবির ক্ষমতায় আসে তবে আমি নিশ্চিত আর যাই হোক এই দেশে ইসলাম কায়েম হবে, দেশ এগিয়ে যাবেই
অবশেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করি সেই সকল শহীদদের জন্য যারা আন্দোলনের জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন , আল্লাহ যেন তাদেরকে জান্নাত নসিব করেন । তারপর সেই সকল মদ্দে মুজাহিদদের জন্য দোয়া করি  যারা বীরের মতো সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে আজ আহত অথবা পঙ্গু হয়েছেন আল্লাহ যেন তাদের মনে আশা পুরণ করেন অর্থাৎ আবারো সেই মিছিলে শামিল হওয়ার তৌফিক দান করেন ।
ইয়া আল্লাহ তোমার প্রিয় বান্দাদের সাথে আমাকেও সেই মিছিলে যাওয়ার তৌফিক দিও , যেই মিছিলের নেতা আমির হামযা , খোবায়ের , খাব্বাব। আল্লাহর ছিল যারা অতি প্রিয় , শামিল করে নিও ।  আমিন ।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন